অভ্যর্থনা না জানানোয় ক্ষুব্ধ

সাতকানিয়ার ইউএনও’কে শাসালেন এমপি নদভী!

রাহুল দাশ নয়ন

46

অভ্যর্থনা না জানানোয় ক্ষুব্ধ হয়ে সাতকানিয়ার নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নূর-এ-আলমকে শাসিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেযামুদ্দিন নদভী। গতকাল উপজেলা আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় সভায় এ ঘটনাটি ঘটে। উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক কয়েকজন চেয়ারম্যান সভা থেকে বের হয়ে গেলে তড়িঘড়ি করেই সভার সমাপ্তি টানা হয়। এ সভায় চন্দনাইশ-সাতকানিয়া একাংশের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর-এ-আলম গত ১৯ ফেব্রূয়ারি সাতকানিয়ায় যোগদান করেন।
সভায় উপস্থিত থাকা সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী পূর্বদেশকে বলেন, ‘একটু ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।’ সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ-আলমের অফিসিয়াল মুঠোফোনে কল দেয়া হলে এসিল্যান্ড পরিচয়ে একজন ফোন রিসিভ করে জানান, ‘স্যার সভা শেষ করেই ছুটিতে গেছেন। ওরকম খারাপ আচরণ কিছু হয়নি। আপনি রবিবার অফিসে এসে বিস্তারিত জেনে যাবেন।’ সভায় উপস্থিত থাকা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আনজুমান আরা পূর্বদেশকে বলেন, ‘উনি নিজে থেকেই গরম হয়ে আবার নিজেই শান্ত হয়েছেন। ইউএনও নতুন আসায় বিষয়টি বুঝেননি। এমপি সাহেব বলেছেন আমি আসছি আপনি জানেন না? সংসদ সদস্য নজরুল সাহেব নিজেই মিলিয়ে দিয়েছেন।’ জানা যায়, গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলা অডিটরিয়ামে সাতকানিয়া উপজেলার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় সভার আয়োজন করা হয়। নির্ধারিত সময়ে সাংসদ নজরুল ইসলামসহ অধিকাংশ সদস্য উপস্থিত হলেও আরো দুই ঘণ্টা পর সাংসদ ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেযামুদ্দিন নদভী সভায় উপস্থিত হন। সংসদ সদস্য সভাস্থলে প্রবেশ করেই ইউএনওকে বকাবকি শুরু করেন। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ মোতালেব।
সভায় উপস্থিত কয়েকজন জানান, সংসদ সদস্য সভাস্থলে প্রবেশ করেই ইউএনওকে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় তুই-তোকারি ব্যবহার শুরু করেন। এক পর্যায়ে অভ্যর্থনা না জানানোর কারণ জানতে চান। সাংসদের বকাবকিতে নতুন যোগদান করা ইউএনও কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। পরে সাংসদ নজরুল ইসলাম ও উপজেলা চেয়ারম্যান পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। এসময় উত্তেজিত সংসদ সদস্য মোতালেব সাহেবকে এসব বিষয়ে মাথা না ঘামানোর পরামর্শ দেন। পরিস্থিতি খুব বেশি উত্তেজিত হলে কয়েকজন চেয়ারম্যান প্রতিবাদস্বরূপ সভাস্থল ত্যাগ করেন। তবে সংসদ সদস্য নদভীর ভাতিজা মাদার্শার চেয়ারম্যান আবু নঈম মুহাম্মদ সেলিম, ভাগিনা পশ্চিম ঢেমশার চেয়ারম্যান আবু তাহের জিন্নাহ ও অনুসারী ছদাহার চেয়ারম্যান মো. মোসাদ হোসাইন চৌধুরী সভাস্থলে থেকে যান।
সভায় উপস্থিত থাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন চৌধুরী পূর্বদেশকে বলেন, ‘ইউএনও একজন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে এ ধরনের আচরণ অশোভনীয়। একজন দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে এমপি সাহেব আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে পারতেন।’
এ বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেযামুদ্দিন নদভীর মুঠোফোনে ফোন করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে মাদার্শা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু নঈম মুহাম্মদ সেলিম পূর্বদেশকে বলেন, একজন সংসদ সদস্যকে অবশ্যই ইউএনওকে প্রটোকল দিতে হবে। কিন্তু ইউএনও দুইজন সংসদ সদস্য কাউকেই প্রটোকল দেননি। এটা নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন এমপি সাহেব। উনি ইউএন’র কাছে জবাবদিহি চেয়েছেন। ইউএনও নিজেই মাইকে সরি বলে আগামীতে ভুল হবে না বলেছেন। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান মোতালেব সাহেব এমপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি শান্ত হয়ে কথা বলতে পারতেন। এভাবে বকা দিতে পারেন না। এসময় এমপি মোতালেব সাহেবকে বলেন, আমার ও ইউএনও’র মধ্যে সমস্যা হয়েছে আপনি কেন এসব নিয়ে কথা বলছেন। এক পর্যায়ে মোতালেব সাহেব চেয়ারম্যানদের অনুষ্ঠান শেষ না করেই বেরিয়ে যেতে বলেন। পরিস্থিতি বুঝে মনে হয়েছে মোতালেব সাহেব রাজনৈতিক উস্কানি দিয়েছেন।