সাবমেরিন ক্যাবলে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত সন্দ্বীপে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু

সন্দ্বীপ প্রতিনিধি

15

সাগরের তলদেশ দিয়ে সন্দ্বীপে যাচ্ছে বিদ্যুৎ। বৃহস্পতিবার থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে দ্বীপবাসী। সাবমেরিন বিদ্যুৎ প্রকল্প ও পিডিবির কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে গতকাল বিকেল ৩টায় স›দ্বীপের এনাম নাহার ৩৩/১১ কে.ভি সাব স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা হয়।
জানা গেছে, এ ধরনের সাবমেরিন প্রকল্প দক্ষিণ এশিয়াতে প্রথম। নিয়োজিত ঠিকাদার চায়না কোম্পানী জেডটিটি ১৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। আগামী কয়েকদিন পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালু থাকবে। এ মাসের যে কোন একদিন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন।
প্রকল্পটি ২০১৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর অনুমোদনের পর আন্তর্জাতিক দরপত্র আহŸানের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া ও কার্যাদেশ সম্পন্ন হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান পুরোদমে প্রকল্পের কাজ শুরু করে। রোবটের মাধ্যমে স›দ্বীপ চ্যানেলের তলদেশে মাটি খুঁড়ে ১০ ফুট নীচে ৩৩ কে.ভি ১৬কিমি লাইন স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করা হয়। সাবমেরিন ক্যাবলের ভিতরে রয়েছে ৩ জোড়া তার। চলমান লাইনের ক্যাবলে কখনও কোন সমস্যা দেখা দিলে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ক্যাবলের নিরাপত্তার জন্য এটি মজবুত করে তৈরি করা হয়েছে।
চ্যানেলের স›দ্বীপ ও বাড়বকুÐ উপক‚ল থেকে বাউরিয়া ও বাড়বকুÐ স্টেশন পর্যন্ত ১০ ফুট গভীর ড্রেন কেটে ক্যাবল
লেয়িং করা হয়েছে। ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এ সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে দ্বীপে বিদ্যুৎ সরবরাহ, সংযোগ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য স›দ্বীপে ২টি (বাউরিয়া, খন্তার হাট) ও বাড়বকুÐ এলাকায় একটি সাবস্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। সাব স্টেশনগুলোর সাথে যুক্ত করে বিদ্যুৎ বিতরণের জন্য স›দ্বীপের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন ৭৬ কিলোমিটার লাইন স্থাপনসহ প্রায় ১৫০ কিলোমিটার সরবরাহ লাইন প্রস্তুতের কাজও পুরোদমে চলছে।
বাড়বকুÐ সাব স্টেশন থেকে সাগরের তলদেশ দিয়ে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ স›দ্বীপের বাউরিয়া সাব স্টেশন হয়ে এনাম নাহার ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশনে আসছে। এ সাবস্টেশন থেকে আপাতত পুরাতন ২২০০ গ্রাহক গতকাল থেকে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ পাচ্ছেন।
আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর প্রথম দফায় ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ পাবে দ্বীপের ১০ হাজার পরিবার। দ্বীপে শতভাগ বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে সঞ্চালন লাইনের জন্য সম্প্রতি আরো ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।