সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাঙালির ঐতিহ্য

27

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন : হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রতিমা নিরঞ্জনের সুবিধার্থে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে পতেঙ্গা সমূদ্র সৈকতে একটি স্থায়ী ঘাট নির্মাণের ঘোষনা দিলেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এতে পর্যটক সহ সর্বসাধারনের সমুদ্র চরে যাতায়াত এবং পূজার্থীরা স্বাচ্ছন্দে প্রতিমা নিরঞ্জন করতে পারবে। প্রায় ১শ ফুট প্রশস্ত এ ঘাটে একসাথে চারের অধিক প্রতিমা নিরঞ্জন সম্ভব হবে। আগামী বছর এ ঘাট দিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা তাদের প্রতিমা নিরঞ্জন দিতে পারবে। গত শুক্রবার বিকেলে নগরীর পতেঙ্গা সী বীচে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ও চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সিটি মেয়র আ.জ.ম.নাছির উদ্দীন বলেছেন দূর্গাপুজা কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, এটা একটা সামাজিক উৎসবও। এই উৎসব সা¤প্রদায়িক সমম্প্রীতির মাধ্যমে বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। তৈরি হয় সামাজিক মেলবন্ধন। আগামীতেও এই মেলবন্ধনকে দলমত নির্বিশেষে অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। তিনি বলেন মানবতাই ধর্মের শাশ্বত বাণী। ধর্ম মানুষকে ন্যায় ও কল্যাণের পথে আহবান করে। অন্যায় ও অসত্য থেকে দুরে রাখে। দেখায় আলোর পথ। তাই ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার পাশাপাশি সকলকে মানবতার কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শুক্রবার শেষ হয়েছে ৫দিন ব্যাপী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। এই উৎসবকে ঘিরে জনসমুদ্রে পরিণত হয় নগরীর সমুদ্র সৈকত পতেঙ্গায়। দুপুর থেকে প্রতিমাবাহি ট্রাক, পিক-আপ ও ভ্যানগাড়ীগুলো আসতে থাকে সমুদ্র সৈকতে। দুগতিনাশিনী দেবী “মা” দুর্গাকে বিদায় জানাতে সমবেত হন নানা বয়সী ভক্তরা।
চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাড. চন্দন তালুকদার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি কাউন্সিলর ছালেহ আহমদ চৌধুরী, জয়নাল আবদীন, শৈবাল দাশ সুমন, বক্তব্য রাখেন। এ সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দাশ অসিত। প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় ছিলেন পরিষদের অঞ্জন দত্ত ও এড.তপন কুমার দাশ। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উৎপল দত্ত, অরবিন্দ পাল অরুন, লায়ন আশিষ ভট্টচার্য, অধ্যাপক অর্পন কান্তি ব্যানার্জী, সুমন দেবনাথ, সুজিত দাশ, রতত্নাকর দাশ টুনু, রানা বিশ্বাস। সীতন শীল, শীমুল কুমার শীল, হিল্লোল সেন উজ্জল, নটু চৌধুরী, নিখিল ঘোষ, পুলক খাস্তগীর, প্রদীপ শীল,বিপ্লব সেন, অরুন রশ্নি দত্ত প্রমুখ।


