সন্দ্বীপের প্রাচীনত্ব

সাইফ রাব্বী, সন্দ্বীপ

5

মূলভূখন্ড থেকে বিছিন্ন সাগরকন্যা সন্দ্বীপের প্রাচীনত্ব নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে। ওপার বাংলার লেখকরা মনে করেন ইতিহাসে উদাসীন বাঙালি জাতি সন্দ্বীপের বয়স সম্পর্কে কোন নিদর্শন রাখেন নাই। সাগরপৃষ্ঠ হতে দ্বীপটির উচ্চতা ব্যতীত এর প্রাচীনত্বের কোন চিহ্ন দ্বীপে বর্তমানে নেই। তবে নোয়াখালী জেলা সম্পর্কে ইউরোপীয়দের লিখিত ইতিহাস থেকে ধারণা করা যাচ্ছে সন্দ্বীপের বয়স প্রায় তিন হাজার বছরেরও বেশী। ভাষাতত্ত্ববিদ পন্ডিত গ্রিয়ার্সন এর মতে সন্দ্বীপের ভাষার সাথে ঢাকার ভাষার বিশেষ সামঞ্চস্য আছে। সন্দ্বীপের ভাষাই দ্বীপটির প্রাচীনত্বের অন্যতম কারণ বলে তিনি মনে করেন। এছাড়াও সন্দ্বীপের প্রাচীনত্বের আরো দুইটি প্রমাণ আছে। ভিনিস দেশীয় পরিব্রাজক সিজর ফ্রেড্ররিক ১৫৬৫ খ্রিষ্টাব্দে কোচিন হতে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে সন্দ্বীপ এসে পড়েছিলেন। তিনি সন্দ্বীপের তৎকালিন অবস্থা দেখে যেসব বিবরণ রেখে গেছেন তা স›দ্বীপের প্রাচীনত্বের আরেক নিদর্শন। এর কিছুকাল পর ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে পারচাস নামক একজন ভ্রমণকারী সন্দ্বীপ এসেছিলেন। তিনি এ দ্বীপে ২/৩ শত বছরের পুরাতন মসজিদ দেখে স›দ্বীপের প্রাচীনত্বের সাক্ষ্য প্রদান করে গেছেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এ দ্বীপটি রহস্য এবং ঐতিহ্যে ঘেরা। ইতিহাস সংরক্ষণের গাফেলতির কারণে সন্দ্বীপের অনেক বিষয় অজানা। বর্তমানে সন্দ্বীপ উপজেলা পরিষদের পাবলিক লাইব্রেরিতে কোন ইতিহাসের বই সংরক্ষিত নেই বলে জানিয়েছেন বিশিষ্ট নাট্যকার উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।