সীমান্তে সক্রিয় রাখাইন সন্ত্রাসীরা আটক ১২

উখিয়া প্রতিনিধি

20

উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন স্থানে রোহিঙ্গা অবস্থানের সুযোগে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ী, ডাকাত ও রাখাইন সন্ত্রাসীচক্র। বিজিবি, র‌্যাব পৃথক অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, গোলাবারুদ, মাদক ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সহ ১২ জন সন্ত্রাসীকে আটক করেছে।
র‌্যাব ও বিজিবি’র সাথে কথা বলে জানা গেছে, এসব চক্রের সদস্যরা মিয়ানমার থেকে বিদেশি মদ সরবরাহ করে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে দালালের মাধ্যমে পাচার করে আসছে। তারা সুযোগ বুঝে বসতবাড়ি ডাকাতি ও পথচারীদের সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়। বুধবার রাতে সীমান্ত এলাকায় ৭/৮ অস্ত্রধারীর ডাকাতির প্রস্ততির খবর পেয়ে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে তাদের অবস্থানস্থল ঘিরে ফেলে। এসময় ডাকাতদল পালানোর চেষ্টা করলে র‌্যাব ধাওয়া
ষ পৃষ্ঠা ১১, কলাম ৩
ষ প্রথম পৃষ্ঠার পর
করে একটি দেশিয় তৈরি বন্দুক, ৩ রাউন্ড গুলি ও ১টি কিরিচসহ মৃত ইসলামের ছেলে নুরুল আলম প্রকাশ সোনা মিয়া(২২), মৃত আব্দুস সালামের ছেলে মোতাহারকে(২৫) আটক করে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় সোপর্দ করে। গত ৩০ জানুয়ারি মিয়ানমার থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মাদকদ্রব্য নিয়ে পাহাড়ি পথ দিয়ে আসার সময় বিজিবি সদস্যরা সীমান্তের গর্জনবনিয়া এলাকার রাখাইন চাচিঅং এর ছেলে বেগ্যাইয়া তংচংগ্যা(২৮), উগমং এর ছেলে হ্লাহাই তংচংগ্যা(২৫), উচিগ্যার ছেলে নুনাঅং তংচংগ্যা (১৮), মৃত চচিঅং এর ছেলে ছোলাঅং তংচংগ্যা(১৮) সহ ৪ জনকে আটক করে। র‌্যাবের কক্সবাজারস্থ কোম্পানি কমান্ডার মেজর রুহুল আমিন জানান, আটককৃতদের নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় সোপর্দ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। এর আগে সীমান্তের বাইচাং এলাকায় আব্রাহাম ত্রিপুরা(৪২), অনাথ চন্দ্র ত্রিপুরা(২১), সুতিরাম ত্রিপুরা(৪০), গুনমনি ত্রিপুরা(৪৮), মিন্টু চন্দ্র ত্রিপুরা(৪০), জয় চন্দ্র ত্রিপুরা(৪৮) সহ ৬ জন রাখাইন ত্রিপুরা সীমান্ত এলাকায় গভীর জঙ্গলে বসে শলাপরামর্শ করছিল। স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিজিবি ৬ জন ত্রিপুরীকে আটক করে। তাদের কাছ থেকে টর্চলাইট, মোবাইল ও সোনালী ব্যাংকের চেক সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধার করে। নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর শেখ জানান, ধৃত ত্রিপুরা যুবকরা জেএসএসের সদস্য বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসীচক্র সীমান্ত এলাকায় তৎপর হয়ে উঠেছে। এরা সুযোগ পেলে ডাকাতি, অপহরণ, মাদকপাচারসহ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হয়। যার ফলে এলাকায় বসবাসরত সাধারণ লোকজনকে আতংকে রাত কাটাতে হয়।