সমৃদ্ধির পথে খাগড়াছড়ির পর্যটন শিল্প

81

বাংলাদেশের এক-দশমাংশ রূপময় ভূ-খন্ড পার্বত্য চট্টগ্রাম। বিস্তৃত সংরক্ষিত বনাঞ্চল, উপত্যকা, নদী, পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে ঢেউ খেলানো সৌন্দর্য, পাহাড়ি ঝরনা-ঝিরি দেশ-বিদেশের অনেক আকর্ষণীয় স্থানকেও হার মানাতে পারে। পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির চারদিক ঢেউতোলা সবুজের উঁচু পাহাড়ের দেয়াল। মাঝে মাঝে ব্যস্ত ছোট ছোট শহর ও শহরের প্রবেশ পথের দু’পাশে সবুজের বাঁকে-বাঁকে উঁচু-নিচু সর্পিল রাস্তা। অনেক পর্যটকই খাগড়াছড়ি শহরকে ছবিতে দেখা নেপালের কাঠমান্ডু শহরের সাথে তুলনা করে থাকেন।
সময়ের ব্যবধানে আলুটিলার রহস্যময় সুরঙ্গ, রিছাং ঝরনা, তৈদুছড়া ঝরনা, হর্টিকালচার সেন্টারসহ খাগড়াছড়ির অরণ্যঘেরা সবুজ প্রকৃতির টানে পর্যটকরা ছুটছে পাহাড়ের পথে। মাত্র ৫-৭ বছরের ব্যবধানে বদলে গেছে পার্বত্য খাগড়াছড়ির পর্যটন শিল্প। সময়ের ব্যবধানে সমৃদ্ধির পথে হাঁটছে খাগড়াছড়ির পর্যটন শিল্প। পর্যটনের রানি খ্যাত বান্দরবান ও রাঙ্গামাটির পরে পর্যটনের তীর্থভূমিতে পরিণত হয়েছে খাগড়াছড়ি। খাগড়াছড়ির পর্যটন শিল্পে সা¤প্রতিক যুক্ত হওয়া ‘মায়াবীনি লেক’ পাহাড়ের পর্যটনকে করেছে সমৃদ্ধ।
পর্যটকদের আনাগোনাকে কাজে লাগিয়ে সরকারি উদ্যোগের বাইরেও ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে উঠছে পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটন শিল্পে পিছিয়ে নেই পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়িও। সময়-সুযোগ পেলেই ইট-পাথরের জীবনকে পেছনে ফেলে প্রিয়জনদের নিয়ে মানুষ ছুটে আসে সমুদ্র তীর বা অরণ্যঘেরা সবুজ প্রকৃতির কাছে। পর্যটকদের ওপর ভিত্তি করে ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে উঠছে একাধিক হোটেল-মোটেল। পাহাড়ের খাবারের মান আর মেন্যুতেও এসেছে নতুনত্বের ছোঁয়া।
চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের জীবন, সংগ্রাম, কৃষ্টি-সংস্কতির বৈচিত্র্যময় জীবনাচারকে কাজে লাগাতে পারলে পাহাড়ে পর্যটনের ডানায় যুক্ত হবে নতুন নতুন সম্ভাবনা। পাশাপাশি বিস্তর্ঢু বনাঞ্চল পর্যটনের সম্ভাবনাকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে। খাগড়াছড়ির পযর্টন শিল্পে সম্ভাবনা থাকলেও, এ খাতের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সাধিত হয়নি বলেই মনে করছেন স্থানীয় পর্যটনপ্রেমীরা। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থাকলেও আজ পর্যন্ত পাহাড়ের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা প্রণয়ন করেনি।

