সৌদি আরবের সঙ্গ ত্যাগ মরক্কোর থাকছে না ইয়েমেন যুদ্ধে

14

ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধজোট ছেড়ে বেরিয়ে গেল মরক্কো। দেশটি আর ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবে না। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, সৌদি আরবের সঙ্গে দেশটির কূটনৈতিক সম্পর্ক স¤প্রতি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে একটি তথ্যচিত্রকে কেন্দ্র করে। এর জেরে গত বৃহস্পতিবার মরক্কো সৌদি আরবে নিযুক্ত তাদের রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফেরার আদেশও দিয়েছে।
২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। হুথি বিদ্রোহী ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট সালেহর সমর্থকরা জোটবদ্ধ হয়ে রাজধানী সানা দখল করলে দেশটির প্রেসিডেন্ট হাদি সৌদি আরবে নির্বাসনে যান। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে ইয়েমেনে হামলা চালানো শুরু করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। তাদের উদ্দেশ্য, দেশটির আন্তর্জাতিক পরিসরে বৈধ হিসেবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্ট আবু রাব্বু মানসুর হাদির সরকারকে স্থিতিশীল করা। ওই যুদ্ধজোটের অংশ ছিল মরক্কোও।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইয়েমেন যুদ্ধ থেকে নিজেদের প্রত্যাহারের বিষয়ে মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বৌরিতা মন্তব্য করেছেন, ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষত্রে চলতে থাকা ঘটনাপ্রবাহ, বিশেষ করে সেখানে দেখা দেওয়া মানবিক বিপর্যয় তাদের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করেছে। বস্তুত সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হামলায় ইয়েমেনের আনুমানিক ৮৫ হাজার শিশু খাদ্যাভাবে মৃত্যুবরণ করেছে। ২ কোটি ৯০ লাখ নাগরিকের মধ্যে এক কোটি ৪০ লাখই রয়েছে অনাহারে।
খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ৬৮ শতাংশ। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। অথচ ইয়েমেন মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ। মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া সাক্ষাৎকার প্রচারিত হওয়ার পর সৌদি আরব একটি তথ্যচিত্র প্রচার করতে শুরু করে, যাতে দেখানো হয় স্পেনীয়রা চলে যাওয়ার পর মরক্কো পশ্চিম সাহারা অঞ্চলে আগ্রাসন চালিয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে মরক্কো সৌদি আরব থেকে তার রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নেয়। মরক্কো মনে করে, পশ্চিম সাহারা এলাকাটি তার অংশ।
সৌদি আরবের সঙ্গে মরক্কোর কূটনীতিক সম্পর্ক বেশ কিছু দিন ধরেই আলোচনার বিষয় হয়েছিল সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আরব দেশগুলো সফরে বের হলেও মরক্কো তাকে আমন্ত্রণ জানায়নি।

ইয়েমেন যুদ্ধ ও মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যার ঘটনার প্রেক্ষিতে তুমুল সমালোচনার মুখে থাকা অবস্থায় ওই সফরে বের হয়েছিলেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এ বিষয়ে মরক্কোর একজন সরকারি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেছিলেন, মরক্কোর বাদশাহ চতুর্থ মোহাম্মদ তার ব্যস্ত সূচির কারণে সৌদি আরবের যুবরাজকে সময় দিতে পারেননি!
যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইয়েমেনে প্রায় ১৮ হাজার অভিযান পরিচালনা করেছে হুথি বিদ্রোহীদের হঠানোর জন্য। স্কুলবাস থেকে শুরু করে বিয়েবাড়ি, সৎকার আয়োজন থেকে শুরু করে বেসামরিক নাগরিকদের অবস্থান, কোনও কিছুতেই তারা হামলা না চালিয়ে থাকেনি। তবে এখন পর্যন্ত ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ গুরুত্বপূর্ণ শহর এলাকায় হুথি বিদ্রোহীরা তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে।