সাদার্ন ইউনিভার্সিটি : সাধ্যের মধ্যে বিশ্বমানের শিক্ষা

মো. সাইদুল ইসলাম চৌধুরী

41

এইচএসসি’র পর কোথায় পড়বো, কোন সাবজেক্ট ভালো হবে, সেশনজটে পড়বো কি না এসব চিন্তাগুলো সব সময় শিক্ষার্থীদের উদ্বিগ্ন করে রাখে। কারণ অর্জিত সনদের সাথে জ্ঞানের সামঞ্জস্য না থাকলে ক্যারিয়ার গঠনে সম্মুখীন হতে হয় নানা প্রতিকূলতা। শিক্ষার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এইচএসসি পাস করার পর সময়টা। একটা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত জীবনকে বদলে দিতে পারে। বর্তমানে দেশে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কম নয় এবং এ সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হচ্ছে সব দিক মাথায় রেখে শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোন প্রতিষ্ঠান তাদের জন্য উপযুক্ত হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য কিছু বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ যেমন-ভালো শিক্ষক, অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা, গবেষণার সুযোগ, অরাজনৈতিক স্থিতিশীল পরিবেশ সর্বোপরি গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে যা করণীয় তা কতটুকু হচ্ছে তা বিবেচনায় রেখে ভর্তি হওয়া বাঞ্ছনীয়। শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ও জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে চট্টগ্রামের বেসরকারি সাদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। শুধুমাত্র সনদ নির্ভর নয় বরং গবেষণা ও জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে কীভাবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা যায় সে লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। শিক্ষা বাণিজ্য নিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যে দুর্নাম তাকে পাশ কাটিয়ে সবার সাধ্যের মধ্যে শিক্ষা গ্রহণের দ্বার উন্মুক্ত করে তার অনেকটাই ¤øান করে দিয়েছে সাদার্ন কর্তৃপক্ষ। নাম মাত্র টিউশন ফি-তে সবার সাধ্যর মধ্যে উচ্চ শিক্ষার দ্বার প্রসারিত করেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে গুণগত মান অর্জন, অভিজ্ঞ শিক্ষকবৃন্দ, আপডেটেড সিলেবাস, মানসম্মত ল্যাব, লাইব্রেরি ও শ্রেণিকক্ষ পরিচালনার স্বীকৃতিস্বরূপ অর্জন করেছে আইইবি ও ফার্মাসি কাউন্সিল অ্যাক্রেডিটেশন । শিক্ষামন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের অনুমোদিত সাদার্ন ইউনিভার্সিটি সুদীর্ঘ ১৮ বছর ধরে চট্টগ্রামে শিক্ষাক্ষেত্রে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করছে। ২০১৯ সালে ২ কোটি টাকার শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যায়টি। বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা ও গর্বের বিষয় স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, এমপি ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. শরীফ আশরাফুজ্জামান, সাদার্ন ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সাবেক কৃতি ছাত্র এবং এলামনাই সদস্য। এছাড়াও সাদার্ন ইউনিভার্সিটির ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী প্রকাশ দেব নাথ বিসিএস(তথ্য), ইংরেজি বিভাগের রাজীব দেব নাথ বিসিএস(নিরীক্ষা ও হিসাব) যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে সাদার্ন এর সুনাম ছড়িয়েছেন। শুধু উল্লিখিতরা নয় আরও অসংখ্যা সাবেক শিক্ষার্থী স্ব-স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সাদার্নকে আলোকিত করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস মানে শিক্ষার্থীদের সামনে ভেসে ওঠে বিশাল জায়গা জুড়ে নানা রঙের ভবনে সজ্জিত একটি প্রাণ কেন্দ্র যেখানে তারুণ্যের পদচারণে মুখরিত থাকে সারাক্ষণ। কিন্তু অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে ধারণাটা বদলে যায় যখন শিক্ষার্থীরা ক্লাস শুরু করে । কম বেশি সবার মাঝে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে একটা গÐিবদ্ধ ধারণা থাকে ভাড়া করা কয়েকটি ভবনে সীমাবদ্ধ একটি বিদ্যাপিঠের নাম যেখানে শুধু ক্লাস রুমে আবদ্ধ থাকে শিক্ষা কার্যক্রম। তবে মানুষের সেই চিন্তাধারাকে একেবারে বদলে দিয়ে সুবিশাল জায়গায় চট্টগ্রাম শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে সাদার্ন ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ গড়ে তুলেছে শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের ক্যাম্পাস। বায়েজিদ আরেফিন নগরে ৭ একর জায়গায় বিশ্বমানের শিক্ষার স্বপ্ন গড়ে ওঠেছে বিশাল ক্যাম্পাস যেখানে ক্লাসে আবদ্ধ নয় শিক্ষার পরিবেশ। এছাড়াও আরও তিন একর জায়গায় আবাসিক সুবিধাসহ মিনি স্টেডিয়াম করার পরিকল্পনা রয়েছে সাদার্ন ইউনিভার্সিটির। যেখানে শিক্ষামন্ত্রণালয় ও ইউজিসির নির্দেশনা মতে শহরে মাত্র ১ একর জায়গা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করা সম্ভব সেখানে সাদার্ন ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের আকাঙ্খা বিবেচনা করে ১০ একর জায়গায় ক্যাম্পাস করার উদ্যোগী হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে সাধারণ মানুষের গÐিবদ্ধ ধারণা সম্পূর্ণ পাল্টে নতুন ধারণার সৃষ্টি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। স্থায়ী ক্যাম্পাসে আধুনিক সব সুবিধাসহ নামমাত্র খরচে বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করেছে সাদার্ন ইউনিভার্সিটি। চট্টগ্রামে শহরে সবুজের সমারোহে পরিবেশবান্ধব বিশাল জায়গা নিয়ে নিজেদের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত একমাত্র ইউনিভার্সিটি সাদার্ন। যেখানে প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে নগরীর শব্দ দূষণ ও কোলাহলমুক্ত পরিবেশে লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা শেষ করার পরও ইংরেজিতে দক্ষতায় না থাকায় চাকরী পেতে অনেক হিমশিম খেতে হয় তাই ইংরেজিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সাদার্ন । সাদার্ন ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের ইংরেজিভীতি দূর করে দক্ষতা অর্জনের জন্য আধুনিক ইংলিশ লার্নিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছে। এখানে প্রতিটি শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজি শিখা বাধ্যতামূলক। একাডেমিক উপদেষ্টা হিসেবে ইংরেজি শিখানোর দায়িত্ব পালন করছেন ব্রিটিশ কাউন্সিলের সাবেক পরিচালক ড. মার্ক বার্থোলোমিউ। ইংরেজি দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত কর্মশালা, প্রশিক্ষণ, বেসিক লার্নিং ক্লাস, স্পোকেন ইংলিশ, আইইএলটিএসসহ বিভিন্ন ধরনের শিক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ইংরেজির চর্চা করার সুযোগ রয়েছে এখানে। এছাড়াও ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব ও ব্রিটিশ কাউন্সিল বুক কর্নার এবং সমৃদ্ধ লাইব্রেরির সাহায্যে যেকেউ ইংরেজি দক্ষতা বাড়াতে পারে। শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র চাকরী পিছনে ছুটতে হবে এমন মানসিকতা তৈরি করি না বরং একজন শিক্ষার্থী চাকরী না করেও কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে তার বিকল্প পথ খুঁজে বের সেভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। চট্টগ্রামে সাদার্ন একমাত্র ইউনিভার্সিটি যেখানে প্রতি সেমিস্টারে শিক্ষার্থীদের নিজেদের তৈরি পণ্য দিয়ে উদ্যোক্তা মেলার আয়োজন করা হয়।
সাদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর সূচনাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের অনুমোদিত একটি “ইনস্টিটিউট ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সাফল্যজনকভাবে কয়েক বছর কর্মকাÐ পরিচালনার পর এর প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর সরওয়ার জাহান এবং প্রফেসর ড. ইসরাত জাহান এই ইনস্টিটিউটকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন্। গুণগত শিক্ষার মাধ্যমে জাতিকে বিশ্বের কাছে সুশিক্ষিত জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয়ে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রকল্প পরিকল্পনার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ টিম গঠন করা হয়। উক্ত টিম দক্ষতার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে প্রোজেক্ট প্রোফাইলটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের কাছে ২০০২ সালে পেশ করে। পরবর্তীতে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সুপারিশক্রমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এটিকে একটি নুতন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ২০০২ সালের ২৬ নভেম্বর অনুমোদন প্রদান করে এবং এটিকে সাদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর নামকরণ করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের মাধ্যমে ১৪ জানুয়ারি সাদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের একাডেমিক কর্মকাÐ শুরু হয়। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি “সাদার্ন ইউনিভার্সিটি ফাউন্ডেশনের” পুনর্গঠনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। যা বর্তমানে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের উচ্চ শিক্ষায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে।
কার্যক্রম : সাদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে মিশন ও ভিশন অনুযায়ী এর একাডেমিক কর্মকাÐ পরিচালিত হয়। উন্নত মানের শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠু পরিবেশে পরিচালনা করে সুদক্ষ মানব সম্পদ তৈরির কাজে সাদার্ন ২০০২ সাল থেকে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। বর্তমানে তিনটি অনুষদে ( ব্যবসায় প্রশাসন, কলা ও সমাজ বিজ্ঞান এবং সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং) ৯টি বিভাগে ব্যাচেলর এবং ৭টিতে মাস্টার্স শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী সাদার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে ডিগ্রি নিয়েছে এবং বর্তমানে বিদেশিসহ প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিভাগে অধ্যয়নরত। বর্তমানে ১৮৪ জন শিক্ষক শিক্ষতা করছেন এই প্রতিষ্ঠানে। প্রতিটি বিভাগে রয়েছে একাধিক ফুল টাইম প্রফেসর। সাদার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সময়োপযুগী বাস্তবভিত্তিক আধুনিক শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা, উচ্চ শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকমÐলী নিয়োগ আধুনিক ল্যাব সুবিধা সৃষ্টি এবং শিক্ষা-সহায়ক কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব আরোপের মাধ্যমে সাদার্ন ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও ফলপ্রসূ মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেয়ায় এ বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত বিকাশ লাভ করছে ।
সাদার্ন ইউনিভার্সিটি ট্রাস্ট : প্রফেসর সরওয়ার জাহান এবং প্রফেসর ড. ইসরাত জাহানের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় সার্বিক দিক নির্দেশনা প্রদান-এর জন্য বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের নিয়ে গঠিত ২০০৫ সালে পুনর্গঠনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে সাদার্ন ইউনির্ভার্সিটি ট্রাস্ট। বিশিষ্ট শিল্পপতি এবং কেডিএস গ্রæপের চেয়ারম্যান আলহাজ খালিলুর রহমান সাদার্ন ইউনির্ভার্সিটি ট্রাস্ট-এর বর্তমান চেয়ারম্যান। এছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন বাংলাদেশ শিপ ব্রেকিং এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব লিয়াকত আলী চৌধুরী ও মোস্তফা গ্রæপের জনাব শফিক উদ্দিন। সদস্য হিসেবে সাদার্ন ইউনির্ভার্সিটি ট্রাস্ট এর সাথে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি, সেলিম বার্দাস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন সালাম, এমইবি(মেব) গ্রæপের চেয়ারম্যান নুরুল আবসার, ক্লিফটন গ্রæপের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন চৌধুরী, হাজী মীর আহমেদ সওদাগর এর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালাম, , জিরি স্টিল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব লোকমান হাকিম, বাগদাদ গ্রæপের চেয়ারম্যান ফেরদৌস খান আলমগীর। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় সার্বিক দিকনির্দেশনা প্রদান এবং এর পরিচালনায় অন্তরায়সমূহ দূর করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে টাস্ট্রি বোর্ডের সদস্যরা। তাঁদের প্রচেষ্টায় সাদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে দেশ সেরা বেসরকারি ইউনিভার্সিটি হওয়ার পথে।
৫ উপাচার্যের সাদার্ন ইউনিভার্সিটি : দেশ বরেণ্য ৫ জন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ যারা বিভিন্ন সময় দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে উপাচার্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন এই রকম ৫জন সাবেক উপাচার্য বর্তমান সাদার্ন ইউনিভার্সিটির সাথে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. নুরুল মোস্তফা বর্তমানে সাদার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য। তিনি গবেষক হিসেবে সুপরিচিত। এর আগে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও চবি কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিদায়ী উপাচার্য প্রফেসর মোহাম্মদ আলী দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ হিসেবে ব্যাপক পরিচিত নাম। