সালমানের কারাদন্ড বলিউডের প্রতিক্রিয়া

যোধপুর আদালতে সাইফ-টাবু সোনালি-নীলম

48

দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরপরই তাকে পাঠানো হয় যোধপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তাকে সহানুভূতি দেখিয়ে বলিউডের অনেকেই পাশে দাঁড়িয়েছেন ‘ভাইজান’-এর। যোধপুরের মুখ্য বিচারিক হাকিম দেব কুমার খাতরি বৃহস্পতিবার এই রায়ে সালমানকে কারাদন্ড দেওয়ার পাশাপাশি ১০ হাজার রুপি জরিমানাও করেছেন। রায়ে বিচারক বলেন, “আসামি যেহেতু একজন চলচ্চিত্র তারকা, মানুষ যেহেতু তাকে দেখে, তাকে অনুসরণ করে, আর আসামি যেভাবে নিষ্পাপ হরিণ হত্যা করেছে, আর সেটা যেহেতু অবৈধ শিকার,” সেহেতু সালমানকে পাঁচ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।
এই রায়ে খুব কষ্ট পাচ্ছেন জয়া বচ্চন। তিনি বলেছেন, খারাপ লাগছে। সালমানকে ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল। মানুষের মঙ্গলের জন্য সে অনেক কাজ করেছে। সালমানকে সহানুভূতি দেখানোর জন্য সামাজিক মাধ্যমে সমালোচিতও হচ্ছেন জয়া।
অভিনেত্রী রানি মুখার্জী বলেছিলেন, “আমি সবসময় সালমানের পাশে আছি ।” রানি ছাড়াও ‘রেস-৩’-এর নির্মাতা রেমো ডিসুজা, ‘বিগ বস ১১’র বিজয়ী শিল্পা শিন্ডেসহ অনেকেই এই বলিউড অভিনেতার পাশে দাঁড়িয়েছেন। বলিউডের বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা সুভাষ ঘাই টুইট করে বলেছেন, “আমি ভীষণ দুঃখ পেয়েছি । তবে ভারতীয় বিচারব্যবস্থার উপর সম্পূর্ণ আস্থা আছে। চূড়ান্ত বিচারের আবেদন জানানোর জন্য অনেক দরজা খোলা আছে। সালমান ইন্ডাস্ট্রি এবং গণমানুষের খুব ভালোবাসার মানুষ।”
অভিনেতা অর্জুন রামপাল লিখেছেন,“ আইন নিজের পথেই চলবে। তা নিয়ে কিছু বলার নাই। এখন আমার নিজেকে অসহায় মনে হচ্ছে। সালমান ও তার পরিবারের পাশে আছি। সালমানকে অপরাধী সাব্যস্ত করা হল, এটা অত্যধিক কড়া। আশা করি তিনি প্রাপ্য ন্যায়বিচার পাবেন।”
একই মামলায় সালমানের সঙ্গেই অভিয্ক্তু ছিলেন কিন্তু এই রায়ে রেহাই পেয়েছেন অভিনেত্রী নীলম । তার স্বামী, অভিনেতা সমীর সোনি বলেছেন, “আমাদের কাছে এই রায় খুশির ব্যাপার হলেও খারাপ লাগছে সালমানের জন্য। কষ্ট পাচ্ছি, ঠিকঠাক ন্যয়বিচার হল না। সালমান খান এধরনের কোনো ক্ষতি করতে পারে না। কেননা তিনি তাদের খুব ভালোবাসেন, এরকম মনে করে টুইট করেছেন অভিনেত্রী সিমি গারওয়েল।
১৯৯৮ সালে সুরজ বরজাতিয়া পরিচালিত ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির দৃশ্যধারণ চলাকালীন যোধপুরের কাছে কঙ্কনী গ্রামে বিরল প্রজাতির দুটি কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের অভিযোগ ওঠে সালমান খানের বিরুদ্ধে। সাইফ আলি খান, নীলম, টাবু ও সোনালি বেন্দ্রের বিরুদ্ধেও ওই একই মামলায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিলো ১৯৯৯ সালে। গত ১৯ বছর ধরে চলে আসা মামলাটির চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়েছে। যোধপুর আদালত প্রাঙ্গণে সোনালি বেন্দ্রেযোধপুর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এরই মধ্যে সেখানে পৌঁছে গেছেন অভিনেতা সাইফ আলি খান, অভিনেত্রী সোনালি বেন্দ্রে, টাবু ও নীলম।
মামলাটির চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছিলো ২০১৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর। চলতি বছরের ২৪ মার্চ দুই পক্ষের প্রশ্ন-উত্তর পর্ব শেষ হয়। এরপর ০৫ এপ্রিল চূড়ান্ত রায়ের তারিখ ঘোষণা করে যোধপুর আদালত।