সিলেটকে বিদায় করে আশা বাঁচিয়ে রাখল রাজশাহী

ক্রীড়া প্রতিবেদক

26

টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে রাজশাহী কিংস ও সিলেট সিক্সার্স দু দলেরই জয়ের বিকল্প ছিল না। সিলেটের হাতে এর পরে একটি ম্যাচ বাকি থাকলেও, নিজেদের শেষ ম্যাচটি খেলতে নেমেছিল রাজশাহী। তাতে সিলেট সিক্সার্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে নিজেদের কাজটি শেষ করে রাখলো তারা।
গতকাল দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৯ রান সংগ্রহ করেছে সিলেট সিক্সার্স। জবাবে দুই ওভার ও পাঁচ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলে নেয় রাজশাহী কিংস।
১৯০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৪ রানে জাকির হোসেনকে (৭) হারায় রাজশাহী কিংস। তাসকিনের বলে এবাদত হোসেনের তালুবন্দী হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। এরপর শাহরিয়ার নাফিসকে নিয়ে ঝড়ো ইনিংস খেলে যাচ্ছিলেন জনসন চার্লস। তবে ৫৬ রানের মাথায় নাফিসকে ফেরান কাপালি। ৬.৬ ওভারে ব্যক্তিগত ৯ রানে নাফিস ফেরার দুই ওভার পরে অর্থাৎ ৮.৪ ওভারে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা জনসন চার্লসকেও সাব্বিরের তালুবন্দী করেন অলক কাপালি। যাওয়ার আগে ২৫ বলে সাত চারের সাহায্যে ৩৯ রান করেন তিনি। জনসন চার্লসকে সাজঘরের পথ দেখালে তার স্থলাভিষিক্ত হন
দুই বিদেশী ইংলিশ ব্যাটসম্যান লাউরি ইভানস ও নেদারল্যান্ডের রায়ান টেস ডয়েসচাট।
এই দুজনের টর্নেডো ইনিংসে দলকে নিয়ে যায় জয়ের দ্বারপ্রান্তে। ১৬.১ ওভারে দলীয় ১৭৩ রানে ডয়েসচাট ব্যক্তিগত ১৮ বলে তিন চার ও দুই ছক্কায় ৪২ রানে প্যাভিলন মুখি হওয়ার দুই বল পরে (১৬.৪) ১৭৭ রানে ফিরেন ইভানস । ইভানস খেলেন ৭৬ রানের অসাধারণ ইনিংস। ৩৬ বলে তার ইনিংসটি ছিল ১০ চার ও ২ ছক্কায় সাজানো। বাকি কাজটুকু সারেন ক্রিস্টিয়ান জনকার (৮*)ও সৌম্য সরকার(২*)। ১৮ ওভার শেষে পাঁচ উইকেট হারিয়ে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। সিলেটের হয়ে অলক কাপালি ও সোহেল তানভির দুটি করে এবং তাসকিন আহমেদ একটি উইকেট নেন।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে সিলেট ইনিংসের প্রথম ওভারেই উইকেট হারায়। দলীয় ১০ রানের মাথায় আরাফাত সানির বলে এলবিডবিøউয়ের ফাঁদে পড়েন লিটন দাস(১০)। পঞ্চম ওভারে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ বানিয়ে জ্যাসন রয়কে(১৩) ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান।
এরপর আফিফ-সাব্বিরের জুটিতে এগিয়ে যেতে থাকে সিলেট। ১১তম ওভারে মিরাজের বলে মোস্তাফিজের হাতে ক্যাচ হন আফিফ। দলীয় ৮৮ রানে ব্যক্তিগত ২৯ রানে আফিফ ফিরে গেলে সাব্বির ও পুরান ৫৩ রানের জুটি গড়েন। ১৬তম ওভারে রাব্বিকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে সীমানার কাছে ডেসকাটের হাতে ক্যাচ হন সাব্বির। ৩৯ বলে চারটি চার ও দুইটি ছক্কার সাহায্যে নিজের ৪৫ রানে সাব্বির ফেরার পরের বলেই উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ হন নওয়াজ। এর পর দলকে ১৮৯ রানে টেনে নিয়ে যান ৩১ বলে ৭৬ রানের দুর্দান্ত অপরাজিত ইনিংস খেলা নিকোলাস পুরান।
রাজশাহী কিংসের বোলারদের মধ্যে কামরুল ইসলাম রাব্বী ২টি এবং আরাফাত সানি, মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোস্তাফিজুর রহমান ১টি করে উইকেট শিকার করেন।