সবজির দাম কমেছে বেড়েছে মাছ-ডিমের

নিজস্ব প্রতিবেদক

15

সপ্তাহের ব্যবধানে চট্টগ্রামের বাজারগুলোতে সবজির দাম কমলেও বেড়েছে ডিম ও মাছের দাম। ডিমের দাম ডজন প্রতি ৫ টাকা বেড়ে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম ৫-২০ টাকা কমলেও বেড়েছে মাছের দাম।
গত ৭ অক্টোবর হতে সাগরে মাছ শিকার বন্ধ থাকার কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর নাসিরাবাদ দুই নম্বর গেট সংলগ্ন কর্ণফুলী মার্কেট ঘুরে বাজার দরের এ চিত্র পাওয়া গেছে।
বাজারটিতে শীতকালীন আগাম ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা কেজি। বাধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। তাছাড়া ঝিঙে, ঢেঁড়স ও শসা ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ২৫-৩০ টাকা, বরবটি ৪০-৫০ টাকা, চালকুমড়া ৩০-৩৫ টাকা, তিতকরলা, কাকরোল, বেগুন ও মুলা ৫০ টাকা, কাঁচা মিষ্টি কুমড়া ৩৫-৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৫-৩০ টাকা, লাউ ও পেঁপে ৩০ টাকা, শিম ১২০-১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজির দাম গত সপ্তাহে কেজিতে ৫-২০ টাকা পর্যন্ত বেশি ছিল।
তবে বাজারটিতে মাছের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বেশি। লোভনীয় সব মাছের পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। সাহাবুদ্দিনের মাছের দোকানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে ১০ কেজি ওজনের কাতলা। কথা হলে তিনি বলেন, ‘এটি আজকের বাজারে সবচে বড় মাছ। কেজি ৪০০ টাকায় বিক্রি করা হবে কাতলা মাছটি।’ অন্যদিকে জামালের দোকানে সাজানো রয়েছে ৭-৮ কেজি ওজনের বোয়াল মাছ। কথা হলে বিক্রেতা জামাল বলেন, ‘কর্ণফুলী বাজারে সব ধরনের ক্রেতারা আসেন। ব্যবসায়ী থেকে চাকরিজীবী প্রায় সবস্তরের মানুষ কর্ণফুলী মার্কেট থেকে বাজার করেন। তাই এখানে বড় মাছের চাহিদা থাকে। বোয়াল মাছটি প্রায় ৭-৮ কেজি হবে। প্রতিকেজি সাড়ে ৭শ টাকায় বিক্রি হবে।’ তিনি বলেন, ‘সাগরে মাছ শিকার বন্ধ। তাই ইলিশ মাছ বাজারে নেই। তাছাড়া সামুদ্রিক অন্য মাছের যোগানও কম। তাই গত সপ্তাহের তুলনায় মাছের দাম কিছুটা বাড়তি।’
বাজারে রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে সাইজভেদে ২২০-৩৮০ টাকা কেজি দরে। তেলাপিয়া প্রতিকেজি ১৪০-১৬০, কার্পু ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া মিঠা পানির কোরাল প্রতিকেজি ৫৫০ টাকা, বাটা ৩০০-৩৬০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, ফলি ৩০০-৩৫০ টাকা, জ্যান্ত শৈল মাছ ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সামুদ্রিক মাছের মধ্যে সুরমা ৫৫০ টাকা, কালিচান্দা ৫২০-৫৫০ টাকা, কোরাল ৭৫০, কই কোরাল ৫৬০, আইড় মাছ ৪০০, লইট্টা ১৫০, ছুরি ২৮০, চইক্কা সাইজভেদে ২৮০-৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড় ছোট চিংড়ি আকারভেদে প্রতিকেজি ৩৮০ টাকা, ৪০০ টাকা ও ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজার করতে আসা ব্যবসায়ী রুহুল আমিন বলেন, ‘মাছের দাম গত সপ্তাহের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ চলছে তাই হয়তো মাছের দাম বাড়তে পারে।’
বাজারে খাসির মাংস প্রতিকেজি ৭০০ টাকা, গরুর মাংস ৬০০ টাকা (হাড়ছাড়া) ও ৫০০ টাকা দরে (হাড়সহ) বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি এককেজি থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত ১২৫ টাকা, মাঝারি সাইজের প্রতিকেজি ১২০ টাকা এবং বড় সাইজের (৪-৫ কেজি ওজনের) কেজি ১১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালী জাতের মুরগি ২২০ টাকা, দেশি মুরগি ৩৬০-৩৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।