আলুটিলা রহস্যময় সুরঙ্গ
খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কের পাশেই খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণাধীন আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটন কেন্দ্রটির অন্যতম আকর্ষণ রহস্যময় সুরঙ্গ। গা ছমছম করা অনুভূতি নিয়ে পাহাড়ি সুরঙ্গ পথ বেঁয়ে পাতালে নামা কল্পনার হলেও আলুটিলার সুরঙ্গ কল্পনা নয় বরং বাস্তব। পাহাড়ের চূঁড়া থেকে ২৬৬টি সিঁড়ি বেঁয়ে নিচে নামলেই সেই স্বপ্নীল সুরঙ্গমুখ। আলুটিলা সুরঙ্গের দৈর্ঘ প্রায় ৩শ’ ৬০ ফুট। ভূতুরে অন্ধকার এ সুরঙ্গে আগুনের মশাল নিয়ে ঢুকতে হয় কিছুটা সাহসের সাথেই। সুরঙ্গের ভেতরে প্রবেশ করলে ভেসে ওঠে এক অপরূপ প্রতিচ্ছবি। ভেতরে হাজার হাজার বাঁদুর ঝুলে থাকার দৃশ্যও চোখে পড়ার মতো।
অনবদ্য রহস্যের উৎস প্রাকৃতিক এ সুরঙ্গের ভেতরটা দেখলে অবিশ্বাস্য বিস্ময়ে হতবাক হতে হবে যে কাউকেই। মনে হয়, যেন পাহাড় কেটে কয়েক হাজার কারিগর মিলে নিখুঁতভাবে এ গুহাটি তৈরি করেছে। এ গুহায় প্রবেশ করে অন্য প্রান্ত দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতায় আপনিও হতে পারবেন দুঃসাহসিক এক অভিযাত্রী। তবে সময়ের ব্যবধানে পাল্টে গেছে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের দৃশ্যপট।

রিছাং ঝরনা
আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র ও রহস্যময় গুহা থেকে কিছুটা দূরেই রয়েছে রিছাং নামক পাহাড়ি ঝরনা। শিরশির ছন্দে হিম শীতল ঝরনার বহমান স্বচ্ছ পানি যে কাউকেই কাছে টানবে খুব সহজেই। খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়ক থেকে কিছুটা পথ পায়ে হেঁটে যেতে হবে স্বপ্নের রিছাং ঝরনায়। এখানে আগত পর্যটকদের সুবিধার্থে মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রবেশমুখে একটি গেট নির্মাণসহ পর্যটকদের জন্য সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে চেঞ্জিং রুমসহ বেশ ক’টি গোলঘর। নিরাপত্তার জন্য রয়েছে পুলিশ পাহারাও। পর্যটকদের সুবিধার্থে বেশকিছু উন্নয়ন প্রকল্পও গ্রহণ করা হয়েছে।

জেলা পরিষদ পার্ক
খাগড়াছড়ি জেলা শহরের খুব কাছাকাছি জিরো মাইল সংলগ্ন ২২ একর ভূমির ওপর গড়ে ওঠা ‘জেলা পরিষদ পার্ক’ খাগড়াছড়ি জেলার পর্যটন শিল্পকে সমৃদ্ধ করেছে। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মালিকানাধীন এ পার্কের বিশেষ আকর্ষণ রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতুর আদলে তৈরি ‘ঝুলন্ত সেতু’। এ পার্কে নতুন সংযোজন শিশুদের জন্য পাহাড় থেকে পাহাড়ে ‘রেল’ সার্ভিস। সুবিশাল পর্যটন স্পটে পিকনিক করার জন্য রয়েছে রেস্ট হাউজ। এছাড়াও উঁচু-নিচু পাহাড়ের গা ঘেঁষে সারিসারি ফলের বাগান যে কোনো পর্যটকের মন কাড়বেই। প্রিয়জনদের কাছে টানবে লেকের কোল ঘেঁষে যাওয়া টাইলস বসানো আঁকাবাঁকা সড়ক।

মায়াবীনি লেক
খাগড়াছড়ির পর্যটনে নতুন সংযুক্তি ‘মায়াবীনি লেক’। পাহাড়ের উঁচু-নিচু ভাঁজে ভাঁজে বাঁধ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মায়াবীনি লেক। খাগড়াছড়ি জেলা শহর থেকে ২০ মিনিটের পথ পেরিয়ে দেখা মিলবে বিনোদন কেন্দ্র ‘মায়াবীনি লেক’র। প্রবেশ পথেই দৃষ্টিনন্দন অভিবাদন গেট বলে দিচ্ছে পর্যটনের সম্ভাবনার কথা। পাহাড়ের উঁচু-নিচু ৪০ একর জমির ওপর ১৫ একর লেকে দ্বীপবেষ্টিত মায়াবীনি লেক খাগড়াছড়িতে পর্যটনের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করবে।

