আদালতে জবানবন্দি

স্ত্রীর প্রেমিকের হতেই খুন হন প্রবাসী হাসেম

তৈয়ব চৌধুরী, রাউজান

57

স্ত্রীর পরকীয়ার জেরেই খুন হন রাউজানের বাসিন্দা দুবাই প্রবাসী আবুল হাসেম (৪০)। গতকাল রবিবার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই পরিকল্পিত খুনের ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন নিহতের স্ত্রী রুনা ও তার প্রেমিক জাহেদ। তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করে আদালত। ঘটনার একদিন পর গতকাল রবিবার এই হত্যাকান্ডের ক্লু উদ্ঘাটনে সক্ষম হয় রাউজান থানা পুলিশ।জবানবন্দিতে তারা জানিয়েছেন, পরকীয়া প্রেমিককে নিয়ে গভীর রাতে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান অবস্থায় গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় দুবাই প্রবাসী আবুল হাসেমকে। জানা যায়, নিহত আবুল হাসেম গত ১৫ দিন আগে তার অসুস্থ পিতা আলী আহমদকে (৭০) দেখতে ও কুরবানি দিতে দেশে আসেন। গত শুক্রবার রাত ৩ টার দিকে তাকে হত্যা করে স্ত্রী ও পরকীয় প্রেমিক জাহেদ। এ ঘটনাকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়েছে বলে চালিয়ে দিচ্ছিল তার স্ত্রী রুনা আকতার (৩০)। কিন্তু দাফনের জন্য গোসল করতে নিয়ে গেলে গলায় দাগ দেখে স্বজনরা সন্দেহ পোষণ করে। পরে তারা স্থানীয় ইউপি সদস্য তৌহিদুল ইসলামকে খবর দেন। তিনি এসে লাশ দেখে রাউজান থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পুলিশ ৩ জনকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন, নিহতের স্ত্রী রুনা আকতার (৩৫) শাশুড়ি আমেনা বেগম (৪৫), ও পরকীয়া প্রেমিক নিহতের চাচাতো ভাই সিএনজি টেক্সিচালক জাহেদুল ইসলাম (২৮) আটকের পর স্ত্রী রুনা আকতার ও পরকীয়া প্রেমিক জাহেদ হত্যা করার কথা স্বীকার করে গতকাল রবিবার আদালতে স্বীকারোক্তি প্রদান করেন। ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা রাউজান থানার এসআই সাইমুল ইসলাম বলেন, আটককৃত রুনা আকতার ও পরকীয়া প্রেমিক জাহেদ কোর্টে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে। তাদের স্বীকারোক্তি মতে, তারা ২ জন মিলে ৫/৬ দিন আগে আবুল হাসেমকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। রুনা আকতার শুক্রবার রাত ১০ টার সময় শ^শুর আলী আহমদের ঘরে থাকা ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেয় স্বামীকে। তারপর তার পরকীয়া প্রেমিক জাহেদকে খবর দিলে সে ঘরে আসে। রাত গভীর হলে ৩ টার সময় তারা গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।