সেমুতাংয়ে নতুন কূপ খননের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে

আবদুল মান্নান, মানিকছড়ি

30

প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর পার্বত্য চট্টগ্রাম। আর এসব সম্পদের মধ্যে মানিকছড়ির সেমুতাং ফিল্ডের গ্যাস ২০১১ সাল থেকে জাতীয় গ্রীডে সরবরাহ হয়ে আসছে। ১৯৬৩ সালে এ গ্যাসক্ষেত্র প্রথম আবিস্কার পরবর্তীতে অনেক ঘটনাপ্রবাহের ফলে ২০১১ সালে পুরোদমে সেমুতাংয়ের গ্যাস জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হয়। চলতি বছর থেকে আবারও নতুন কূপ খনন শুরু হয়ে এখন তা শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সীমান্তর্বী মানিকছড়ি উপজেলার কালাপানি মৌজার ২১ একর টিলাভূমির ওপর ১৯৬৩ সালে ব্রিটিশ কোম্পানীর একটি গ্যাস অনুসন্ধানী দল সর্বপ্রথম এ গ্যাসক্ষেত্রটি আবিস্কার করেন। ধারাবাহিকভাবে দীর্ঘ কয়েক বছর অনুসন্ধান শেষে ১৯৬৯ সালে একযোগে ৫ কূপের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হলেও বছর যেতে না যেতে গ্যাসফিল্ডে বিস্ফোরণ ঘটায় সন্ত্রাসীরা। ফলে অংকুরেই এর সুফলবঞ্চিত হয় দেশবাসী। এরপর বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৩, ১৯৯৪, ১৯৯৭, ২০০০ ও ২০০৪ সাল নাগাদ গ্যাস উত্তোলনে চেষ্টা চালায়। সর্বশেষ ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার একনেকে মানিকছড়ির সেমুতাং গ্যাস ফিল্ড থেকে গ্যাস উত্তোলনে বাজেট পাস করে এবং ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে ৫নং কূপ থেকে জাতীয় গ্রীডে (চট্টগ্রাম) গ্যাস সংযোগ দেয় পেট্রোবাংলা (বাপেক্স)। শুরুতে গ্যাসের গতি ১৫-১৭ মিলিয়ন ঘণফুট পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে ৬নং কূপ খননে গেলেও সেটির গ্যাস বেশিদিন পাওয়া যায়নি। একবছর যেতে না যেতেই এর গতি কমতে থাকে এবং বছর দেড়েক পর সেটি বন্ধ হয়ে যায়। অপরদিকে ৫নং কূপ এখনো গড়ে ২-১ মিলিয়ন ঘণফুট গ্যাস সরবরাহ দিচ্ছে জাতীয় গ্রীডে। গ্যাসের গতি কমতে থাকায় ২০১৭ সালে ৬নং কূপ অর্থাৎ সেমুতাংয়ের মূল কূপ থেকে ৭ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে সাপমারায় (নোনাবিল) নতুন কূপের সন্ধান পায় বাপেক্স। এটি সেমুতাংয়ের ৭নং কূপ হিসেবে চিহ্নিত। বর্তমানে নতুন কূপের খনন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
বাপেক্সের একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ঠিক কি পরিমাণ গ্যাস নতুন কূপে মজুদ রয়েছে অথবা কি পরিমাণ গ্যাস উত্তোলিত হতে পারে সে বিষয়ে কিছুই জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষামূলক উত্তোলন শুরু হলে এ বিষয়ে জানা যাবে।
এদিকে পার্বত্য জনপদের মূল্যবান সম্পদ সমতলে ব্যবহার হলেও পার্বত্যবাসীর ভাগ্যে তা জুটেনি। যদিও এ অঞ্চলে গ্যাসের ব্যবহার নিশ্চিত করতে দাবি জানিয়ে আসছিল জনগণ। কিন্তু বাপেক্স এখনো পর্যন্ত তাতে সাড়া দেয়নি। ফলে বাতির নিচে অন্ধকার থেকেই যাচ্ছে।