দাবি পুলিশের

সিভিল সার্জনের তথ্যের চেয়ে বিদেশফেরত বেশি

4

হোম কোয়ারেন্টিন বাধ্যতা-মূলকমূলক করে যেসব প্রবাসীর তালিকা চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনের অফিস থেকে দেওয়া হয়েছে, তার চেয়ে ‘অনেক বেশি’ লোক এরমধ্যে বিদেশ থেকে নিজেদের এলাকায় এসেছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
হিসাবের বাইরে থাকা অন্যদের তথ্য সংগ্রহে থানা পুলিশের পাশাপাশি কাজ করছে গোয়েন্দারা।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসেব মতে, চট্টগ্রামে ৯৭৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে আটজনের হোম কোয়ারেন্টিন শেষ হয়েছে। বর্তমানে আরও ৯৬৫ জন কোয়ারেন্টিনে আছেন।
এদিকে প্রবাসীরা ৯৯৯ কিংবা থানায় ফোন করে নিজেদের তথ্য দেওয়ার জন্য পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনার পর থেকে অনেকে স্বেচ্ছায় যোগাযোগ করছেন বলে চট্টগ্রামের একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের হিসেবে, গত ১ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে চট্টগ্রামে এসেছেন ২০ হাজারের বেশি প্রবাসী। যারা চট্টগ্রাম নগরীসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছেন।
এর মধ্যে অন্তত ১০ হাজার লোক চট্টগ্রাম মহানগরীতে অবস্থান করছেন বলে কর্মকর্তাদের ধারণা। এছাড়াও ঢাকা বিমানবন্দর ব্যবহার করেও অনেক প্রবাসী দেশে এসেছেন। পুলিশ সদর দপ্তরের হিসেব অনুযায়ী, মার্চ মাসের ২০ দিনে অন্তত ২ লাখ ৯৩ হাজার প্রবাসী দেশে ফিরেছেন।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের বিশেষ শাখার উপ-কমিশনার আব্দুল ওয়ারিশ বলেন, চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ৯৭৩ জনের তালিকা দেওয়া হলেও শুধু চট্টগ্রাম নগরীতে ৯১৪ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছেন তারা। এরা সবাই ১ থেকে ২০ মার্চের মথ্যে চট্টগ্রামে এসেছেন।
এই তালিকা আরও বড় হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন খোঁজ-খবর নিচ্ছি দেশে আসা প্রবাসীরা সঠিকভাবে হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন কি না সেটার জন্য। অনেকে নিজ থেকে জানাচ্ছেন আবার অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় লোকজনকে ব্যবহার করে প্রবাসীদের ঠিকানা শনাক্ত করা হচ্ছে।’
এজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে জেলা সিভিল সার্জনের তালিকা ছাড়াও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে, কমিউনিটি পুলিশিং এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেশে আসা প্রবাসীদের বিষয়ে খবরাখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল ওয়ারিশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, প্রবাসীরা দেশে ফেরার সময় ইমিগ্রেশনে যে তথ্য ফরমটা পূরণ করেন সেখানে শুধু নাম ও পাসপোর্ট নম্বর দেওয়া থাকে। আবার অনেকে এক ঠিকানা থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে সেখানে অবস্থান না করে অন্য স্থানে অবস্থান করছেন।
এতে করে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা লোকজনকে চিহ্নিত করতে বেগ পেতে হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে গত মঙ্গলবার পুলিশ সদরদপ্তর থেকে নির্দেশনার পর অনেকে থানায় গিয়ে নিজেদের তথ্য দিচ্ছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বাকলিয়া থানার ওসি নেজাম উদ্দিন বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনার পর বুধবার অন্তত ১০ জন তাকে ফোন করে তাদের অবস্থান জানিয়েছেন।
নিজ থেকে জানানোর পাশাপাশি তাদের তথ্যের ভিত্তিতে শনাক্ত করা প্রবাসীদের বাড়িগুলোতে স্টিকার লাগানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে অনেকে বিদেশ থেকে এসে স্বাভাবিকভাবে জনসমাগমে যাচ্ছেন। কোয়ারেন্টিন নিয়ে সঠিক ধারণা না থাকায় বিদেশফেরত এসব লোকদের নিয়েও বিপাকে আছে স্থানীয় প্রশাসন। হোম কোয়ারেন্টিন না মানায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ১৫ জনকে জরিমানাও করা হয়েছে।
প্রবাসীদের মতো অনেক বিদেশিও হোম কোয়ারেন্টিন না মেনে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছেন বলে জানতে পেরেছে চট্টগ্রামের প্রশাসন।
নগরীর খুলশী এলাকায় মঙ্গলবার বিভিন্ন বাসায় অভিযান চালিয়ে ৩০ জনের মধ্যে অন্তত ২০ জনের হোম কোয়ারেন্টিন না মেনে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরির প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম।
ওই সব বিদেশিদের শনাক্ত করে তাদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশনার পাশাপাশি তাদের বাসাগুলোতে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন।
এছাড়া হোম কোয়ারেন্টিন না মেনে বিদেশিদের যাতায়াত থাকায় বুধবার সকালে খুলশী এলাকায় একটি কোরীয় রেস্তোরাঁ সিলগালা করে পাঁচজনকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠায় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিডিনিউজ