স্বাগতম মাহে রমজান করোনা সম্প্রসারণ রোধ ও সিয়াম সাধনায় সচেতনতা জরুরি

33

২৫ এপ্রিল ২০২০ শনিবার থেকে দেশে মুসলমানদের পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশে বিশ্বের মুসলমান পবিত্র রমজান মাসে রোজা পালন করে থাকে। রমজান মাসে রোজা পালন করা বা সিয়াম সাধনা ইসলাম ধর্মের মৌলিক ফরজ ইবাদতের একটি। দিনের বেলা পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম রোজা। ইসলাম ধর্মে যেসব ইবাদতবন্দেগী পালন করা হয় তার মধ্যে দু’ধরনের ইবাদত রয়েছে ১) শারীরিক ২) আর্থিক। রোজা পালন শারীরি ইবাদতের অন্যতম। নামাজ, হজ্ব, যাকাতসহ অন্যান্য ইবাদাত হতে রোজা বা সিয়াম একটু সতন্ত্র ইবাদাত। এ শারিরীক ইবাদাতের সাধনা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিশ্বস্ততা জনিত। এ কারণে মহান রাব্বুল আলামীন হাদিসে কুদসির মাধ্যমে জানিয়ে দেন- ‘আস্সাওমুলী, আনা আজজি বিহী’- রোজা আমার জন্য তার পুরস্কার আমি নিজ হাতে প্রদান করবো। পবিত্র রজমান মাসে রোজা রাখা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ। ইসলাম ধর্মে যে কয়টি বিশেষায়িত মাস রয়েছে তৎমধ্যে রমজান অন্যতম। এ মাসে মুসলমানেরা রোজা, তারাবিহ, খতমে কোরআন, তসবিহ তাহলিলসহ নানা প্রকার নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অঢেল পুণ্য অর্জন করে থাকে।
এবছর এক বিশেষ সময়ে পবিত্র রমজান মাসের রোজা পালিত হচ্ছে। প্রতিবছর রমজান এলে সমগ্র দেশের মুসলমানদের মধ্যে একটা বাড়তি আবেগের উপস্থিত হতে দেখা যায়। এবছর কোভিড-১৯ তথা করোনা ভাইরাসের কারণে ধর্মীয় ফরজ সুচারু রূপে পালনের মধ্যেও কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে সরকারি ভাবে। বিশেষ করে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও তারাবিহ নামাজ আদায়ে কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে সরকার। সীমাবদ্ধতা আরোপ ছাড়া উপায় নেই সরকারের পক্ষেও। কেননা করোনা ভাইরাস মসজিদে নামাজ আদায়রত মুসল্লিদের ছাড় দেবে না। এ কোভিড-১৯ ভয়াবহ অসাম্প্রদায়িক। সে চেনে না হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ ধর্মীয় ভেদাভেদ। করোনা অসম্ভব রকম সাম্যবাদী। যে গরীব ধনী, রাজা, বৃত্ত কিছুই চেনে না, মানে না। সবাই তার চোখে সমান, সুতরাং করোনা সম্প্রসারণ নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে দেশে সব ধর্মী সমাবেশের উপর সরকার বিধি নিষেধ আরোপ করতে বাধ্য হয়েছে। সে অনুসারে পবিত্র রমজান মাসে উৎসবমুখর পরিবেশে মসজিদে খতমে তারাবি আদায় এ বছর বন্ধ থাকছে। দেশে সকল এলাকার মুসলমানদের সরকারি এ নির্দেশ, দেশ জাতির স্বার্থে মেনে চলা জরুরি। ঘরে তারাবিহ পড়ে, রোজা রাখতে হবে দেশের মুসলমানদেরকে। রমজান মাসে সমাজিক, শারীরিক দূরত্ব রজায় রেখে ঘরে বসে নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, তসবিহ তাহলিল আদায় করে, করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ কবল থেকে দেশকে বিধাতা রক্ষা করুক এমন প্রার্থনা করুন, সকল মুসলিম নরনারী।
পবিত্র রমজান মাস ও করোনা পরিস্থিতিকে পুঁজি করে যে সকল অসাধু ব্যবসায়ী দ্রব্যমূল্য কৃত্রিমভাবে বৃদ্ধি করে সাধারণ মানুষের উপর জুলুম করছে তাদের ব্যাপারে সরকারও প্রশাসনের কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন। দেশ বর্তমানে এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। যা বিশ্বের বহুদেশকেও অতিক্রম করতে হচ্ছে। আমরা উন্নত বিশ্বের চেয়ে বহুগুণ পিছিয়ে। আর্থিক, মানসিক, সামাজিক, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সর্বক্ষেত্রে। কিন্তু আমাদের রয়েছে আয়তনের তুলনায় অধিক জনসংখ্যা। ঘনবসতিপূর্ণ এদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপক হলে দেশটা বিরাণ হয়ে যাবে। দেশের মানুষকে বাঁচানোর স্বার্থে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক ও যাবতীয় কাজে কৌশলী হওয়া আমাদের কর্তব্য। এ কারণে এ বছর মুসলমানদের তারাবিহ, কেনাকাটা, ঈদ সব ক্ষেত্রে করোনা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি মাথায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে। বৈশাখী উৎসব হয়নি, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান হয়নি ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায়, স্বাধীনতা দিবস পালন হয় নি জাঁকজমকপূর্ণ ও কোন সমাগমের ব্যাপক আয়োজনে। ঈদের কেনাকাটা ও উৎসব না হলে এমন কি আর ক্ষতি হবে দেশের মানুষের। আমরা সর্বক্ষেত্রে আবেগকে বর্জন করে দেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের জীবন রক্ষার স্বার্থে সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা মেনে সামাজিক শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে করোনার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণ করি।