সেতুর এপ্রোচ অংশে পড়া শতাধিক দোকান ও বসতি উচ্ছেদ

চকরিয়া প্রতিনিধি

11

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার মাতামুুরী নদীর উপর নতুন সেতু নির্মাণ চলছে পুরোদমে। সেতুর এপ্রোচ অংশে পড়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যক্তি মালিকানাধীন শতাধিক দোকান ও বসতঘরসহ স্থাপনা উচ্ছেদ সেতু নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চালানো এ অভিযানে চকরিয়া পৌরশহরের পুরাতন বাসস্টেশন এবং মাতামুহুরী নদীর দুই অংশের অন্তত শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। তবে অনেক স্থাপনা মালিক অভিযোগ করেছেন, সেতু নির্মানের জন্য জায়গা অধিগ্রহন করা হলেও এখনো তারা ক্ষতিপুরণের টাকা পাননি। উচ্ছেদ অভিযানের সময় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সাথে জমি মালিকদের দফায় দফায় বাকবিতন্ডার ঘটনাও ঘটে। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী লোকজনের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের ‘ক্রস বর্ডার রুট নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’ এর আওতায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী সেতু ছাড়াও একই সড়কে আরও চারটি সেতু নির্মানের কাজ চলছে। এই চারটি সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭৩৫ কোটি টাকা। তৎমধ্যে নতুন মাতামুহুরী সেতুটি নির্মাণ হবে ছয় লেনে। সেতুর এপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য অনেক আগে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের এলএ শাখার মাধ্যমে জমি অধিগ্রহন করা হয়েছে।
এজন্য ইতোমধ্যে জমি ও স্থাপনার মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকাও পরিশোধ করা হয়েছে। এরপরই স্থাপনা অপসারণের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এ ব্যাপারে ‘ক্রস বর্ডার রুট নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’ এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. জাহিদ হোসেন বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে চকরিয়া উপজেলার অধিগ্রহণের আওতায় পড়া জায়গার মালিকদের জন্য ক্ষতিপূরণের সব টাকা জেলা প্রশাসনকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে কারও স্থাপনা ও ভূমির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে নিষ্পত্তি শেষে প্রকৃত মালিকগন ক্ষতিপূরণের টাকা পেয়ে যাবেন।
মাতামুহুরী সেতুর সন্নিকটে চকরিয়ার জমজম হাসপাতালের সামনের বেশকিছু জায়গা অধিগ্রহণের আওতায় পড়েছে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের সাবেক তত্ত¡াবধায়ক সোলতান আহমদ সিরাজীর। গত বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থলে তিনি বলেন, আমার ভূমি ও স্থাপনা অধিগ্রহন করা হলেও আমি ক্ষতিপূরণ পাইনি। আমার চারটি দোকান অপসারণ করা হয়েছে। অতচ অপসারণের পূর্বে কোনো নোটিশও দেওয়া হয়নি। ফলে উচ্ছেদ অভিযানের সময় বাড়ির কোনো মালামালও সরাতে পারিনি। শুধু সোলতান আহমদ সিরাজীই নন, এ ধরণের ক্ষতিপুরণের টাকা এখনো হাতে পায়নি আশপাশ এলাকার অন্তত ৩০ থেকে ৪০জন ভুক্তভোগী জায়গার মালিক। ওই সময় ভূক্তভোগী অনেকের অভিযোগ করেছেন, আমাদের জায়গা অধিগ্রহন করা হলেও এখনো ক্ষতিপুরণের টাকা পাইনি। একারনে বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী লোকজনের সঙ্গে উচ্ছেদ অভিযানকালে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সঙ্গে অনেকের বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটেছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভুমি অধিগ্রহন কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, যাদের জমি অধিগ্রহণের আওতায় পড়েছে, ইতোমধ্যে বেশিরভাগ মালিক ও অংশিদারদের হাতে তাদের ক্ষতিপুরণের টাকা বিতরণ করা হয়েছে। তবে জমির মালিকানা নিয়ে নিজেরদের মধ্যে বিরোধ পরবর্তী আদালতে মামলা-মোকাদ্দমা থাকার কারনে কিছু কিছু মালিক এখনো অধিগ্রহণের টাকা পায়নি। তিনি আরও বলেন, মামলা নিস্পত্তি হবার পর যিনি জায়গার মালিক হিসেবে বিবেচিত হবেন, পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তাকেই ক্ষতিপুরণের টাকা দেবে জেলা প্রশাসন। এখনো যারা পায়নি, তাদের টাকা জেলা প্রশাসনে গচ্ছিত আছে বলেও জানান তিনি।