সৌদি অবরোধের সম্ভাবনায় লেবাননের অর্থনীতি নিয়ে শঙ্কা

34

প্রতিবেশী কাতারের সঙ্গে যেমন করেছে তেমন অবরোধ লেবাননের ওপরও চাপিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সৌদি আরব, আশঙ্কা লেবাননের রাজনীতিক ও ব্যাঙ্কারদের। সৌদি আরবের দাবি না মানা পর্যনত্ম ওই অর্থনৈতিক অবরোধ চলতে থাকবে বলেও মনে করছেন তারা। বিশ্বের বৃহত্তম তরল প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারী এবং মাত্র তিন লাখ জনসংখ্যার দেশ কাতারের বিপুল পরিমাণ ব্যাঙ্ক রিজার্ভ থাকায় তারা ওই অবরোধের চাপ সামাল দিতে পারছে। কিন্তু লেবাননের প্রাকৃতিক সম্পদ বা নগদ অর্থ কোনটাই না থাকায় দেশটির লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে।
চার লাখেরও বেশি লেবাননি উপসাগরীয় দেশগুলোতে কাজ করছেন। তাদের পাঠানো বছরে সাত থেকে আট বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্সই লেবাননের আয়ের প্রধান উৎস। অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রাখতে ও সরকারি কার্যক্রম চালাতে এই আয়ের ওপরই নির্ভর করতে হয় ঋণে জর্জরিত দেশটিকে।
“ইতোমধ্যেই শোচনীয় হয়ে পড়া লেবাননের অর্থনীতির জন্য এটি একটি গুরম্নতর হুমকি। তারা যদি রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ বন্ধ করে দেয় তাহলে বিপর্যয় ঘটবে,” বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন লেবাননের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। সৌদি আরবে অবস্থানকারী লেবাননের পদত্যাগকারী প্রধানমন্ত্রী সাদ আল হারিরির কাছ থেকেই নিষেধাজ্ঞার হুমকির বিষয়ে জানা গেছে। ৪ নভেম্বর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে টেলিভিশনে সমপ্রচারিত এক ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। সৌদি আরবের চাপেই তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে মনে করছেন লেবাননের রাজনৈতিক নেতারা। সৌদি আরবের পুরনো মিত্র হারিরি রোববার সম্ভাব্য আরব নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে নিজ দেশকে সতর্ক করেছেন। এতে উপসাগরীয় দেশগুলোতে বসবাস করা লাখ লাখ লেবাননির জীবনে বিপর্যয় নেমে আসবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। নিষেধাজ্ঞা এড়াতে লেবাননকে সৌদি আরবের কী কী শর্ত মানতে হবে তাও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। এর মধ্যে প্রধান শর্তটি হল লেবাননের ইরান-সমর্থিত শিয়া গোষ্ঠী হিজবুলস্নাহকে আঞ্চলিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে হবে, বিশেষ করে ইয়েমেনে।
সৌদিদের চিনত্মা-ভাবনা সম্পকে জ্ঞাত এক লেবাননি সূত্র রয়টার্সকে বলেছেন, “যদি বাসত্মব আপোষরফায় না পৌঁছানো যায়, তাহলে আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে তার একটি ইঙ্গিত দিয়েছে হারিরির সাক্ষাৎকার। কাতারের কৌশলই খাটানো হবে।” হারিরির পদত্যাগ লেবাননকে সুন্নি সৌদি আরব ও শিয়া ইরানের বাড়তে থাকা শত্রুতার ঘূর্ণাবর্তে ফেলে দিয়েছে।