সাংগঠনিক কাজে সক্রিয় হচ্ছেন ইউনিট নেতারাও

রাহুল দাশ নয়ন

25

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে সংগঠনে গতি আনতে গুরুত্বপূর্ণ বর্ধিত সভা ডেকেছে মহানগর আওয়ামী লীগ। এবারের সভায় নগর কমিটির নেতাদের পাশাপাশি থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকরাও উপস্থিত থাকবেন। আগামী শনিবার নগরীর লেডিস ক্লাবে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারই সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন পূর্বদেশকে বলেন, ‘বর্ধিত সভার মূল লক্ষ্য হচ্ছে নির্বাচন। নগরের প্রত্যেকটি আসন প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে চাই। বর্ধিত সভা আগেও করেছি। তবে এবারের সভাটির বিশেষ গুরুত্ব আছে। ইতোমধ্যে দলকে শক্তিশালী করতে আমরা সদস্য সংগ্রহ অভিযান করছি। আসছে নির্বাচনকে সামনে রেখে কিছু কিছু সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয় আছে। কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এগুলো দলের
সাধারণ সম্পাদককে বর্ধিত সভায় অবহিত করবো। উনি যেভাবেই দিক নির্দেশনা দিবেন সেভাবেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি করতে নির্দেশনা রয়েছে। এ কমিটিগুলো করতে তৃণমূলকে সম্পৃক্ত করতে হবে। যে কারণে এবারের সভায় ইউনিট নেতাদেরও রাখা হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ মার্চ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ মুসলিম হলে সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন করে। উদ্বোধনের পর সদস্য সংগ্রহ অভিযান সফল করতে নগর আওয়ামী লীগ নেতাদের সম্পৃক্ত করে ১০টি সাংগঠনিক টিম করা হয়। এসব টিমে নগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একজনকে আহবায়ক ও একজনকে সদস্য সচিব করা হয়। প্রত্যেকটা টিম নির্ধারিত সদস্য ফরম নিয়ে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কর্মকান্ড চালাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক পূর্বদেশকে বলেন, সদস্য সংগ্রহ করতে দশটি টিম নগরজুড়ে কাজ করছে। ইতোমধ্যে বই, ফরম প্রস্তুত করে তৃণমূলে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। ওয়ার্ড ও ইউনিট নেতাদের সাথে কথা বলে নির্ধারিত তারিখে সদস্য সংগ্রহ কাজ চালানো হবে।
বর্ধিত সভার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এবারের বর্ধিত সভায় নগর কমিটির নেতাদের পাশাপাশি ৪৪টি ওয়ার্ড ও ১৩২টি সাংগঠনিক ইউনিটের নেতারাও উপস্থিত থাকবেন। সভায় কিভাবে তৃণমূলকে চাঙা করা যায় এসব বিষয় নিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্দেশনা দিবেন। আমরা সে নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করবো। ইতোমধ্যে সকল পর্যায়ের নেতাদের সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে।’
নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পর্যায়ের দুইজন নেতা জানান, নগর আওয়ামী লীগে যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো নির্বাচনের আগেই নিরসন করতে হবে। সম্প্রতি কয়েকটি বিষয় নিয়ে দলের ভাবর্মূতি ক্ষুন্ন হয়েছে। সংসদ সদস্য ও দলের কয়েকজন নেতা নিজেদের মতো করে রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় স্বার্থের চেয়ে তারা নিজেদের স্বার্থকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। অনেকেই দলীয় সভাতেও উপস্থিত হন না। ইতোমধ্যে নগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভায় সংসদ সদস্য ও নিস্ক্রিয় নেতাদের বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এগুলো জাতীয় নির্বাচনের আগে নিরসন করা না গেলে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বর্ধিত সভাতে এসব বিষয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে। সভায় উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতারা নগর আওয়ামী লীগের অগোছালো বিষয়গুলো নিয়ে কি নির্দেশনা দিচ্ছেন সেদিনই পরিস্কার হওয়া যাবে।