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ডিগ্রিধারী খ্যাতিমান এই শিক্ষাবিদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া ও প্রফেসর আলী আর্ন্তজাতিক ইসলামিক ইউনিভার্সিটি এবং নর্দান ইউনিভার্সিটির উপাচার্য হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য হিসেবে ও দায়িত্ব পালন করেন। সাদার্ন ইউনিভার্সিটিতে সাথে যুক্ত থেকে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মূল্যবান জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিতরণ করে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ও সাদার্ন ইউনিভার্সিটি আরেক সাবেক উপাচার্য প্রফেসর এজেএম নুরুদ্দীন চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ইঞ্জিনিয়ার মোজাম্মেল হক সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের উপদেষ্টা এবং ইসলামিক স্টাডিস বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে আছেন সাদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাকালিন উপাচার্য প্রফেসর ড. মঈনুদ্দিন আহমেদ খান।
এছাড়াও সাদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে উপ-উপাচার্য ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট এর সাবেক চেয়ারম্যান এবং বিশিষ্ট নগর পরিকল্পনাবিদ প্রফেসর ইঞ্জিনিয়ার এম আলী আশরাফ। রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ড. ইঞ্জিনিয়ার মোজাম্মেল হক। একাডেমিক উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত আছেন ব্রিটিশ কাউন্সিলেরর সাবেক পরিচালক ড. মার্ক বার্থোলোমিউ। এদের সুযোগ্য নেতৃত্ব ও তত্ত¡াবধানে সাদার্ন ইউনিভার্সিটি এগিয়ে যাচ্ছে দেশ সেরা ইউনিভার্সিটি হওয়ার পথে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ও বিশ্ব ব্যাংক যৌথভাবে হেকেপ প্রজেক্টের মাধ্যমে সাদার্ন ইউনিভার্সিটির গুণগত শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করছে। এই প্রজেক্টের কাজে সাদার্ন এর সফলতায় বেশ সন্তুষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন। ইতোমধ্যে ৮টি বিভাগের পিয়ার রিভিউ কার্যক্রম শেষ হয়েছে এবং প্রতিটি বিভাগ অত্যন্ত ভালো করেছে। বিদেশি বিশেষজ্ঞসহ পিয়ার রিভিউ কমিটির সদস্যরা সাদার্ন ইউনিভার্সিটির কাজে প্রশংসা করেছে। সাদার্ন গবেষণাধর্মী শিক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণা প্রবন্ধ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জার্নালে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে যা ইতোমধ্যে বেশ প্রশংসা পেয়েছে এবং বিভিন্ন সেক্টরে কাজে লাগানো হচ্ছে। নিয়মিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন করছে সাদার্ন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিভাগের উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে অনেকগুলো আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাদার্ন প্রকাশনা থেকে নিয়মিত জার্নাল ও শিক্ষকদের লেখা বিশেষায়িত গ্রন্থসহ বিভিন্ন ম্যাগাজিন প্রকাশিত হচ্ছে। ফলে শিক্ষকরা গবেষণাধর্মী বই প্রকাশে আগ্রহী হচ্ছে বলে জানান ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. নুরুল মোস্তফা এবং উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর সরওয়ার জাহান।
২১ শতকের চ্যালেঞ্জ মানে জাতিকে বিশ্বমানের গড়ে তোলা যাতে যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমÐলে একটা অবস্থান তৈরি হয়। বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির যুগ মানে হচ্ছে জাতিকে ডিজিটালাইজ করা। সাদার্ন ইউনিভার্সিটি সব সময় যুযোপযোগী শিক্ষায় বিশ্বাসী। একাডেমিক শিক্ষার বাইরেও এখানে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার প্ল্যানিং বিষয়ে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কর্মশালা, সেমিনার, ইন্টার্নশিপ, সিম্পোজিয়ামসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ। সহঃশিক্ষা কার্যক্রমেও সাদার্ন এগিয়ে।
একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত আন্তঃবিভাগ ইনডোর ও আউটডোর বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট ও ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে শিরোপা অর্জনসহ প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছে সাদার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে সমৃদ্ধ করতে প্রতিভাবানদের খুঁজে বের খেলোয়াড় তৈরির কাজ করছে সাদার্ন স্পোর্টস সেন্টার।
