সাগরে মাছ ধরার সীমানা নিয়ে দ্বন্দ্ব

সীতাকুন্ডে জেলেদের দেড় ঘণ্টা সড়ক অবরোধ, দুর্ভোগ

সীতাকুন্ড প্রতিনিধি

11

সীতাকুন্ডে সাগরে মাছ ধরা নিয়ে দুই জেলে সম্প্রদায়ের সীমানা বিরোধের ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেড় ঘণ্টা অবরোধ করেছে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের মির্জানগর জেলেপাড়ার বাসিন্দারা। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় উভয় ইউনিয়নের জেলেদের পূর্ব নিধারিত বৈঠক ছিল। কিন্তু বৈঠক না হওয়ায় সকাল সাড়ে এগারটার থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত দেশের ব্যস্ততম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে জেলে সম্প্রদায়।
জানা যায় নির্ধারিত সময়ে ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান-মেম্বারবৃন্দ আসলেও ফৌজদারহাট জেলে সম্প্রদায় না আসায় বৈঠক হয়নি। এতে বিক্ষুব্ধ মির্জানগরের জেলেরা মহাসড়ক অবরোধ করেন।
জানা যায়, দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে দুই জেলে সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমানা নিয়ে দ্ব›দ্ব চলে আসছে। সরকার আসে সরকার যায় কিন্তু এই দ্ব›দ্ব নিরসন হয় না। গতকাল সোমবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের দুই সার্ভেযারসহ দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যগণ জেলে সর্দারদের নিয়ে বৈঠকে বসার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ফৌজদারহাট জেলে সম্প্রদায় বৈঠকে না আসায় ভাটিয়ারী জেলে সম্প্রদায়ের শত শত পুরুষ-মহিলা মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে যানজটে আটকা পড়ে শত শত গাড়ি। এ সময় যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
পরে পুলিশ ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগামী ৩ আগস্ট দুই জেলেপাড়ার সাগরে সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তিতে পুনরায় বৈঠকে বসার আশ্বাস দিলে জেলেরা অবরোধ তুলে নেয়।
জানা যায়, উপজেলার উত্তর ছলিমপুর জেলেপাড়ায় প্রায় দুই শতাধিক জেলে পরিবার রয়েছে। অপর দিকে তাদের উত্তরে রয়েছে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের মির্জানগর জেলেপাড়া। এই দুই জেলে পাড়ার মধ্যে ১৯৯০ সাল থেকে সাগরে মাছ ধরা নিয়ে সীমানা বিরোধ চলে আসছে। সীতাকুন্ডের প্রতি জেলে পাড়ার জন্য সাগরে মাছ আহরণের স্থান নির্ধারিত রয়েছে। তবে এই দুই জেলে পাড়ার অবস্থা ভিন্ন। তাদের কোনো নির্ধারিত সীমানা নেই। ফলে প্রতিনিয়ত সীমানা নিয়ে বিরোধ লেগেই রয়েছে।