‘সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের দুই ঘণ্টার মধ্যেই খুন হন খাশোগি’

10

সৌদি আরবের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যা করা হয় সৌদি যুবরাজের সমালোচক হিসেবে পরিচিত দেশটির খ্যাতনামা সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে। সেদিন ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের ‘দুই ঘণ্টার’ মধ্যেই খুন করা হয় তাকে। তুর্কি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। তুরস্কের উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা মনে করেন, জামাল খাশোগিকে খুন বা অপহরণের জন্য আগে থেকেই ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে অপেক্ষমাণ ছিল সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় কিলিং স্কোয়াড বা খুনি বাহিনী। তারা মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ঘাপটি মেরে অপেক্ষায় ছিলেন কখন খাশোগি হাজির হন। কনস্যুলেটে এটা ছিল তার দ্বিতীয় প্রবেশ। স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ চূড়ান্ত করতে এর আগে আরও এক দফায় সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। তখন তাকে জানানো হয় কাগজপত্র ঠিক নেই। মঙ্গলবার আবার আসতে হবে। সে অনুযায়ী দ্বিতীয় দফায় কনস্যুলেটে গিয়েই সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় হিট স্কোয়াডের নৃশংস শিকারে পরিণত হন তিনি।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানসহ দেশটির কর্মকর্তারা অবশ্য সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার খবর নাকচ করে দিয়েছেন। তাদের দাবি, সেদিন কনস্যুলেট থেকে বের হয়ে গেছেন খাশোগি। এর প্রেক্ষিতে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান সৌদি আরবের কাছে খাশোগির দূতাবাস ত্যাগের প্রমাণ চান। সৌদি আরব প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হলে বিষয়টি নিয়ে বিশদ তদন্তের কথা বলেন তুর্কি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তুর্কি কর্মকর্তারা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর কাছে সৌদি আরবের এমন কর্মকান্ডকে ‘যথেষ্ট নোংরা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
এই কর্মকর্তা বলেন, সাংবাদিক জামাল খাশোগি যেদিন নিখোঁজ হন সেদিনই ১৫ সৌদি এজেন্ট (রাষ্ট্রীয় কিলিং মিশনের সদস্য) দুইটি চার্টার ফ্লাইটে তুরস্কে এসে পৌঁছায়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই তারা তুরস্ক ছেড়ে যায়। আঙ্কারা শনাক্ত করেছে যে ওই ১৫ জনের সবাই বা অধিকাংশই সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য কিংবা সরকারি চাকরিজীবী। তাদের মধ্যে একজন ময়নাতদন্ত বিশেষজ্ঞও ছিলেন। সম্ভবত নিহতের শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আলাদা করতে সহায়তার জন্য তাকে নিয়ে আসা হয়েছিল।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, এরইমধ্যে এ ঘটনা নিয়ে তুর্কি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানকে অবহিত করা হয়েছে। সেখানে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরেই ওই সাংবাদিকের খুন হওয়ার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। তুর্কি সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ মঙ্গলবার জানিয়েছে, অন্য দেশের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সহায়তা নিয়ে এ ইস্যুতে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। এতে জামাল খাশোগি খুন হওয়ার বদলে বরং তিনি নিখোঁজ রয়েছেন; এমন সম্ভাবনার প্রতি জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে দেশটির একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’কে এই ঘটনার তদন্তে বিদেশি গোয়েন্দাদের সংশ্লিষ্টতার খবর নাকচ করে দিয়েছেন।