জলপাহাড়
মাটিরাঙ্গা উপজেলা সদরের একমাত্র বিনোদন পার্ক জলপাহাড় হতে পারে বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। ঘরের কাছে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন জলপাহাড়ে। নাগরদোলা আর ময়ূরপঙ্খী নৌকা হয়ে উঠবে আপনার বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। জলপাহাড়ের সুবিশাল লেক আপনাকে বাড়তি আনন্দ দেবে নিঃসন্দেহে। নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে এতো বড় সুযোগ শহরের পাশে আর কোথাও নেই।

হেরিটেজ পার্ক
পাহাড়ের কোলঘেঁষে সর্পিল প্রবাহ নিয়ে বয়ে যাওয়া চেঙ্গী নদীর কোলে জেলা আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উঁচু পাহাড়ে অবস্থিত হেরিটেজ পার্ক ইতোমধ্যে পর্যটন কেন্দ্রের তালিকায় নিজের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। পর্যটনপিপাসুদের কাছে হেরিটেজ পার্ক হয়ে উঠেছে নতুন ঠিকানা। পর্যটন মোটেলের বিপরীতে সৌন্দর্যমন্ডিত ও নান্দনিক হেরিটেজ পার্কটির অবস্থান। পাহাড়ের প্রকৃতি অক্ষত রেখে গড়ে তোলা এ পার্কে বসলে চেঙ্গী নদীর ঝিরিঝিরি মৃদু ঠান্ডা বাতাস আপনি পাবেন হিমেল ঠান্ডা পরশের ছোঁয়া। হেরিটেজ পার্কের প্যাভিলিয়নে বসে চেঙ্গী নদী ও আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের সৌন্দর্য যে কারোরই মন ছুঁয়ে যাবে।

রামগড় চা বাগান
জেলার রামগড়ে সীমান্ত ঘেঁষে খাগড়াছড়ি জেলায় প্রবেশের সম্মুখভাগে খাগড়াছড়ি-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কের দু’পাশে গড়ে উঠেছে বিশাল চা বাগান। যা খাগড়াছড়ির পর্যটন শিল্পকে করেছে স্বয়ংসম্পূর্ণ। খাগড়াছড়িতে আসা ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের স্বাগত জানাতে এটি সদা প্রস্তুত। বিশাল এলাকাজুড়ে এই চা বাগানে আসলে পর্যটকরা বুঝতেই পারবে না, তারা চা বাগানের ভূমি খ্যাত সিলেট আছেন না পর্যটনের তীর্থভূমি খাগড়াছড়িতে।

রামগড় লেক
খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে খাগড়াছড়ির প্রবেশদ্বার রামগড় উপজেলা। উপজেলা পরিষদের সম্মুখভাগে ইংরেজি ডব্লিউয়ের অনুরূপ প্রায় ২৫০ মিটার লম্বা একটি হ্রদ। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াদুদ ভূইয়ার পরিকল্পনায় গড়ে তোলা রামগড় পর্যটন লেকটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং দৃষ্টিনন্দন। চারপাশ বাঁধানো লেকটি রেলিং ঘেরা এবং বাহারি সাজে সজ্জিত। লেকের উভয় পাশে যোগাযোগের জন্য মাঝখানে রয়েছে জিরাফ আকৃতির সুদৃশ্য ঝুলন্ত সেতু। লেকের দুই তীরে রয়েছে মনোমুগ্ধকর উদ্যান। এ উদ্যানে আগত দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য রয়েছে ১২টি শেড। এ লেকটি হতে পারে আপনার ভ্রমণের জন্য এক অনন্য স্থান। লেকের পাশেই রয়েছে উপজেলা পরিষদের মালিকানাধীন একটি ক্যাফেটেরিয়া। সবমিলিয়ে রাঙ্গামাটির আদলে নির্মিত ঝুলন্ত ব্রীজ, বোটানিক্যাল গার্ডেন, কৃত্রিম লেক, দৃষ্টিনন্দিত স্মৃতিস্তম্ভ ‘বিজয়’- সবকিছু মিলিয়ে হঠাৎ করে রামগড়কে ইউরোপের কোনো একটি সিটির মতো মনে হয়।

