সম্পদে নওফেলকে ছাড়িয়ে শাহাদাত

নওফেলের মামলা নেই, শাহাদাতের মামলা ৪০টি

রাহুল দাশ নয়ন

138

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ আসন চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী)। কথিত আছে এ আসন থেকে যিনিই নির্বাচিত হবেন তিনি ভাগ্যবান। ভাগ্যে জুটে মন্ত্রিত্বও। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটি দখলে নিতে নতুন ও তারুণ্যনির্ভর প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের পছন্দের প্রার্থী কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও বিএনপির পছন্দে আছেন সংগঠনের নগর সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। উচ্চশিক্ষিত দুই প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে ভোটারদের কাছে টানতে চায় এই দুই দল।
নির্বাচনী এমন পরিবেশে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিলেও বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন কারাগারে বন্দি। বিএনপির এই নেতার হয়ে তার সমর্থকরাই নির্বাচনী কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন। ইতোমধ্যে দুই নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
মনোনয়নপত্রের সাথে জমা দেয়া হলফনামায় দেখা যায়, নওফেলের চেয়ে সম্পদসহ কিছু খাতে এগিয়ে আছেন ডা. শাহাদাত হোসেন।
হফলনামায় উল্লেখ আছে, ব্যারিস্টার-এট-ল ডিগ্রিধারী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের মামলা নেই। এক্ষেত্রে এমবিবিএস ডিগ্রিধারী ডা. শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে ৪০টি মামলা আছে।
ব্যক্তিগত ও নির্ভরশীলদের উৎস হতে আওয়ামী লীগের নওফেলের আয় বার্ষিক ৫৭ লক্ষ ৪৫ হাজার ৩০০ টাকা। এরমধ্যে ব্যবসা খাতে স্ত্রীর আয় সাত লক্ষ টাকা ছাড়াও নিজের শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত থেকে ৩৭ লক্ষ টাকা, পেশাগত খাতে সাত লক্ষ দুই হাজার ৬৩৯ টাকা ও অন্যান্য খাতে ছয় লক্ষ ৪২ হাজার ৬৬১ টাকা বাৎসরিক আয়। বিএনপির শাহাদাতের বাৎসরিক আয় ২৯ লক্ষ ৯৯ হাজার ৯১৮ টাকা। এরমধ্যে প্রার্থীর উপর নির্ভরশীলদের ব্যবসা থেকে বাৎসরিক আয় নয় লক্ষ ৯৯ হাজার ৪৯৩টাকা ও অন্যান্য খাতে দুই লক্ষ টাকা। বাড়ি, এপার্টমেন্ট, দোকান থেকে ভাড়া বাবদ নিজের আয় তিন লক্ষ পাঁচ হাজার ২৫টাকা, পেশাগত আয় ১৪ লক্ষ ৯৫ হাজার ৪০০ টাকা।
কোনো ধরনের স্থাবর সম্পদ না থাকলেও দুই কোটি ২০ লক্ষ ৯৫ হাজার মূল্যমানের অস্থাবর সম্পদ আছে নওফেলের। এর মধ্যে নগদ টাকা নিজ নামে ৩০ লক্ষ ও স্ত্রীর নামে ১৫ লক্ষ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজের নামে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৭৭ লক্ষ ৫৫ হাজার ৬৮২ টাকা ও স্ত্রীর নামে ১৪ লক্ষ টাকা। নিজ নামে বন্ড ও ঋণপত্র, শেয়ার আট লক্ষ ৩৯ হাজার ৩৪৯টাকা, সঞ্চয় পত্র ও স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ৩৭ লক্ষ টাকা, স্বর্ণ ও অলংকারাদি মূল্যমান নিজ নামে চার লক্ষ টাকা, স্ত্রীর নামে দশ লক্ষ টাকা। স্ত্রীর নামে দশ লক্ষ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী আছে। নিজ নামে পাঁচ লক্ষ টাকা ও স্ত্রীর নামে দশ লক্ষ টাকার আসবাবপত্র আছে নওফেলের। একই সাথে ব্যাংকের মাধ্যমে ৩২ লক্ষ ৩৫ হাজার ৩৩৫ টাকা ব্যক্তিগত ঋণ দেখানো হলেও তা কোন ব্যাংকে আছে উল্লেখ করা হয়নি।
অন্যদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ডা. শাহাদাতের নিজ নামে অস্থাবর সম্পদ আছে পাঁচ কোটি ২৭ লক্ষ তিন হাজার ৬০৬ টাকা। স্ত্রীর নামে ৫০ লক্ষ ৭২ হাজার ৯৬৬ টাকা। এর মধ্যে নিজ নামে নগদ টাকা আছে নয় লক্ষ ৩৩ হাজার ছয় টাকা, স্ত্রীর নামে ১২ লক্ষ ১৭ হাজার ৪৬৬ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ নিজ নামে ৩০ লক্ষ টাকা। বন্ড, ঋণপত্র ও শেয়ার বাবদ নিজ নামে তিন লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ও স্ত্রীর নামে এক লক্ষ টাকা জমা আছে। নিজের নামে ৩৯ লক্ষ টাকা মূল্যমানের একটি টয়োটা কার ও একটি পুরানো জীপ গাড়ি আছে শাহাদাতের। স্ত্রীর নামে আছে ২৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের একটি কার গাড়ি। নিজের নামে ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের এবং স্ত্রীর নামে এক লক্ষ পাঁচ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার আছে। ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মধ্যে নিজ নামে ৫০ হাজার টাকা ও স্ত্রীর নামে ২০ হাজার টাকা মূল্যমানের ফ্রিজ, টিভি আছে। পুরাতন খাট, সোফা সেট, আলমিরা, ওয়ারড্রপ মিলিয়ে নিজ নামে ৭৫ হাজার টাকা ও স্ত্রীর নামে ৫০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাব পত্র আছে। অন্যান্য সম্পদের মধ্যে ট্রিটমেন্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিজের ব্যবসায়িক মূলধন চার কোটি ১৮ লক্ষ ৯০ হাজার ৬০০ টাকা ও স্ত্রীর নামে ৯ লক্ষ ৫০০ টাকার সম্পদ আছে।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে ডা. শাহদাতের নিজ নামে এক কোটি ২৭ লক্ষ ৪১ হাজার টাকা ও স্ত্রীর নামে পাঁচ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ আছে। নিজ নামে ১৭ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ১৮ শতক এবং ছয় লক্ষ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ১.৫ কাঠা অকৃষি জমি আছে। স্ত্রীর নামে পাঁচ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের দুই গন্ডা এক কন্ট জমি আছে। নিজ নামে ৬৮ লক্ষ ১১ হাজার টাকার আট তলা বিশিষ্ট একটি দালানের এক অংশ আছে শাহাদাতের। এছাড়াও ৩৫ লক্ষ টাকা দামের একটি এপার্টমেন্ট আছে তাঁর। ব্যাংক ঋণের মধ্যে শাহদাতের নিজ নামে উত্তরা ফিন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের তিন কোটি ৬৫ লক্ষ ৬০ হাজার ৪১৬ টাকা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডে এক কোটি ১৪ লক্ষ ১০ হাজার ২০০ টাকা ও অন্যান্য ৩৫ লক্ষ নয় হাজার ১৮৮ টাকা ঋণ আছে। স্ত্রীর নামে উত্তরা ফিন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডে ঋণ আছে সাত লক্ষ টাকা।