মোবাইল ফোন চুরির সন্দেহ

সীতাকুন্ডে নিরীহ যুবককে পিটিয়ে মারল এসআই!

জাহেদুল আনোয়ার চৌধুরী, সীতাকুন্ড

64


সীতাকুন্ডে পুলিশের মোবাইল ফোন চুরি করেছেন সন্দেহে মো. এজাহার মিয়া (২৬) নামে এক নিরীহ যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছেন পুলিশের এসআই মো. ইকবাল পারভেজ রায়হান। তিনি বর্তমানে খাগড়াছড়ির পুলিশ লাইনে ট্রেনিং শাখায় আর.আর.এফ এর দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া তিনি সীতাকুন্ডের ভাটিয়ারি কলেজ পাড়ায় বাড়ি করে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। এছাড়া নিহত যুবক উপজেলার ভাটিয়ারি ৪ নং ওয়ার্ড এলাকার অলি গাজির বাড়ির মফিজুর রহমানের পুত্র।
এদিকে পুলিশ এজাহার হত্যায় পুলিশ কর্মকর্তা ইকবাল পারভেজ রায়হান ও তার ভগ্নিপতি মিজানুর রহমানকে আটক করেছে।
জানা যায়, গত ১৩ অক্টোবর স্থানীয় শিপ ব্যবসায়ী হারুনের মোবাইল ফোন চুরি হলে একই এলাকার জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে যুবক এজাহারকে ডেকে মোবাইল চুরির বিষয়টি অবগত করেন এবং চুরি করে থাকলে ২-৩ দিনের মধ্যে তা ফেরত দিতে বলেন। এ সময় ঘটনাস্থলে হাজির হন পুলিশ কর্মকর্তা মো. রায়হান। তিনি দাবি করেন, এজাহার তার বোনের মোবাইল ফোনও চুরি করেছেন। এরপর থেকে এজাহার ভয়ে এলাকা থেকে পালিয়ে যান। পরে এজাহারের স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়িকে পুলিশ কর্মকর্তা মো. রায়হানের বাসায় ডেকে নিয়ে তাদের ন্যাশনাল আইডি কার্ড নিয়ে নেন এবং বলেন এজাহারকে হাজির করতে। সোমবার রাতে এজাহারকে নিয়ে তারা রায়হানের বাসায় যান। রাতভর রায়হান নিজ বাসায় এজাহারকে দড়ি দিয়ে বেঁধে পিটাতে থাকেন সবার উপস্থিতিতে। এক পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে যান এজাহার।
গতকাল মঙ্গলবার ভোরে এজাহারকে চোর উল্লেখ করে ভাটিয়ারি ইউনিয়ন পরিষদে বুঝিয়ে দিতে যান রায়হান। কিন্তু চৌকিদার গ্রহণ করতে রাজি হননি। এরপর এজাহারের স্ত্রী ও শাশুড়ি তাকে স্থানীয় বিএসবিএ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এজাহারের শাশুড়ি মরিয়ম বেগম জানান, পুলিশ কর্মকর্তা রায়হান আমাদের সবার আইডি কার্ড নিয়েছে। আমরা সকলে ফ্যাক্টরিতে চাকরি করি। সোমবার আইডি কার্ডের জন্য গেলে তিনি এজাহারকে হাজির করলে আইডি কার্ড ফেরত দিবেন বলে জানান। এ বিশ্বাসে আমরা সোমবার রাতে এজাহারকে নিয়ে রায়হানের বাসায় যাই।
এরপর রায়হান দড়ি দিয়ে বেঁধে এজাহারকে রাতভর পিটান। মঙ্গলবার ভোরে এজাহারকে অজ্ঞান অবস্থায় চৌকাদারকে বুঝিয়ে দিতে গেলে উনি গ্রহণ না করায় তাকে রাস্তায় ফেলে চলে যান। পরে আমরা হাসপাতালে নিতে
চাইলে পথেই মৃত্যু হয় এজাহারের।
স্থানীয় রাসেল নামে এক যুবক বলেন, পুলিশ রায়হানের বাড়ি অন্য জেলায় হলেও তিনি এখানে বাড়ি করেন এবং ভাটিয়ারিতে তার নিজের দুইটি কার ও দুটি মাইক্রোবাস রয়েছে। তার দাপটে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। এ বিষয়ে সীতাকুন্ড থানার ওসি তদন্ত মো. শামীম শেখ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এজাহারের আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলেছি। প্রাথমিক তদন্তে আমরা অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা রায়হান ও তার ভগ্নিপতিকে আটক করেছি। মামলার প্রস্তুতি চলছে।