সীতাকুন্ডে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে তিন শ্রমিক নিহত

পুরাতন জাহাজের তেল বের করার সময় আক্রান্ত হন তারা

সীতাকুন্ড প্রতিনিধি

43

সীতাকুন্ডে শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে অবৈধ কালো তেলের বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরো চার শ্রমিক। গতকাল বুধবার দুপুরে সোনাইছড়ি ইউনিয়নের চৌধুরীঘাটা এলাকায় শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া থানার গফ্ফর মাদবরের পুত্র তেল শ্রমিক মোহাম্মদ রাসেল (২৮) ও মৃত আমজাদ আলীর পুত্র মো. নান্টু (২৫) এবং কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়িয়া থানার আবু তালেবের পুত্র মো. ছবিদুল (২৪। আহতরা হলেন সীতাকুন্ডের সোনাইছড়ি শীতলপুর এলাকার মো. হোসেনের পুত্র আকবর হোসেন (২৭), বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের বড় দারোগারহাট এলাকার মুসলিম উদ্দিনের পুত্র রবিউল ইসলাম (৩৯), নোয়াখালী জেলার সেনবাগ থানার আবদুল মালেকের পুত্র মো. মাসুদ (৩৪) ও খুলনা জেলার বাগেরহাট থানার সিদ্দিকুর রহমানের পুত্র হাসিবুর রহমান (২২)।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই জহিরুল ইসলাম বলেন, বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে পুরাতন জাহাজে গ্যাসে আক্রান্ত তিন শ্রমিককে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
জানা যায়, সোনাইছড়ি ইউনিয়নের চৌধুরীঘাটা এলাকার মাস্টার কাসেমের মালিকানাধীন ম্যাক করপোরেশন শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে আমদানিকৃত একটি পুরাতন স্ক্র্যাপ জাহাজ ইয়ার্ডে বিচিং করে কয়েক মাস আগে। বিচিং পরবর্তী জাহাজের বিভিন্ন মালপত্র বিক্রিও করে। এরই ধারাবাহিকতায় পুরাতন জাহাজের মজুদ করা কালো তেল বিক্রি করে এক তেল ব্যবসায়ীর কাছে। গতকাল সকালে কালো তেল ব্যবসায়ীর একজন তেল শ্রমিক ও দুই লোহারি জাহাজে উঠে। দুপুরের দিকে আবার মুখে সেফটি ম্যাক্স নিয়ে তেলের ট্যাংকি ছিদ্র করার সময় গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে তিন শ্রমিক গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করতে গেলে আরো কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। তাদেরকে উদ্ধার করে ভাটিয়ারিস্থ বিএসবিএ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে আশংকাজনক অবস্থায় তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে ডাক্তার তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
সীতাকুÐ থানার ওসি মো. দেলওয়ার হোসেন বলেন, ‘ম্যাক শিপইয়ার্ডে শ্রমিক গ্যাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি শোনার সাথে সাথে আমি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। পুরাতন জাহাজের তেল বের করার সময় গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে পড়েন শ্রমিকরা। পরে তাদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতলে নিয়ে গেলে সেখানখার কর্তব্যরত ডাক্তার তাদের মৃত ঘোষণা করেন। শ্রমিক নিহতের বিষয়ে আমরা অপমৃত্যুর মামলা করবো।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন রায় বলেন, ‘আমি দুর্ঘটনার বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থলে এসিল্যান্ডকে পাঠিয়েছি। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে যদি ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ দোষী সাব্যস্ত হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’