সীতাকুন্ডে দুই প্রতিবন্ধি ভিক্ষুককে ঘর দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান

সীতাকুন্ড প্রতিনিধি

17

প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী আশ্রয়হীনকে আশ্রয় দাও, গৃহহীনকে গৃহ। এ কথার বাস্তব রূপ দেখিয়েছেন সীতাকুন্ড উপজেলার ৫নং বাড়বকুন্ড ইউপি চেয়ারম্যান সাদাকাত উল্ল্যাহ মিয়াজি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি ঘোষণা দেন, দেশে কোন আশ্রয়হীন ও গৃহহীন থাকবে না, সকলকে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে। আমি একজন ইউপি চেয়ারম্যান হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কথা বাস্তবায়নের লক্ষে দুই প্রতিবন্ধি ভিক্ষুককে নিজ অর্থায়নে ঘর করে দিয়ে আশ্রয়ন ব্যবস্থা করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। আমার ইউনিয়নে যতটুকু সম্ভব এ ধরনের ভিক্ষুক অথবা কোন অসহায় লোক যদি ঘর না থাকে তাহলে আমি ঘর করে দিব। সরকারি অর্থের দিকে না তাকিয়ে আমার মত সমাজের বৃত্তবানরা এসব অসহায় মানুষের পাশে দাড়ালে সমাজ আরো উন্নত হবে বলে আমি মনে করি।’
জানা যায়,সীতাকুন্ড উপজেলার বাড়বকুন্ড ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড মৃত ওবায়দুল হকের মো.নুরুল আলম(৬৭)জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধি। শারীরিক অসুস্থতায় কাজ-কর্ম করতে না পারায় সে ভিক্ষা করে সংসার জীবন চালাতেন। জীবন-সংসারে এই প্রতিবন্ধির তেমন কোন কিছু না থাকলেও পৈত্রিক সূত্রে ৪ শতক জমি পেয়েছেন। কিন্ত জমি থাকলেও ঘর করার মত অবস্থা তার এই বয়সে হয়ে উঠেনি। শুষ্ক মৌসুমে নিজ ভিটায় দিন-রাত্রি যাপন করলেও বর্ষা মৌসুমে পরের ঘরে রাত্রি যাপন করতে হয়। প্রতিবদ্ধি আলমকে গৃহহীন অবস্থায় দেখে স্থানীয় চেয়ারম্যান সাদাকাত উল্ল্যাহ ঘর করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতিশ্রুতি মোতাবেক চেয়ারম্যান টিন ও শক্ত কাঠের তৈরি একটি ঘর করে দেন প্রতিবন্ধি আলমকে। ঘর পেয়ে স্বামী-স্ত্রী দুইজনই খুশি। একইভাবে ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা দৃষ্টি প্রতিবদ্ধি মো. ইব্রাহিম। দৃষ্টি প্রতিবদ্ধি হয়ে নিসন্তান স্বামী-স্ত্রী থাকেন নিজ ভিটায় জরাজীর্ণ ঘরে। বৃষ্টি আসলে ঝর ঝর করে পানি পড়ে। রাতে না ঘুমিয়ে বৃষ্টির মধ্যে কোন রকম দিন-যাপন করেন। সংসার জীবনে নিজেই প্রতিবন্ধি,তার উপর নিসস্তান হওয়ায় জীবনের কোন পরিবর্তন করতে পারেন নি ইব্রাহিম। কোন রকম ভিক্ষা করে স্বামী-স্ত্রীর সংসার চালান। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যর মাধ্যমে চেয়ারম্যান জানতে পেরে ঘর করে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় এবং বর্তমানে ইব্রাহিমের নতুন ঘরের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সামনের বর্ষায় ইব্রাহিম দম্পতিকে আর রাতে না ঘুমিয়ে কাটাতে হবে না।
দুই ওয়ার্ডের মাঝের বাসিন্দা স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ সুলতান আহাম্মেদ বলেন,‘আমার জানা মতে দীর্ঘদিন প্রতিবন্ধি নুরুল আলম অন্যের ঘরে, বারান্দায় ঘুমিয়ে জীবন কাটাতো,এখন ঘর পেয়ে তারা খুবই আনন্দিত। একইভাবে ইব্রাহিম দৃষ্টি প্রতিবন্ধি হওয়ায় জায়গা থাকলেও ঘর করার সামর্থ্য ছিল না। দুইজনই নিসন্তান হওয়ায় জীবনে কখনো ঘর করে জীবন -যাপন করার কোন উপায় ছিল না। শুনেছি আমাদের চেয়ারম্যান সাহেব তাদেরকে নিজ অর্থায়নে ঘর করে দিয়েছে। এটা অত্যন্ত ভাল কাজ। চেয়ারম্যান সাহেব আল্লাহর কাছে ভাল ফল পাবে।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিবদ্ধি নুরুল আলমের স্ত্রী হারেছা খাতুন কান্না ও আবেগজনিত কণ্ঠে বলেন,নিসন্তান এই জীবনে আমার কোন চাওয়া-পাওয়া ছিলনা, ভিটা থাকলেও আমার স্বামীর পক্ষেও বসতঘর করা সম্ভব ছিল না। বাকি জীবন আমরা না খেয়ে থাকলেও শান্তিতে ঘুমাতে পারবো। চেয়ারম্যান আমাদের আশ্রয় দিয়েছে, আল্লাহ উনার ভাল করবে,আমি আল্লার কাছে দোয়া করছি।’