বর্তমানে সাদার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা বিসিএসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছে। দেশে-বিদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন সাদার্ন শিক্ষার্থীরা। সাদার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে- সম্প্রতি শব্দদূষণ, ওড়াল সেতু, ভূমিকম্পন, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গবেষণালদ্ধ তথ্য প্রকাশ করেছে। এছাড়াও নতুন নতুন ডিবাইস উদ্ভাবন করে দেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়নে অবদান রাখছে। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সহপাঠ্যক্রমিক বিষয় যেমন, আন্তঃবিভাগীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বিভাগীয় উদ্যেক্তা মেলা, ক্রিকেট, ফুটবলসহ সব ধরনের খেলাধুলা, আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য ও সাহিত্য চর্চার সুযোগ থাকায় ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য সাদার্ন ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট টিম দখিনা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেটে পরপর তিন বার চ্যাম্পিয়ন, জাতীয়ভাবে আয়োজিত ক্লেমন ইউনি ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় রানার্স আপ, দখিনা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবলে রানার্স আপসহ দেশেও বিদেশে অনেক টুর্নামেন্টে ভালো ফলাফল করে দেশব্যাপী সুনাম অর্জন করেছে। বিভাগীয় বিজ্ঞান মেলা, মুটকোর্ট প্রতিযোগিতায় অসংখ্যা বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অজর্ন করেছে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন গবেষণাধর্মী প্রজেক্ট তৈরি করে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে যাচ্ছে।
প্রতি সেমিস্টারে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের উদ্যোগে আযোজন করা হয় উদ্যোক্তা উন্নয়ন মেলা ও ব্যবসা পরিকল্পনা প্রতিযোগিতা’ এছাড়া সাদার্ন ইউনিভার্সিটিতে আয়োজন করা হয় সাদার্ন ট্যালেন্ট পুরস্কার। বিভিন্ন বিষয় যেমন: ভালো ফলাফল, বিতর্ক, আবৃত্তি, গান, গল্প, নৃত্য, কৌতুক, রম্য রচনা, খেলাধুলা ইত্যাদি বিষয়ের উপর প্রতিযোগিতায় বছরের সেরা ট্যালেন্ট ছাত্রছাত্রীদের পুরস্কৃত করা হয়। এই প্রতিযোগিতায় ইউনিভার্সিটি শিক্ষকদের পাশাপাশি বিচারক হিসেবে উপস্থিত থাকেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর দেশবরেণ্য ব্যক্তিবর্গ ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা। এছাড়াও এখানে রয়েছে স্পোকেন ইংলিশ ক্লাব, ক্যারিয়ার ক্লাব, বিজিনেস ক্লাব, কালচারাল ক্লাব, ল ক্লাব, ব্যাবসায় উদ্যেক্তা সোসাইটি যারা প্রতিনিয়তই আয়োজন করে যাচ্ছে উদ্যোক্তা মেলা, স্টাডি ট্যুর, ইনডোর গেমস, রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম।
সাদার্ন ইউনিভার্সিটি ছাত্র-ছাত্রীদের উন্নয়ন এবং সহায়তা প্রদানকল্পে বিভিন্ন একাডেমিক সেবাসমূহ প্রদান করে থাকে। যেমন : একাডেমিক পরামর্শ,ক্যারিয়ার প্ল্যানিং এবং প্রতিস্থাপন, একাডেমিক গবেষণামূলক কার্যক্রম, সাদার্ন প্রকাশনা , পরীক্ষাগার সুবিধা, আর্থিক সহযোগিতা, আইনি পরামর্শ ও সালিশ কেন্দ্র,বি.এন.সি.সি (আর্মি ইউনিট)। সাদার্ন ইউনিভার্সিটিতে স্প্রিং, সামার ও ফল সেমিস্টারে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারে। স্প্রিং সেমিস্টারের ভর্তি কার্যক্রম নভেম্বর মাস থেকে শুরু হয়ে জানুয়ারি প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলে। সামার সেমিস্টার ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয় মার্চ থেকে এবং চলে মে মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত। আর ফল সেমিস্টারের ভর্তি কার্যক্রম জুলাই থেকে শুরু হয়ে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। যেসব বিষয়ে আবেদন করা যাবে-ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ- বিবিএ, এমবিএ হোটেল ম্যনেজমেন্টসহ, কলা অনুষদ- ইংরেজি, ইসলামিক স্টাডিজ, সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ- সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং(ইইই) ও ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং(ইসিই), কম্পিউটার সায়েন্স, ফামার্সি, আইন অনুষদ- এলএলবি, এলএলএম। মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফি এর ১০% থেকে ১০০% বৃত্তিসহ নানাবিধ সুযোগ সুবিধা প্রদান করছে সাদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ।
বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য ইউনিভার্সিটির তথ্য অফিস(এডমিশন অফিস), ৭৩৯/এ মেহেদিবাগ রোড, চট্টগ্রাম এবং স্থায়ী ক্যাম্পাস বায়েজিদ আরেফিন নগর অথবা সরাসরি ০১৯১১৮৮২৭৬৪, ০১৭১১৩৯৫৯৭৭, ০৩১-৬২৬৭৪৪, ০৩১-২৮৫১৩৩৬-৯। এছাড়াও ইউনিভার্সিটির ওয়েব সাইট www.southern.edu.bd থেকে যাবতীয় তথ্য জানা যাবে।

লেখক : সহকারী পরিচালক
উপাচার্য’র কার্যালয় ও জনসংযোগ