শেষ সময় চলে আসায় বেড়েছে বেচাকেনা

সরগরম নগরীর পশুরহাট

নিজস্ব প্রতিবেদক

19

নগরীর সবগুলো পশুর হাটে ক্রেতা সমাগম বেড়েছে। পর্যাপ্ত পশু সরবরাহের পাশাপাশি ক্রেতার উপস্থিতিতে সরগরম হয়ে উঠেছে পশুর হাট। এখনো প্রতিনিয়ত বিভিন্ন জায়গা থেকে আসছে গরু। প্রতিটি হাটই ভরে গেছে পশুতে। বাজারে গরুর পাশাপাশি মহিষ ও ছাগলও আছে। শেষ সময় চলে আসায় বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। তবে পশুর দাম নিয়ে এখনো যথেষ্ট দ্বিধায় আছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। গতকাল রোববার কর্ণফুলী পশুর হাট (নূরনগর হাউজিং) গিয়ে দেখা যায়, হাট কানায় কানায় গরুতে ভরে গেছে। স্থানীয়ভাবে লালন পালন করা গরুর সংখ্যা এ বাজারে সবচেয়ে বেশি। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে গরু আনা হয়েছে এ বাজারে। তাছাড়া দেশিয় বিভিন্ন জাতের গরুও আছে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রচুর গরু এসেছে এ হাটে। এছাড়াও নগরীর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অস্থায়ী বাকি ৫ পশুর হাট ও স্থায়ী দুই পশুর হাটের অবস্থাও একই। সবগুলোই কোরবানির পশুতে ভরপুর। সারিবদ্ধভাবেই পশু নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন বিক্রেতারা। পছন্দ হলেই ক্রেতারা দরদাম করছেন। দরদাম ঠিক হলেই গরু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। হাটগুলোতে ছোট আকারের গরুর দাম বেশি বলে মনে করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। কর্ণফুলী গরুর বাজারে আবদুর রহিম নামের এক বিক্রেতা বলেন, ক্রেতার আনাগোনা বেড়েছে। বিকেল গড়াতেই প্রচুর ক্রেতা আসছেন বাজারে। বেচাবিক্রিও হচ্ছে। সবাই মনে করছেন, দাম কমবে। কোনো কারণে দাম কমে গেলে আমরা যারা গরু লালন পালন করেছি তাদের দুঃখের সীমা থাকবে না।
কুষ্টিয়া থেকে আসা হিরু নামের এক বিক্রেতা বলেন, ১৪টি গরু নিয়ে শনিবার রাতে বাজারে এসেছি। এখনো বাজারের অবস্থা বুঝতে পারছি না। তবে আমরা আশাবাদি ভালো ব্যবসা হবে। ঈদের সময় চলে এসেছে, সবাই এখন পশু কেনার প্রতি আগ্রহী।বিক্রেতারা জানান, বেচাকেনা জমজমাট না হলেও স্বল্প পরিসরে বিক্রি শুরু হয়েছে। দুপুরের পর থেকেই প্রচুর লোকজন গরু দেখতে বাজারে আসছেন। ক্রেতাদের আনাগোনায় মুখর থাকছে বাজার প্রাঙ্গণ। তবে ক্রেতারা কাক্সিক্ষত দামের অনেক কম দাম দিতে চাচ্ছেন। যার কারণে বিক্রেতারা পশু ছেড়ে দিতে পারছেন না। আশানুরূপ দাম পেলেই পশু বিক্রি করবেন বলে জানান বিক্রেতারা।বিবিরহাট থেকে ৮৭ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনলেন ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন। তিনি বলেন, গরুর দাম দিয়েছিলেন ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা। এখন সেটা ৮৭ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছি। গরুর রশি ধরার পর থেকেই সবাই দাম জিজ্ঞাসা করছেন। দাম নিয়ে সবাই চিন্তিত আছে। কর্ণফুলী গরুর বাজারের ইজারাদার মো. আবদুল মান্নান বলেন, ঈদের সময় ঘনিয়ে এসেছে। সবাই এখন বাজারমুখী। প্রচুর গরু, প্রচুর ক্রেতা। আমরা ক্রেতাদের সুবিধার্থে সবধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এসব সুবিধার কারণে ক্রেতারা আমাদের বাজারে বেশি ভিড় করছেন।এদিকে প্রত্যেকটা পশুর বাজারের নিরাপত্তায় পুলিশের কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। বাজার ইজারাদারের পক্ষে বসানো হয়েছে সিসিটিভি। বিভিন্ন ব্যাংকের সহযোগিতায় বাসানো হয়েছে বুথ। পাশাপাশি জালনোট চিহ্নিত করার জন্য বসেছে শনাক্তকরণ মেশিন। তাছাড়া প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে পশু ডাক্তারও নিয়োজিত আছেন প্রতিটি হাটে।