সব ধর্মেই মানবতা ও কল্যাণের কথা বলা হয়েছে : দীপংকর তালুকদার এমপি

রাঙামাটি প্রতিনিধি

10

মৈত্রীপূর্ণ চিন্তা চেতনা ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে স্ব-স্ব অবস্থান থেকে সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করার আহবান জানিয়েছেন রাঙামাটি সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার। তিনি বলেন, বৌদ্ধ ধর্মের মূলবাণী অহিংসা ও মৈত্রী। সকল ধর্মেই মানবতা, শুভ ও কল্যাণ চিন্তার কথা বলা হয়েছে। সমাজ থেকে হিংসা, দ্বেষ মুছে ফেলে মানবের হিতে ব্রতী হতে পারলে অহিংসা ও মৈত্রীপূর্ণ সমাজ গঠন সম্ভব।
গত শুক্রবার বিকালে বৈশাখী পূর্ণিমা ও ফুরমোন সাধনাতীর্থ আন্তর্জাতিক বনধাম কেন্দ্রের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ভৃগু মহাস্থবীর ভন্তের ৫৫তম শুভ জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৈশাখী পূর্ণিমা ও ফুরমোন সাধনাতীর্থ আন্তর্জাতিক বনধাম কেন্দ্রের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ভৃগু মহাস্থবীর ভন্তের ৫৫তম শুভ জন্ম বার্ষিকী অনুষ্ঠানে পূর্ণার্থীদের উদ্দেশ্যে দেশনা প্রদান করেন পূজ্য বনভান্তের শিষ্যপ্রধান ও রাজ বন বিহারের আবাসিক প্রধান অধ্যক্ষ শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাথেরো।
এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, জেলা পরিষদ সদস্য স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা, অমিত চাকমা রাজু, ৩নং ইউপি চেয়ারম্যান মৃনাল কান্তি চাকমা প্রমুখ। রাঙামাটি সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার আরো বলেন, আজ উপমহাদেশে ধর্মীয় উগ্রতা, ধর্মীয় শ্রেষ্ঠত্ববাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, ধর্মের নামে জঙ্গিপনা উপমহাদেশের সমাজ ও রাজনীতিতে যে অশুভ ছায়া ফেলছে তার বিরুদ্ধে শুভ, কল্যাণ ও মানবিক সম্মিলনীর মাধ্যমে শান্তি ও মৈত্রীর বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে। এর জন্য আমাদের সবাইকে সামাজিক-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবোধ থেকেই ঐক্যবদ্ধভাবে অগ্রসর হবে। তিনি আরো বলেন, জন্মের মাধ্যমে কেউ দুর্নীতি পরায়ণ, অসৎ ও অধার্মিক হয়ে জন্মায় না। সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও পরিবেশ থেকে সে শিক্ষা লাভ করে এবং সেভাবে সে আস্তে আস্তে নিজেকে প্রস্তুত করে।
তবে যে সমাজে মানুষের মধ্যে পারস্পারিক বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা এবং ন্যায়-নীতি বিদ্যমান সে সমাজ শান্তি ও সমৃদ্ধির দিকে ধাবিত হয়। মানুষের মন সদা পবিত্র থাকে ও অনেক ধর্ম পরায়ণ হয়। ফলে সমাজের মধ্যে বিরাজ করে অনাবিল সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি। তাই সবাইকে সমাজ ও জাতির উন্নয়নে বুদ্ধের বাণী অহিংসা ও মৈত্রীকে গভীরভাবে উপলব্ধি করে সবাইকে সমানতালে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি। এর আগে রাঙামাটি সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার ফুরমোন আন্তর্জাতিক ভাবনা কেন্দ্রের সিঁড়ি নির্মাণ ও ফরমোন সাধনাতীর্থ আন্তর্জাতিক বনধ্যান কেন্দ্রের রাস্তা কার্পেটিং এর ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করেন।