সীতাকুন্ড ইকোপার্কসহ বিভিন্ন স্থানে দর্শনার্থীদের ভিড়

জাহেদুল আনোয়ার চৌধুরী, সীতাকুন্ড

8

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে র ফকিরহাটে অবস্থিত উপজেলার একমাত্র সরকারি বিনোদন কেন্দ্র বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক। আগত দর্শনার্থীদের পার্কে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ থাকলেও পার্ক ঘুরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ফেনী থেকে আসা কয়েকজন তরুণ। পবিত্র ঈদুল ফিতরের কয়েক দিন অতিবাহিত হতে চললেও সীতাকুÐ ইকোপার্কে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়। সকাল থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত হাজার হাজার দর্শনার্থী ঈদ বিনোদনে পরিবার-পরিজন আবার কেউবা কপত-কপতি পার্কে আসতে দেখা যায়। অপরদিকে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী বিচে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজার হাজার দর্শনার্থী জড়ো হতে দেখা যায়। এছাড়া ভাটিয়ারী গলফ এলাকায় সূদৃশ্য পাহাড়ের মাঝপথে সড়ক দু-পাশে বড় বড় লেক ও পাহাড় দর্শনার্থীদের মন কাঠছে। সূত্রে জানা যায়, পাখ-পাখলির কলরব,প্রবাহমান প্রাকৃতিক ঝরণা, মনোমুগ্ধকর চিরসবুজ বৃক্ষরাজি সমাহারে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে উঠেছে এ বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কটি। কোয়াটারনারী প্লিওসিন ভূতাত্তি¡ক যুগে ভূপিটিলা সিরিজের ও অপার মিডল টিপাম সেন্ডষ্টোনে তৈরী বোটানিক্যাল গার্ডেনে গর্জন, ধারমারা, ডেউরা, হলুদ, বাঁশপাতা, বহেরা, জারুল, পলাশ, সোনালু, শিমুল, হরিতকি, আমলকি ও বিরল প্রজাতির সাইকাসসহ রয়েছে ১৪৫ প্রজাতির উদ্ভিদ। এছাড়া হরিন, ভালুক, খরগোশ, মায়া হরিণের মত বিরল বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আনাগোনায় দর্শনার্থী ও পর্যটকের কাছে আরো আকর্ষনীয় হয়ে উঠেছে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক। পার্কের প্রবেশদ্বারে শাপলা ফুলে সজ্জিত পুকুর, নজরুলের মোরাল ও দেশী-বিদেশী বিভিন্ন ধরনের বাহারী ফুলের বাগান অনায়াসেই পর্যটকের মন কেড়ে নেয়। একইভাবে পার্কের প্রবেশমূখের দু-পাশে শিশুদের জন্য রয়েছে বিনোদনের পাশাপাশি খেলা-ধুলার মনমুগ্ধকর পরিবেশ। পার্কের সহস্রধারা ও সুপ্তধারার মত প্রবাহমান ঝর্ণা ও গোধুলীর রক্তিম সভায় তৈরী করা বোটানিক্যাল গার্ডেনের নৈসর্গিক পরিবেশ দেখতে প্রতিবছর ঈদ ও ঈদ পরবর্তী দূর-দূরান্তের দর্শনার্থী ও পর্যটকের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে পার্কটি। এ সময় দর্শনার্থী ও পর্যটকের পাশাপাশি পার্কে ঘুরতে আসে উপজেলার স্থানীয় প্রকৃতি প্রেমী লোকজন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদে পার্কে দর্শনার্থীদের উপচে-পড়া ভিড়। পার্কের শেষ ভাগে ঝর্ণায় নামার স্থানে সীতাকুÐ মডেল থানার পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত। পাশাপাশি পার্ক কতৃপক্ষ তাদের নিজস্ব উদ্দ্যোগে ১০ জন সেবাকর্মী রেখেছে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কাজে। এরা ভাগ ভাগ করে পার্কের বিভিন্ন স্থানে নিয়োজিত রয়েছে। একইভাবে পার্কের শেষভাগে চন্দ্রনাথ পাহাড় পাশবত্বী এলাকায় স্পষ্ট ভাবে বোর্ডে লিখা রয়েছে,এখানে পাহাড় এলাকা শেষ, এরপর গেলে আপনারা (দর্শনার্থীরা) নিজ উদ্দ্যোগে যাবেন। তবে পার্কের ভিতরে মূল গেইটের প্রবেশদ্বার থেকে শেষ ঝর্ণা পর্যন্ত সিএনজি অটো-রিক্সার চালকরা বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছে দর্শনার্থীরা। ফেনী সদর এলাকা থেকে আসা সজিব ও আবিরসহ ১০-১২ জন তরুণ অভিযোগ করে বলেন, মূল গেইটে ডুকতে ঈদ উপলক্ষে প্রবেশ মূল্য বাড়তি রাখছে, সরকারি পার্ক টিকেট কেটে প্রবেশ করতে হচ্ছে কিন্তু পার্কের ভিতরে সরকারি, বেসরকারি কোন লোক নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত ছিল এটা চোখে পড়েনি। নিরাপত্তার অভাব রয়েছে, তবে পুরো পার্ক ঘুরে আসার পর পার্কের সৌন্দর্য্য, মনমুগ্ধকর পরিবেশ মন জুড়িয়ে গেছে।
দর্শনার্থী আকৃষ্ট করতে আরো বেশি বেশি করে সৌন্দর্য্য বাড়ানো দরকার বলে আমরা মনে করি। ছেলে-মেয়ে, নাতি-ফুতি নিয়ে ইকোপার্কে বেড়াতে আসা ৬০ উর্দ্ধ বয়সি জমিলা বেগম বলেন, সু-উচ্চ পাহাড়ের চড়ায় ঝর্ণা, ঝর্ণায় উঠা-নামায় আমাদের মত বয়স্ক ও আমার নাতি-ফুতির মত শিশুদের খুব কষ্ট হয়, তাই আমাদের বয়স্ক ও শিশুদের কথা চিন্তা করে সরকার যদি ঝর্ণা উঠা-নামায় কোন সহজ উপায় বের করতো তাহলে আরো বেশি বেশি দর্শনার্থী হত। সীতাকুÐ বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের ইজারাদার ও মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, ঈদের গত কয়েকদিন অতিবাহিত হতে চললোও,আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি দর্শনার্থীদের বিভিন্ন ভাবে সেবা প্রদানে। পার্কের ভিতরে সরকারি পুলিশ ছাড়াও আমরা নিজস্ব উদ্দ্যোগে দর্শনার্থীদের জন্য সেবাকর্মী নিয়োজিত করেছি, সেগুলো পার্কে কোন রকম অনাকাজ্ঞিত ঘটনা ঘটার আগে আমাদের তথ্য দিবে, আর আমাদের পার্কের উল্লেখ্যযোগ্য স্থান সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত। কোন অপরাধী অপরাধ করার আগে আমাদের সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়বে, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনও আমাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করছে বলেও ইজারাদার স্বীকার করেন।