চট্টগ্রামের উন্নয়নে আরো প্রকল্প

স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা চাই

7

বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার পুরোটাই বাস্তবায়ন করতে বদ্ধপরিকর। গত প্রায় দশ বছরের ফিরিস্তি খুললে তা স্পষ্ট প্রতিভাত হয়। সর্বশেষ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) পরপর দুটি সভায় আরো ৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন ও ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের একটি খাল সংস্কারের জন্য প্রকল্পের অনুমোদনসহ ১২শ কোটি টাকার বরাদ্দ রয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার আগে এটি একনেকের সর্বশেষ বৈঠক ছিল। বৈঠকে দেশের বিভিন্ন জেলার ২৮টি প্রকল্পের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকার উপর বরাদ্দ অনুমোদন দেয়া হয় বলে জানা যায়। আমরা চট্টগ্রামের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছার প্রতি সবসময় সম্মান দেখিয়ে আসছি। আজ আবারও তাঁকে ধন্যবাদ জানাতে হয়, এ জন্য যে, তিনি এবং তাঁর সরকার চট্টগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়নে চট্টগ্রামকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন সর্বশেষ একনেকের সভায়ও তার নজির রেখেছেন। আমরা আশা করি, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আবারও প্রধানমন্ত্রী হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন, তাতে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীখ্যাত এ চট্টগ্রাম তার প্রাণ খুঁজে পাবে। বৃহস্পতিবার দৈনিক পূর্বদেশসহ স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ ও একটি প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) দুইটি সভায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ৬টি উন্নয়ন প্রকল্পে ১০ হাজার কোটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। বাকিগুলো নতুন প্রকল্প। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রবিবার ও গত বুধবার অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে এসব প্রকল্প ব্যয় অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক দুইটিতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রকল্পগুলো হচ্ছে, চট্টগ্রাম ওয়াসার অধীনে মহানগরীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন প্রকল্প, সিটি করপোরেশনের বহদ্দারহাট বাড়ইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত নতুন খাল খনন প্রকল্প, টানেল নির্মাণ প্রকল্পে বাড়তি অর্থ বরাদ্দ, চট্টগ্রামে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন প্রকল্প, কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে স¤প্রসারণ প্রকল্প এবং টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ জেলা মহাসড়ক (জেড-১০৯৯) এর হাড়িয়াখালী হতে শাহপরীর দ্বীপ অংশ পুনঃনির্মাণ প্রশস্তকরণ এবং শক্তিশালীকরণ প্রকল্প। সূত্র জানায়, বৈঠকে নেত্রকোনায় শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট ২৮টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ২৩৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে ২৪ হাজার ৮৫৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব তহবিল ৫৩৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা এবং ৪ হাজার ৮৪০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বৈদেশিক সহযোগিতা হিসেবে পাওয়া যাবে।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর প্রতিটিই গুরুত্বপূর্ণ তবে, আমাদের কাছে নগরীর অন্যতম প্রধান খাল ‘বাড়ইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত চাক্তাই সংযোগ খাল খনন প্রকল্প (সংশোধিত)’ প্রকল্পটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। কারণ এ খাল প্রকল্প অনুযায়ী সংস্কার হলে চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট, চকবাজার, মুরাদপুর হয়ে ২নং গেট এলাকার অধিবাসীরা বর্ষা মৌসুমে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে। আমরা জানি, ইতোমধ্যে সরকার চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরীকে জলাবদ্ধতা মুক্ত করতে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে এ খালটি সংস্কারে বরাদ্দ দিয়েছে। এটি সরকারের উদার নীতির প্রতিফলন। চট্টগ্রাম সিটি মেয়র বলেছেন, গত ৪ বছরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) সরকার থেকে রেকর্ড সংখ্যক প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এ সময়ে ৪ হাজার ৮শ ৮১ কোটি ৯৯ লাখ টাকার ৭টি বড় প্রকল্প অনুমোদন পায়। আরো হাজার কোটির টাকার কয়েকটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। যা সিটি কর্পোরেশনের ইতিহাসে পূর্ববর্তী কোনো মেয়রের আমলে হয়নি। প্রায় সবকটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন ২০২০ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে নগরবাসী একটি সমন্বিত উন্নয়নের স্বাদ পাবে বলে জানিয়েছেন আ.জ.ম নাছির উদ্দীন। আমরা আশা করি, অনুমোদিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট আন্তরিকতা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা প্রদর্শন করবেন। যেহেতু সরকার মেয়াদের একেবারে শেষে এসে এ প্রকল্পগুলো অনুমোদন দিয়েছেন সেহেতু প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।যাতে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়।