সৌদি কনসালের জেনারেলের বাসায় অ্যাসিড, রাসায়নিক শনাক্ত

6

ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকান্ডের ঘটনায় ফের সামনে এলো সৌদি কনসাল জেনারেলের বাসভবন। তুর্কি অ্যাটর্নি জেনারেল দফতরের একটি সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে, তাদের তদন্তকারীরা কনসাল জেনারেলের বাসায় হাইড্রোফ্লুওরিক অ্যাসিড এবং অন্যান্য রাসায়নিক শনাক্ত করেছে।সূত্রটি জানিয়েছে, কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ আল-ওতাইবি’র বাসভবনের একটি কক্ষে খাশোগির খন্ড বিখন্ড দেহে এসিড নিক্ষেপ করা হয়। ইস্তানবুল থেকে আল জাজিরা’র সাংবাদিক অ্যান্ড্রু সাইমনস জানান, সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকান্ডের দুই সপ্তাহ পর ভবনটিতে তল্লাশি চালায় তুর্কি তদন্তকারীরা। এদিকে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু বলেছেন, আঙ্কারার হাতে খাশোগি হত্যাকান্ড সম্পর্কিত আরও তথ্য রয়েছে। তদন্ত শেষে এসব প্রকাশ করা হবে। তবে তার মরদেহের কী হয়েছিল তা খুঁজে বের করার দায়িত্ব সৌদি আরবের। তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশ ছাড়া নিজ দেশের একজন নাগরিককে হত্যা করতে সৌদি আরব থেকে ১৫ জন তুরস্ক যাবে, এমনটা সম্ভব নয়।
এদিকে তুরস্কের একজন সিনিয়র কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, খাশোগিকে হত্যার পর সেখানে দুইজন বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছিল সৌদি আরব। এদের একজন টক্সিকোলজিস্ট বা বিষতত্ত্ববিদ, অন্যজন রাসায়নিক বিশেষজ্ঞ। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে তুরস্কের ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, খুনের প্রমাণ লোপাটে পাঠানো দুই ব্যক্তি হচ্ছেন আহমেদ আবদুলআজিজ আলজানোবি এবং খালেদ ইয়াহিয়া আল জাহরান। তারা যথাক্রমে রাসায়নিক বিশেষজ্ঞ এবং বিষতত্ত্ববিদ। ১২ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন তারা কনস্যুলেট ভবন পরিদর্শন করেন। অন্যদিকে খাশোগির মৃতদেহ ফেরত চেয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন তার সন্তানেরা। ৪ নভেম্বর মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খাশোগির দুই ছেলে বলেছেন, তারা বাবাকে কবর দিতে সৌদি আরবে ফিরতে চান। বাবাকে মদিনার জান্নাতুল বাকিতে সমাহিত করতে চান তারা। ২ অক্টোবর ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেট ভবনে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন সৌদি অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগি। কনস্যুলেট ভবনে তার হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও এর সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান কিংবা অন্য কোনও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নাকচ করে আসছে দেশটি। তবে সৌদি আরবের এমন দাবি মানছে না তুরস্কসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ। ইউরোপীয় দেশগুলো এ ইস্যুতে রিয়াদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। দেশটির ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জার্মানি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একপর্যায়ে এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হন।