সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সংলাপ দেশের রাজনীতির জন্য ইতিবাচক

9

নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। দশম জাতীয় সংসদের সর্বশেষ অধিবেশনও শেষ হয়েছে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে একাদশ সংসদ নির্বাচনের লক্ষে। এমতাবস্থায় রাজনৈতিক অঙ্গনেসহ সারাদেশে নির্বাচনী হাওয়া বৈতে শুরু করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট প্রস্তুতি নিচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্যে। এর মধ্যে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়। বিএনপিসহ কয়টি দল ও জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিলেও ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম প্রবক্তা বিকল্প ধারার সভাপতি ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী শেষ পর্যন্ত বিএনপির জামায়াত প্রীতির অজুহাতে ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেননি। এরিমধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সিলেট ও চট্টগ্রামে জনসভা করে তাদের ঐক্যের উদ্দেশ্য লক্ষ্যের কথা জনগণের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সিলেটের জনসভার পরই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাধারণ সম্পাদক সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে সংলাপ চেয়ে চিঠি পাঠান গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। চিঠির উদ্দেশ্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা ও ১১টি লক্ষ সংযুক্ত হয়েছে। চিঠির উদ্দেশ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা ও দলের সাধারণ সম্পাদক ও প্রভাবশালী মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের দাবী জানিয়ে।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন দল ও দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগের সাথে মহাজোটভুক্ত ১৪ দলসহ জাতীয় পার্টিও রয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং মহাজোটের বাইরে রয়েছে জামায়াতের ইসলামী, বিকল্প ধারা, এলডিপি কল্যাণ পার্টিসহ কয়টি দল রয়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও মহাজোটের সাথে মূল নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ ২০ দল অংশগ্রহণ না করায় নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। সরকারও বর্তমানে আশা করে সকল দলের অংশগ্রহণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হউক। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাইরে থাকা সাবেক শাসক দল বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টভুক্ত হওয়ায় দেশের রাজনৈতিক দল কার্যত দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সভাপতি হিসেবে শাসক দল আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে সংলাপ চেয়ে চিঠি পাঠানোর ঘটনাকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। কেন না এক এগারোর মতো কোন পরিস্থিতি এদেশে জনগণ আশা করে না। সংলাপ সবসময় যে কোন সমস্যা সমাধানের উত্তম পন্থা। এক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দল ও ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে সংলাপ হতেই পারে। তবে শর্তসাপেক্ষে সংলাপ কখনো সমঝোতার পক্ষে শুভ নয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অর্থবহ ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য দেশের সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতা প্রয়োজন।