ভোক্তা অধিকার দিবসে র‌্যালি ও সভা

সবার জন্য মানসম্মত পণ্য নিশ্চিতে সরকার সচেষ্ট

6

বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় ও কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম এর যৌথ উদ্যোগে র‌্যালি ও সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে র‌্যালি শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সার্কিট হাউজে এসে শেষ হয়। বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেন। শুরুতে বিভাগীয় কমিশনার বেলুন উড়িয়ে দিবসটি শুভ সূচনা করেন।
চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে দিবসের প্রতিপাদ্যের ওপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা, স্থানীয় সরকার-চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক দীপক চক্রবর্ত্তী, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মেহেদী হাসান, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজর প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম, ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন।
আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আবিদা মোস্তফা, জেলা পরিষদ সদস্য আনোয়ারা বেগম, বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি ইলিয়াছ ভুইয়া, জেল পরিদর্শক ইয়ামুন্নাহার, দোকান মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক খালেদ খান চৌধুরী, ক্যাব বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছারেবী, ক্যাব মহানগর সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, দক্ষিণ জেলা সভাপতি আবদুল মান্নান, আইডিএফ প্রতিনিধি সুদর্শন বড়ুয়া প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান বলেন, এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও নিরাপদ খাদ্যের বিকল্প নেই। নিরাপদ খাদ্য ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে প্রধান মন্ত্রী জিরো টলারেন্স প্রদর্শনের নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে দেশের ভোক্তারা সচেতন নয়, ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো নানা কারণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে না। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কে সচেতন হতে হবে। যারা ১টি পণ্যের ব্যবসায়ী সে বা তার পরিবার আরও ৫টি পণ্যের ক্রেতা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দীপক চক্রবর্ত্তী বলেন, স্থানীয় সরকারের অধীন প্রতিষ্ঠানসমূহে ব্যবহার করে তৃণমূল পর্যায়ে ভোক্তা সাধারণকে সচেতন করতে হবে।
ক্যাব সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, বাংলাদেশের ভোক্তারা নিরাপদ ও মানসম্পন্ন পণ্য প্রাপ্তির বেলায় পুরোপুরি সংকটে রয়েছে। বাজারে ভেজাল ও মানহীন পণ্যে সয়লাব, কিন্তু প্রশাসনের যথাযথ নজরদারি সেখানে নেই। ভোক্তারা প্রতিনিয়তই প্রতারিত হচ্ছে, ঠকছে, আইনী সুবিধা নিশ্চিত হচ্ছে না। ভোক্তা অধিকার সুনিনশ্চিত করতে হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও আন্তরিক ও ভোক্তাবান্ধব হতে হবে।
চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম আসন্ন রমজান উপলক্ষ্যে ব্যবসায়ীদেরকে অনৈতিক মুনাফা অর্জন থেকে বিরত থাকার আহবান জানান। রমজানে দ্রব্যমূল্য ও ভেজালরোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির আহবানও জানান তিনি।
বিশেষ অতিথি অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শংকর রঞ্জন সাহা বলেন, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ মানসম্পন্ন পণ্য নিশ্চিত করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ইলিয়াছ হোসেন বলেন, কোথাও কোনো ভেজাল, মানহীন ও অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে জেলা প্রাশসন, বিভাগীয় প্রশাসন, ক্যাব ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে অবহিত করতে হবে। প্রয়োজনে সরকারের জরুরী সেবা ৩৩৩ এ ফোন করে অনিয়মের তথ্য জানানোর জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান তিনি।
সভায় সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ক্যাব নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, শিক্ষক, নারী নেত্রী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ও যুব সংগঠনের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ভোক্তা অধিকার বিষয়ে জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও ৩য় স্থান অধিকারীর মধ্যে প্রধান অতিথি নগদ সম্মানী, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করেন।