বিডিআরের জন্মভূমি
খাগড়াছড়ির সাবেক মহকুমা শহর রামগড়। তৎকালীন বিডিআরের (বর্তমান বিজিবি) জন্মস্থান এ রামগড়। বিজিবির শেকড়ের ইতিহাস জানা যাবে রামগড়ে। এখানে ফেনী নদীর কোলঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে বিজিবি স্তম্ভ। যেখানে খোদাই করে লেখা আছে, ১৭৯৫ সালের ২৯ জুন ‘রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন’র জন্ম ইতিহাস। এখানে রয়েছে স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত অনেক স্থান, স্থাপনা। রয়েছে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বিভাজনকারী ফেনী নদী। দেশের অনেক নামকরা সেক্টর কমান্ডাররা এখানেই মুক্তিযুদ্ধকালীন যুদ্ধ পরিকল্পনা এবং ভারতের সহায়তাসহ আরো অনেক গুরুত্ব কার্য সম্পাদন করেছিলেন। এখানে আসলে যে কোনো পর্যটকেরই ভালো লাগবে।

মানিকছড়ি রাজবাড়ী
খাগড়াছড়ি-ঢাকা সড়কের খাগড়াছড়ি জেলার প্রবেশমুখ মানিকছড়ি উপজেলা সদরে রয়েছে খাগড়াছড়ির অন্যতম দশর্নীয় স্থান মানিকছড়ি রাজবাড়ী। রাজবাড়ীতে রয়েছে মং সার্কেল চিফের (মংরাজা) রাজত্বকালীন স্থাপত্য। রাজার সিংহাসন, মূল্যবান অস্ত্রশস্ত্রসহ প্রতœতাত্তি¡ক অনেক স্মৃতি বিজড়িত এই রাজবাড়ী। আপনার ভ্রমণে মানিকছড়ি রাজবাড়ী হতে পারে অন্যতম আকর্ষণ। মং রাজার ইতিহাস, সংস্কৃতি জানা ও দেখার জন্য ঘুরে যেতে পারেন মং রাজবাড়ী।

শতবর্ষী বটগাছ
মাটিরাঙ্গা উপজেলা সদরের খুব কাছাকাছি আলুটিলা-বটতলী এলাকায় এ প্রাচীন শতবর্ষী বটবৃক্ষটি শুধু ইতিহাসের সাক্ষী নয়, এ যেন দর্শনীয় আশ্চর্যের কোনো উপাদান। দুই একরের অধিক ভূমির উপরে এ গাছটি হাজারো পর্যটকের কাছে দারুণ আকর্ষণীয়। মূল বটগাছটি থেকে নেমে আসা প্রতিটি ঢালপালা মাটিতে মিশে কালের পরিক্রমায় একেকটি নতুন বটবৃক্ষে পরিণত হয়েছে। ঢালপালা থেকে সৃষ্ট প্রতিটি বটগাছ তার মূলগাছের সঙ্গে সন্তানের মতো জড়িয়ে আছে আপন মমতায়। মাটিরাঙ্গা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এ ঐতিহ্যবাহী বটবৃক্ষের নামানুসারেই নামকরণ করা হয়েছে বটতলী বাজার। ইতোমধ্যেই বটগাছটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি স্কুল, মাদ্রাসা ও ছোট বাজার।

শান্তিপুর অরণ্য কুটির
১৯৯৯ সালে বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু শাসনারক্ষী স্থবির খাগড়াছড়ি জেলা শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যঘেরা পানছড়ির উল্টাছড়ি ইউনিয়নে গড়ে তোলেন শান্তিপুর অরণ্য কুটির। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি তীর্থস্থানের মতো। এ কুটিরের প্রধান আকর্ষণ বিশালকায় বৌদ্ধমূর্তি। শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় গৌতম বুদ্ধের মূর্তির দেখা মিলবে সবুজে ঘেরা শান্তিপুর অরণ্য কুটিরে।

