সবজির দাম কিছুটা কমেছে মাছ-মাংস বাড়তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

37

নগরীর বিভিন্ন বাজারে দুই সপ্তাহ পর কিছুটা কমতে শুরু করেছে সবজির দাম। এর আগে প্রত্যেক সবজির কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে ছিল। তবে গতকাল তা কমে কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে। এরই মধ্যে বাজারে নতুন ফুলকপি ও বাঁধাকপিসহ শীতকালীন সবজি আসতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দাম আরও কমে আসবে।
অন্যদিকে, মাছের দাম কিছুটা বাড়তি বলে জানালেন বিক্রেতেরা। তবে দিনভর বৃষ্টি হওয়াতে বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কম দেখা গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এছাড়াও কাঁচা মরিচ কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। ধানি মরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজি ২২০ টাকায়। শসা কেজি ২০ টাকা কমে ৫০ টাকা, গাঁজর ৫০ টাকা কমে কেজি ৭০ টাকা, লম্বা বেগুন কেজি ৬০ টাকা, গোল বেগুন কেজি ৫০ টাকা, টমেটো ১০ টাকা কমে কেজি ৯০ টাকা, চিচিঙ্গা কেজিতে ২০ টাকা কমে ৫০ টাকা, কাঁচা পেঁপে কেজিতে ১৫ টাকা কমে ৩৫ টাকা, কাকরোল কেজিতে ২০ টাকা কমে ৬০ টাকা, বরবটি কেজি ৭০ টাকা (অপরিবর্তিত), ঝিঙা কেজিতে ১০ টাকা কমে ৬০ টাকা, ধুন্দল কেজি ৬০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া কেজি ৪০ টাকা, লাউ কেজি ৪০ টাকা, চাল কুমড়া কেজি ৪০ টাকা, ঢেঁড়স কেজিতে ৩০ টাকা কমে ৫০ টাকা, কচুর ছড়া কেজিতে ৫ টাকা কমে ৪০ টাকা, কাঁচকলা এক হালি ২০ টাকায়। এছাড়া নতুন শীতকালীন সবজি মূলা কেজি ৫০ টাকা, বাঁধাকপি কেজি ৫০ টাকা , ফুলকপি কেজি ১২০ টাকা, শিম কেজিতে ৪০ টাকা কমে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে আলুর দাম কেজি ৪০ থেকে ৪২ টাকা।
সবজি বিক্রেতা মো. হৃদয় জানান, কয়েকদিন আগে সবজির দাম বেশি থাকলেও এখন একটু কম এবং ক্রেতারাও পর্যাপ্ত সবজি নিচ্ছেন।
এছাড়াও কচুশাকের আঁটি ২০ টাকা, লালশাক ২৫ টাকা, হেলেঞ্চা শাক ১৫ টাকা, কলমি শাক ১৫ টাকা, লাউ শাক ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়ার শাক ৩০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা, থানকুনি পাতা ২৫০ গ্রাম ৫০ টাকা, কলার মোচা প্রতি পিস ৪০ টাকা, ধনিয়া পাতার কেজি ১৪০ টাকা ও ক্যাপসিকাম কেজি ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের দাম অপরিবর্তিত থেকে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১২০ টাকা, সোনালি মুরগি কেজি ২১০ টাকা ও দেশি মুরগি কেজি ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৭৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আর খাসির মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা দরে।
মাংস বিক্রেতা কবির আহমেদ জানান, মাংসের দাম স্বাভাবিক আছে এবং চাহিদাও রয়েছে প্রচুর।
বাজারে বয়লার মুরগির ডিম প্রতি ডজন ৫ টাকা বেড়ে ১১০ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ডজনে ৫০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকা, হাঁসের ডিম ডজনে ২০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা এবং ১০০ পিস কোয়েলের ডিম ২৪০ টাকায় (অপরিবর্তিত) বিক্রি হচ্ছে।
ডিম বিক্রেতা সাইদুল ইসলাম বলেন, পাহাড়তলী বাজার থেকে পাইকারিতে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে আমাদেরও বেশি দামে ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে কি কারণে ডিমের দাম বাড়তি তা বলতে পারছি না।
মাছ বাজারে প্রতিকেজি রুই (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৮০ থেকে ২৮০ টাকা, মৃগেল ১৬০ থেকে ২৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১০০ থেকে ১৬০ টাকা, কাতলা ১৭০ থেকে ২৮০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, কই ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, শিং (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চিংড়ি আকারভেদে ৩৫০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি দরে।
মাছ ব্যবসায়ী মো. ইসহাক বলেন, গত দুইদিন ধরে আবাহাওয়া খারাপ হওয়ায় মাছ আসতে পারছে না। তাই কিছুটা দাম বাড়তি।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা বাজার কর্মকর্তা সেলিম মিয়া পূর্বদেশকে বলেন, শীতকালীন সবজি এরই মধ্যে বাজারে আসতে শুরু করেছে। তাই সবজির দামও ধীরে ধীরে কমে আসছে। এখন বাজারে ক্রেতা কম আর আবহাওয়া খারাপ হওয়াতে দাম একটু বাড়তি দামে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।