সাজেক ভ্যালির রূপের টানে পর্যটকের ঢল

রাঙামাটি প্রতিনিধি

21

সাজেকের উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে লংগদু উপজেলা পূর্বে ভারতের মিজোরাম ও পশ্চিমে খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলা। সাজেকে যেতে হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের ২টি জেলা পার হতে হয়। একটি জেলা খাগড়াছড়ি ও অপরটি রাঙামাটি পার্বত্য জেলা। আর রাঙামাটি পার্বত্য জেলা বাঘাইছড়ি উপজেলার মধ্যেই সাজেক ভ্যালির অবস্থান। সাজেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দিন দিন সেখানে পর্যটকের ভিড় জমাতে দেখা গেছে। সাজেক ভ্যালির পর্যটন স্পটকে যথাযথভাবে গড়ে তুলতে পারলে সরকার প্রচুর রাজস্ব উপার্জন করে অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখতে পারবে। সে সাথে স্থানীয় বেকারত্ব ও দূর হবে। বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় জেলা রাঙামাটি। আর বাংলাদেশের বড় উপজেলা বাঘাইছড়ি। আর বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় ইউনিয়ন সাজেক। আর এই সাজেকেই গড়ে উঠেছে দেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট সাজেক ভ্যালি। অনেকে সাজেক ভ্যালিকে দার্জিলিং বলে থাকে- এর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে। আবার অনেকে বলেছেন সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি সাজেক পর্যটন স্পট। ২০১৫ সাল থেকে সাজেকে পর্যটক যাওয়া শুরু করেছে। ২০১৭ সাল থেকে বেসরকারিভাবে বেশ কিছু রিসোর্ট ও কটেজ নির্মাণ করা হয়েছে। যা পর্যটকদের রাত্রি যাপনে সহায়তা করছে।
বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোারেশন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সাজেকে সরকারি বেসরকারি ব্যবস্থাúনায় ৮০-৯০টি রিসোর্ট ও কটেজ তৈরি করা হয়েছে। যা অত্যন্ত সুন্দর ও আকর্ষণীয় বলে জানা গেছে। সামনে আরো কটেজ ও রিসোর্ট হবে বলে স্থানীয় লোকজন জানান।
সম্প্রতি রাঙামাটি পর্যটন হলি ডে কমপ্লেক্সে পর্যটন উন্নয়ন শীর্ষক এক কর্মশালায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা বলেন, সাজেকে গণহারে পর্যটন রিসোর্ট ও কটেজ গড়ে উঠার কারণে সেখানকার পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, অপরিকল্পিতভাবে স্থাপনা নির্মাণ করার কারণে সাজেক ভ্যালির সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ ত্রিপুরা বলেন, এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা বিশুদ্ধ পানি। খাবার পানি সরবরাহ যথাযথ হলে পর্যটক আরো বেড়ে যেত। এখন সব ধরনের খাবার পানি জেলা শহর খাগড়াছড়ি ও দীঘিনালা বাঘাইহাট বাজার থেকে কিনে এনে পানির চাহিদা মেটাতে হয়। সরকার যদি সাজেক ভ্যালি পর্যটন স্পটগুলোতে বিশুদ্ধ পানির সুব্যবস্থা করতেন তাহলে এখানে দিন দিন পর্যটক আরো বেড়ে যেত। অন্যদিকে চাঁদার ব্যাপারটি লেগেই আছে। এখানে ব্যবসা করতে হলে গোপনে বা প্রকাশ্যে চাঁদাতো দিতেই হবে। সম্প্রতি চাঁদা না দেওয়ার কারণে স্থানীয় সংগঠনগুলো রিসোর্ট ও কটেজ বন্ধ করার পাঁয়তারা করছিল। বর্তমানে এ সমস্যা সমাধান হয়েছে।
সাজেক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুল আনোয়ার বলেন, সাজেক ভ্যালির আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল আছে। সম্প্রতি একটি ছোট খাটো ঘটনা ঘটেছিল বর্তমানে তা সমাধান হয়েছে। বর্তমানে সাজেকের সবকটি রিসোর্ট ও কটেজ পর্যটকদের জন্য সব সময় খোলা রয়েছে।