তৈদুছড়া ঝরনা
খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলায় সবুজ পাহাড় আর বুনো জঙ্গলের মাঝে অবস্থিত নয়নাভিরাম ঝরনা দুটির নাম তৈদুছড়া ঝরনা। ত্রিপুরা ভাষায় ‘তৈদু’ হলো ‘পানির দরজা’ আর ‘ছড়া’ মানে ‘ঝরনা’। এ দু’য়ে মিলে দীঘিনালার ‘তৈদুছড়া ঝরনা’। অসাধারণ সৌন্দর্য আর প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য তৈদুছড়াকে এনে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। যা একবার দেখলে বার বার ছুটে আসতে চাইবেন। দীঘিনালার দুর্গম পাহাড়ের ‘তৈদুছড়া ঝরনা’ হতে পারে আপনার বিনোদনের বড় ক্ষেত্র।
পাহাড়র সৌন্দর্যকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেওয়া তৈদুছড়ার উন্নয়নে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো গেলে প্রচারের অন্তরালে থাকা তৈদুছড়া হয়ে উঠতে পারে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন চাবি। যা থেকে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে বহুগুণ। দেশ-বিদেশের পর্যটকদের বিচরণভূমিতেও পরিণত হতে পারে এ তৈদুছড়া।
সবমিলিয়ে পর্যটনের তীর্থভূমি খাগড়াছড়ির প্রাকৃতিক সৌর্ন্দযকে কাজে লাগাতে পারলে খাগড়াছড়ি হয়ে উঠতে পারে দেশের পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে অন্যতম। সেই সাথে দেশের অর্থনৈতিক চেহারা পাল্টে যাবে। প্রয়োজন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ও স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে আস্থা-বিশ্বাস। অতীতের সব ভ্রান্তি ভুলে পার্বত্য জনপদে পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সব নাগরিক এগিয়ে চলুক সামনের দিকে। পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাস স্থাপনের মাঝে রয়েছে এ অঞ্চলের প্রকৃত শান্তি ও সমৃদ্ধি। আমরা তাকিয়ে আছি সম্ভাবনাময় সমৃদ্ধি আর স্বপ্নমাখা আগামীর দিকে।

কিভাবে আসবেন
ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ির দূরত্ব ৩১৬ কিলোমিটার ও চট্টগ্রাম থেকে ১০৯ কিলোমিটার। রাজধানী শহর ঢাকার কমলাপুর, সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল, কলাবাগান থেকে সরাসরি বাস সার্ভিস রয়েছে খাগড়াছড়িতে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম থেকে আসতে হলে অক্সিজেন অথবা কদমতলী থেকে খাগড়াছড়ি অভিমুখী গাড়িতে উঠতে হবে।

কোথায় থাকবেন
খাগড়াছড়ি শহরের প্রবেশ মুখে চেঙ্গী নদীর তীর ঘেঁষে রয়েছে পর্যটন মোটেল। এছাড়াও জেলা সদরে হোটেল রয়েছে। সেখানেও থাকা-খাওয়ার সুযোগ-সুবিধা রয়েছে হাতের নাগালেই। খাগড়াছড়ি বাজার এলাকায় অনেকগুলো হোটেলে থাকতে পারবেন অনেক কম মূল্যে।

কোথায় খাবেন
খাগড়াছড়ির পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসবেন আর পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় খাবারের স্বাদ গ্রহণ করবেন না, তা কি হয়? বান্দরবান-রাঙ্গামাটির চেয়ে অনেকটা ভিন্ন ধরনের আতিথেয়তায় খাগড়াছড়ির খাবারেও রয়েছে পর্যটনের স্বাদ। আপনার চেনা-জানা খাবারের বাইরে ভিন্ন ধরনের খাবারে পাবেন ভিন্ন মাত্রার স্বাদ। খাবারের মান ও মেন্যু মিলে আপনার ভ্রমণে ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে।
খাগড়াছড়ি শহরের পানখাইয়াপাড়ার ঘরোয়া রেস্টুরেন্ট, মহিলা কলেজ রোড ও গোলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের পাশের হোটেলের আতিথেয়তা ভ্রমণে যোগ করবে ভিন্নতা। মাছ-মাংসের সাথে কলার মোচা ভর্তা, কাঁচা হলুদ ভর্তা, কলাপাতা মোড়ানো ছোট মাছ, কলমি ভর্তা, থানকুনি পাতা ভর্তা, ভিন্ন স্বাদের পাহাড়ি সেদ্ধ সবজি, পাহাড়ি হাঁসের মাংসের ভুনা, কাঁচকি ফ্রাই ও ভর্তাসহ কচি বাঁশের ভাজি থেকে শুরু করে উপজাতীয় কায়দায় রান্না করা খাবার আপনার খাবারের পুরনো ধারণাকে পাল্টে দেবে।