সুখবর দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কমছে প্রয়োজন আরো বেশি সচেতনতা

37

আজকের (২৯/৩/২০২০) তারিখ রবিবার এ সম্পাদকীয় যখন লেখা হচ্ছে, তখন পর্যন্ত আমাদের এ দেশে গত ৪৮ ঘণ্টায় আর কোন নতুন কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়ানি। খবরটি সত্যিই স্বস্তির, দেশের জন্য এ মুহূর্তে সবচেয়ে সুখবর এটিই হতে পারে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) গতকাল দুপুর নাগাদ তাদের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং-এ এ তথ্যটি উপস্থাপন করেন। তাদের ভাষায় ‘বাংলাদেশে নতুন করে আর কারো মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েনি; আক্রান্তের মোট সংখ্যা আগের মতোই ৪৮ আছে। আগের আক্রান্তদের মধ্যে আরো চারজন সুস্থ হয়ে উঠেছে। গতকাল সকাল পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টায় নতুন করে কারো মৃত্যুর তথ্য না আসায় মৃতের মোট সংখ্যা আগের মতো পাঁচই রয়েছে’। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদসূত্রে আমরা লক্ষ করছি, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় প্রস্তুতির ক্ষেত্রে নানা ধরনের ঘাটতি ও সংকটের বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর ধারণা করা হচ্ছে, স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। নেওয়া হয়েছে বেশকিছু নতুন অথচ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাদের এ পদক্ষেপের পর, সব জেলা ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীদের জন্য ব্যক্তিগত নিরাপত্তা উপকরণ (পিপিই) পৌঁছে গেছে। সেই সঙ্গে পরীক্ষার জন্য রোগতত্ত্ব
, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সঙ্গে ঢাকার মহাখালীতে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও চট্টগ্রামে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজে শুরু হয়েছে পরীক্ষ নিরীক্ষা। বলাবাহুল্য যে, গত ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার থেকে দেশব্যাপী টানা ১০ দিনের ছুটিতে মানুষের স্থানান্তর বন্ধ করতে নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। সারা দেশেই সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাবের জোরদার টহল লক্ষ করা যায়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ সংস্থা সমুহ বিভিন্ন জায়গায়ই সচেতনতা বাড়াতে মাইকিং করাসহ রিফলেট, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা উপকরণ ও জীবাণুমুক্তকরণ ঔষধ ছিটানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এসব জীবাণুনাশক রাস্তা, ড্রেন ও খোলা জায়গায় ছিটানো হয়েছে। একই সঙ্গে গরিব ও দুস্থ মানুষ, যারা কাজে যেতে পারছে না, তাদের খাদ্য-পানীয়সহ আর্থিক সহায়তায় এগিয়ে আসছে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
তবে এসব স্বস্তিদায়ক খবরের পাশাপাশি বেশ কিছু অস্বস্তির খবরও আছে। এক শ্রেণির মানুষ করোনাকে পুঁজি করে নানা ধরনের গুজব রটাতে ব্যস্ত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে নানা কথা। এ সুযোগে অনেকে ধর্ম নিয়েও নানা বিকৃত তথ্য দিচ্ছেন। প্রকাশিত খবরে দেখা যাচ্ছে, একটি ফেসবুক আইডিতে বলা হয়েছিল, ‘করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে হলে রাত ১০টায় সারা দেশে আজান দিতে হবে।’ বিষয়টি দেখে ফেসবুকে শেয়ার করে ও মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে দেওয়া হয় আরেক জেলায়। গত বৃহস্পতিবার রাতের ওই সময়ে শুরু হয় আজান দেওয়া। আবার এ আযান নিয়ে নানা মত ও বিতর্কও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরের দিন রাতে গুজব ছড়ায়, ভূমিকম্প ও কিয়ামত আসছে। আতঙ্কিত মানুষজন ঘরবাড়ি থেকে বাইরে বের হয়ে আসে। কালিজিরা, গোলমরিচ আর আদা পিষে খেলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবে না মানুষ এমন কথাও রটানো হয়েছে। আমরা মনে করি, এদেশের মানুষ ধর্মভীরু। সেই হিসাবে এদেশে ধর্ম সম্পর্কে শরিয়তের সঠিক ব্যাখ্যা দেন এমন আলেমও কম নেই, এছাড়া সরকারের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাউন্ডেশনও রয়েছে। সুতরাং এ মহামারি থেকে রক্ষায় বৈজ্ঞানিক নির্দেশনার পাশাপাশি ধর্মীয় কোন বিষয় থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই বলার একমাত্র অধিকার সংরক্ষণ করে। আমরা মনে করি, এ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ দেশের সবকটি ধর্মীয় সংস্থার কর্তাদের একটি নির্দেশনা দেয়া উচিত। একইসাথে যে কেউ মনগড়া ধর্মীয় ব্যাখ্যা যেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ না করে, এ ব্যাপারে সকলকে সতর্ক থাকা এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি জরুরি। এছাড়া কোন কোন মহলের পক্ষ থেকে, পরিকল্পিতভাবে ভুয়া তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে করোনাভাইরাস নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপকে অকার্যকর এবং ব্যর্থ প্রমাণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে, তা হতেও আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। সরকারের পক্ষে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হবে-এমন প্রত্যাশা আমাদের।
করোনা নিয়ে আরো একটি সুখবর হচ্ছে ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চলছে জার্মানসহ বিভিন্ন দেশে। শিগ্রই ভ্যাকসিন চলে আসবে। মানুষের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হবে। করোনার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন আমরা ইনশআল্লাহ সেই যুদ্ধে জয়ী হবো।