সামান্য বৃষ্টিতে ডোবায় পরিণত রাঙ্গুনিয়ার মরিয়মনগর-গাবতল

মাসুদ নাসির, রাঙ্গুনিয়া

12

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগর চৌমুহুনী থেকে ইসলামপুর গাবতল পর্যন্ত সড়কে তীব্র খানাখন্দকে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের অধিকাংশ স্থান ডোবায় পরিণত হয়। সড়কের এ পরিস্থিতি রুখতে গত ১০ বছরে প্রায় ৫ বার বরাদ্দ প্রদান করা হলেও নি¤œ মানের সংস্কার কাজের কারণে অল্পসময়েই তা আবার খান্দখন্দক সড়কে পরিণত হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে সড়ক জুড়ে তীব্র খানাখন্দকের ফলে সৃষ্ট জনদুর্ভোগের স্থায়ী সমাধানকল্পে সাধারণ জনগণের দাবীর প্রেক্ষিতে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের হস্তক্ষেপে ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজটি পায় খাগড়াছড়ি এলাকার জনৈক টিকাদার। তিনি কাজের ওয়ার্ক অর্ডার প্রাপ্তির প্রায় বছর পেরুলেও কাজটি শুরুই করতে পারেননি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে প্রয়োজনীয় সামগ্রীর অভাবে কাজটি দ্রæত শুরু করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগ। কয়েকদিনের মধ্যে পুরাদমে কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তারা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সড়কের অধিকাংশ স্থান জুড়ে তীব্র খানাখন্দক। সম্প্রতি সড়কটিতে পাথর দিয়েছিল সড়ক ও জনপথ বিভাগ। কিন্তু এই পাথর দেওয়ার পর দুর্ভোগ আরও দ্বিগুণ আকার ধারণ করে। এতে এই সড়ক পথে চলাচলে গাড়িতে হেলেধুলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয়রা। যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বাস, ট্রাক, সিএনজি অটোরিক্সা সহ বিভিন্ন যানবাহনে হাজার হাজার যাত্রী চলাচল করে। এই সড়কে খানান্দকের কারণে দুর্ভোগ দীর্ঘদিনের। বাধ্য হয়ে বছরের পর বছর ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে আমাদের। সিএনজি অটোরিক্সা চালক মো. লোকমান জানান, শুনেছি সড়কের পিচ ঢালাইয়ের জন্য বরাদ্দ এসেছে। কিছুদিন আগে দেখলাম সড়কটি খুঁড়ে পাথর দিলেও এরপর থেকে তাদের আর কোন দেখা নেই। এদিকে বর্ষা চলে আসায় বৃষ্টিতে খানাখন্দকের পাশাপাশি এই পাথরের কারণে দ্বিগুণ জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সুত্রে জানা যায়, মরিয়মনগর থেকে ইসলামপুর পর্যন্ত সড়কটি সংস্কারে ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রসস্ত সড়কে পিচ ঢালাইয় প্রদান করা হবে। এছাড়াও সড়কের শান্তিনিকেতন এলাকায় ১৫০মিটার, ধামাইরহাট বাজারে ৫০ মিটার আরসিসি ঢালাই দেওয়া হবে বলে জানা যায়। এছাড়াও সড়কটির মোগলের হাট এলাকায় ১২৫ মিটার গাইডওয়ালসহ প্রয়োজনীয় স্থানে পানি নিস্কাশণে গাইডওয়ালের পাশাপাশি ড্রেনও নির্মাণ করা হবে জানায় সওজ। দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আহমদ ছৈয়দ তালুকদার বলেন, মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় এ সড়কের জন্য বার বার বরাদ্দ প্রদান করেন।
কিন্তু মানহীন কাজের জন্য এটি টেকসই হয় না। স্থায়ী দুর্ভোগ লাঘবের জন্য এখন আবারও বরাদ্দ দিয়েছেন তিনি। এবার বরাদ্দ দিয়ে ১ বছর কেটে গেলেও টিকাদারকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি এই ব্যাপারে রাঙ্গুনিয়ার সাংসদ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কার্যাদেশ পাওয়ার পরও কাজ শুরু না হওয়ার কারণ জানিয়ে সওজ’র চট্টগ্রাম জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ জানান, এই সড়কের কাজের কিছু সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে হচ্ছে সুদূর ভারত থেকে। তাই সড়কটির কাজ শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে। আগামী অক্টোবরের মধ্যে কাজটি সমাপ্ত হবে বলে আশা করি।