মহেশখালী তাজিয়াকাটা দাখিল মাদ্রাসা

সুপারের জালসনদ, আটকে যাচ্ছে মাদ্রাসার এমপিও!

নিজস্ব প্রতিবেদক

9

সদ্য এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার তাজিয়াকাটা সুমাইয়া (র.) বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে ভুয়া নিবন্ধন সনদ দাখিলের মাধ্যমে এমপিওভুক্তির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত সুপারের নাম মোহাম্মদ নোমানুল কাজী, তিনি উপজেলার কুতুবজোম এর শামসুল ইসলামের ছেলে বলে জানা গেছে। মাওলানা নোমানুল কাজী ব্যানবেইসের জন্য জন্য দাখিলকৃত তার নিবন্ধন সনদে রোল নং- ৩১৯১৮৪৯০, রেজি. নং- ৯০০০৬৭৪৫/২০০৯ এবং সিরিয়াল নং- ৯১৪৪৩৬, ফল প্রকাশ ১৮ ফেব্রূয়ারি ২০১০ইং বলে উল্লেখ রয়েছে। তিনি এই সনদ কম্পিউটারের মাধ্যমে জালিয়াতি করে তৈরি করেন যা এমপিওভুক্তির সাথে জমা দেন। এরপর তিনি যথারীতি এমপিওভুক্তও হন। কিন্তুমাওলানা নোমানুল কাজীর সাথে পর পর তিনবার নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকরা তার এই জালিয়াতির বিষয়টি ধরে ফেলেন। জাল সনদের মাধ্যমে সুপার পদে এমপিওভুক্তির সংবাদে তার সহকর্মীরা নড়েচড়ে বসলে বেকায়দায় পড়ে যান নোমানুল কাজী।
জালিয়াতি করে নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত সুপার নোমানুল কাজীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত পাঁচজন শিক্ষক ও শিক্ষানুরাগী যথাক্রমে নুরুল ইসলাম, বেলাল আহমদ, নুর মোহাম্মদ, আজিজুল হক ও জিয়াউর রহমান কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব, এনটিআরসি চেয়ারম্যান, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক, কক্সবাজার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, মোহাম্মদ নোমানুল কাজী নামক ঐ সুপার ২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালে পর পর তিনবার নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেও অকৃতকার্য হন। অভিযোগকারী শিক্ষকরাও নোমানুল কাজীর সাথে উপরোক্ত সময়কালে অনুষ্ঠিত নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন বলে বিভিন্ন দপ্তরে দাখিলকৃত অভিযোগ নামায় দাবি করেন। তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গত ২৫ এপ্রিল অভিযুক্ত, অভিযোগকারী, স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করেন। এতে মাওলানা নোমানুল কাজী তার নিবন্ধন সনদটি ভুয়া বলে স্বীকার করে নেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক বরাবর অভিযোগ পেশ করার পর ভুয়া সুপার নোমানুল কাজী অভিযোগকারী পাঁচ শিক্ষককে হুমকি-ধমকিসহ নানাভাবে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে মাওলানা নোমানুল কাজীর বিরুদ্ধে।
মাদ্রাসা সুপারের ব্যক্তিগত এমন জালিয়াতির কারণে সদ্য এমপিওভুক্ত হতে যাওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাজিয়াকাটা সুমাইয়া (র.) বালিকা দাখিল মাদ্রাসা’র এমপিওভুক্তির প্রাথমিক সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলছে। এমন গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির এমপিওভুক্তির বিষয়টিও আটকে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা গেছে অন্যান্য শিক্ষক, পরিচালনা পর্ষদ ও স্থানীয় মানুষদের মাঝে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত জালিয়াতির কারণেতো পুরো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া আটকে যেতে পারে না। অন্যান্য শিক্ষকেরাও নিবন্ধিত। তারা নিয়মানুসারে সঠিকপদ্ধতিতে নিবন্ধন লাভ করেছেন। একজনের জন্যতো সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নিয়ে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনলে অন্যরা আর সাহস পাবে না। তারা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি বাতিল বা স্থগিত না করতেও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আবেদন জানান।
এদিকে নোমানুল কাজীর ভুয়া নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে সুপার পদে এমপিওভুক্তির বিষয়টি দীর্ঘদিনের চেষ্টার পর এমপিওভুক্ত হতে যাওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাজিয়াকাটা সুমাইয়া (র.) বালিকা দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের মাঝেও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক, শিক্ষানুরাগী ও পরিচালনা কমিটির সদস্যের অভিযোগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে নিবন্ধন সনদ জালিয়াতিকারী নোমানুল কাজীকে রক্ষা করতে অত্যন্ত সচেষ্ট এবং বিষয়টি তিনি নিজে দেখভাল করার কথা বলে এ ব্যাপারে কাউকে মাথা না ঘামানোর জন্য বলে দেন।