খোরশেদ আলম সুজন : শারদীয়া উৎসব এখন শুধু সনাতনী সম্প্রদায়ের নয়, বাঙালীর উৎসবে পরিণত হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন। তিনি গত ১৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার মহানবমীর দিন সকালে এবং সন্ধ্যায় নগরীর হাজারী লেইন, সদরঘাট, আগ্রাবাদ, কৈবল্যধাম ও কাট্টলীর বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সনাতন ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সাথে শারদীয়া শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব মাদারবাড়ী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জহির আহমদ চৌধুরী, ইবনে সালাউদ্দিন, কাজী মাহবুবুল হক এটলি, সরওয়ার মোর্শেদ কচি, আতাউল্লাহ চৌধুরী, আলহাজ আজম খান, মাহবুবুল হক সুমন, ফরহান আহমেদ, মহিলা কাউন্সিলর নীলু নাগ, মোরশেদ আলম, মো. ইলিয়াছ, আব্দুল মালেক, মো. সানাউল্ল্যাহ, মাইনুল হক লিমন, এনামুল হক মিলন, জাহেদ আহমদ চৌধুরী, শিপু বিশ্বাস, মো. হারুন, আবুল হাসান সৈকত, মো. ওয়াসিম, রাজীব হাসান রাজন, এম. ইমরান আহমেদ ইমু, মিজানুর রহমান জনি, সৈকত বিশ্বাস প্রমুখ। সুজন এ সময় সনাতনী সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকারের নিখাদ আন্তরিকতা এবং প্রশাসনের নজরদারির ফলে সারা বাংলাদেশে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং শান্তিপূর্ণভাবে চারদিন ব্যাপী শারদীয়া উৎসব আজ শেষ হতে চলেছে যা বাংলাদেশের জন্য এক বিরল ঘটনা। এক সময় শারদীয়া দূর্গাপূজা সন্নিকটে আসলেই সনাতনী সম্প্রদায়ের মনে উদ্বেগ উৎকন্ঠা দেখা দিতো। কখন যে পূজার আয়োজনের মূর্তি ভেঙ্গে দেওয়া হয়। কখন যে মঠ মন্দিরে ভাংচুর অগ্নিসংযোগ করা হয়। সারা পুজোটাই কাটতো তাদের আতংক ও বিষাদের কালো ছায়ায়। কিন্তু শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের ফলে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন সে সব ঘটনা ভুলতে বসেছে। আজ বাংলাদেশের কোথাও মূর্তি কিংবা মঠ মন্দির ভাঙ্গার কোন খবর নেই। শারদীয়া উৎসব এখন আর শুধু নির্দিষ্ট কোন গোষ্ঠীর উৎসব নয় বাঙালীর উৎসবে পরিণত হয়েছে। তাই যে কোন মূল্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এ অর্জন আমাদের ধরে রাখতে হবে আর এজন্য শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনামূলক নেতৃত্বের কোন বিকল্প নেই। একমাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই পারে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে। সুজন সনাতনী সম্প্রদায়ের পূজার উপহার হিসেবে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দীর্ঘ প্রায় ৬৫ বছরের পুরানো জমির জটিলতার অবসান ঘটিয়ে দেড় বিঘা জমির মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।


মহিউদ্দিন বাচ্চু : চট্টগ্রাম-১০ আসনের আওতাধীন রামপুরা, হালিশহর, উত্তর আগ্রাবাদ, শুলোকবহর, পাহাড়তলী, লালখান বাজার ওয়ার্ডের বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক মো: মহিউদ্দিন বাচ্চু। এসময় তিনি পূজা মন্ডপ পরিদর্শনের বক্তৃতায় বলেন, বিগত দশ বছরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শাসনামলে সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হয়ে দাড়িয়েছে। অতীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে হিন্দু এবং অন্য ধর্মাবলম্বীরা নির্যাতিত হয়েছে। সফল নেতৃত্বে সফলতায় বাংলাদেশে আজ সাম্প্রদায়িকের ভেদাভেদ নেই বললেই চলে। আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশকে এখন সাম্প্রদায়িক রূপে আর চিহ্নিত করা হয় না। বাংলাদেশের মানুষ ও উদার এবং পরমতসহিষ্ণু মানুষের মাঝে ধর্মীয় পার্থক্য বিদ্যমান। কিন্তু সেটা কোনভাবে বিভেদ সৃষ্টি করে না। অন্তত ইতিহাস তাই বলে। হিন্দু সহ অন্য ধর্মের ভাইবোনদের যখন নিজেদের সংখ্যালঘু ভাবতে হবে না আর যখন আমরা তাদের নাগরিক অধিকার পূর্ণরূপে নিশ্চিত করতে পারব তখনই হয়তো কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের অভিমূখে যাত্রা করার আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে। হয়ত তখনই মুক্তিযুদ্ধের সার্থকতা পূর্ণতা লাভ করবে। পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন লায়ন মোহাম্মদ হোসেন, রেজাউল করিম কায়সার, পূজা মন্ডপ কমিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যে ঋষি মহাজন, দুলাল নাথ, সাধন আচার্য্য, রিপন দেবনাথ লিখন, সুমন দাশ, পলাশ দেবনাথ, প্রদীপ নাথ, শারদ দাশ, বাবলু দাশ, তরুণ দাশ, স্বপন কুমার নাথ, ঝন্টু কুমার নাথ, তাজুল দে, বিশু দাশ, রুবেল শীল, সুমন নাথ, বিশ্বজিৎ চৌধুরী, মনোরঞ্জন ঘোষ, অনীল সেন, বড় বাবু, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য মাহাবুব আলম আজাদ, শাখওয়াত হোসেন স্বপন, আবু সাঈদ জন, নুরুল আনোয়ার, আবু বক্কর চৌধুরী, সনত বড়ুয়া, ইকবাল ইকরাম শামীম, কাজলপ্রিয় বড়ুয়া, ওয়ার্ড যুবলীগের ফসিউল আলম সমীর, শে%