স্বপ্ন ও বাস্তবতার অপূর্ব সংযোগ হাজেরা তজু স্কুল এন্ড কলেজ

সজল কুমার দত্ত

73

ক্যাম্পাসে ঢুকতেই গেইটের সামনে দুটি শব্দ চোখে পড়ে। শব্দ দুটো হল ‘এসো শিখি’, চমৎকার। শিখার জন্য আহŸান জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠতা মুজিবুর রহমান যিনি প্রাক্তন মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বি.এস.সির বড় ছেলে। পিতা ৩২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সফল প্রতিষ্ঠতা। পিতা হাতে হাত ধরেই হাজেরা তজু স্কুল এন্ড কলেজ নামে এ প্রতিষ্ঠানটি গড়েছেন। প্রতিষ্ঠাতা শিল্পপতি মুজিবুর রহমান বলেন কয়েক বছর আগে সন্তানকে ভর্তি করাতে অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলেন। সেখানকার নিউ সাউথওয়েলস ইউনিভার্সিটির মিনি সংস্করণ “হাজেরা তজু স্কুল এন্ড কলেজ” যা চান্দগাঁও নুরুজ্জামান নাজির বাড়ী সড়কে অবস্থিত। অস্ট্রেলিয়া থেকে ধারণা নিয়ে এসে ব্যাতিক্রমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করলেন। এটি অলাভজনক এবং ভর্তুকি দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে।
হাজেরা তজু স্কুল এন্ড কলেজ ঢুকতেই যেটা মনে কেড়ে নেয় সেটা হচ্ছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, সবুজ শ্যামলিমায় ঘেরা এবং বাহারি ফুলের সমাবেশে। এত সুন্দরভাবে সুপরিকল্পিতভাবে বাগান করা হয়েছে যা যে কেউ দেখে অভিভূত হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের খেলার সামগ্রী রয়েছে, যা বিরতিতে বা অবসরে চর্চা করতে পারে। মনে হবে স্বপ্নময় শিক্ষাস্বর্গ। এটি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয় ভেবে কেউ কেউ ভুল করে। শিশু কিশোরদের স্বর্গরাজ্য বা স্বপ্নময় জগৎ ভাবতে পারেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে দুটি শিফট। ছাত্রী প্রাতঃ বিভাগ এবং ছাত্র দিবা বিভাগ।
প্রধান শিক্ষক সজল কুমার দত্তের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নীতিমালার আলোকেই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীর ও শিক্ষকের অনুপাত ৪০:১। রয়েছে উন্নত সাউন্ড সিস্টেম। ৩০টি কম্পিউটার নিয়ে রয়েছে কম্পিউটার ল্যাব, সমৃদ্ধ লাইব্রেরী ও বিজ্ঞানাগার। রয়েছে ৪র্থ তলায় আধুনিক নিয়মে তৈরী করা একটি থিয়েটার হল। শিক্ষকরা জানালেন এই থিয়েটার হলে দেখানো হয় শিক্ষামূলক চলচিত্র, তথ্যচিত্র এবং সমন্বিতভাবে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে পাঠদান। শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে ও এগিয়ে আছে। এ শিক্ষপ্রতিষ্ঠানে, গত জে.এস.সিতে (২০১৮) পাসের হার ১০০% এবং এস.এস.সিতে (২০১৯) ৯৮%। অভিজ্ঞ এবং নিবন্ধনধারী শিক্ষক-শিক্ষিকার সম্বনয়ে পাঠদান করা হয়।
পুথিঁগত বিদ্যা অর্জনের পাশাপাশি যাতে শিক্ষার্থীরা নৈতিক গুণাবলী সমৃদ্ধ হয় তার জন্য জোর দেওয়া হয় সহ-পাঠক্রমিক কার্য্যাবলী যেমন বির্তক, আবৃত্তি, নাচ-গান ও বিভিন্ন খেলাধূলার চর্চা। এগুলো প্রতি বৃহস্পতিবার ক্লাস সময়সূচীর মত সুনিদিষ্ঠ ভাবে চর্চা করানো হয়। মুজিবুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা কোন বদ্ধ ঘরে বা চাপিয়ে দেওয়া যেনতেনভাবে শিক্ষাগ্রহণ করবে না। তারা আনন্দের সাথে শিক্ষাগ্রহণ করে সত্যিকার অর্থে মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে এটাই আমার প্রত্যাশা এবং শিক্ষার্থীরা দেশ ও জাতির সেবা করবে। ১২ বিঘা জায়গার উপরে প্রতিষ্ঠিত আরো তিনটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেগুলো হল চিটাগাং কিন্ডারগার্টেন, নুশিস শিল্পকলা একাডেমি ও কোয়োলিটি স্কুল অব ক্রিকেট। অভিভাবক, অভিবাবিকাবৃন্দ যে ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চায় মনে হয় হাজেরা তজু স্কুল এন্ড কলেজ সেই চাহিদা পূরণ করতে পারবে।
লেখক : প্রধান শিক্ষক,
হাজেরা তজু স্কুল এন্ড কলেজ