সচেতনতা কিডনি রোগ কমাতে পারে

মুশফিক হোসাইন

15

বাংলাদেশে কোন না কোন কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় দুই কোটি। কিডনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি ঘণ্টায় দেশে কিডনি বিকল হয়ে মারা যাচ্ছে পাঁচজন মানুষ। অথচ এই রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয় বহুল। অধিকন্তু দেশে এর চিকিৎসাও সহজলভ্য নয়। তাই চিকিৎসকরা কিডনি বিকল রোগীর চিকিৎসার চেয়ে কিডনি রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন। এ জন্য তাঁরা সাধারণ মানুষ ও পেশাজীবীদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আহবান জানান। এছাড়াও কিডনি রোগ কমাতে সরকার ও গণমাধ্যমের ভূমিকার কথাও বলছেন।
সম্প্রতি ঢাকার একটি জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো আয়োজিত কিডনি রোগ প্রতিরোধযোগ্য : প্রয়োজন সচেতনতা’ বিষয়ক গোল টেবিল আলোচনায় দেশের শীর্ষ স্থানীয় রোগ বিশেষজ্ঞ ও সরকারী কর্মকর্তারা এ সব কথা বলেন। (১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮)। উক্ত গোল টেবিল বৈঠকে কিডনি ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিচার্স ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘নিরাপদ পানি, মশা মাছি, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, খাদ্যে ভেজাল-জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট এসব বিষয়ের সঙ্গে কিডনি রোগের সম্পর্ক আছে। অথচ মানুষ সচেতন হলে এই রোগ-প্রতিরোধ করা সম্ভব। উক্ত বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআরবি হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এম এ সামাদ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বছরে ৪০ হাজার রোগী কিডনি বিকল হয়ে মারা যাচ্ছে।’ কিডনি রোগের চিকিৎসার একটি প্রধান অংশ হচ্ছে ডায়ালাইসিস। অথচ ডায়ালাইসিস প্রয়োজন আছে এমন রোগীদের মাত্র ২০ শতাংশ এই চিকিৎসা নিতে সক্ষম। ব্যয় বহুল এ চিকিৎসার ডায়ালাইসিস শুরু করার পর ৬০ থেকে ৮০০ শতাংশ রোগী তা বন্ধ করে দেন অর্থের অভাবে। তাঁর মতে, ৯০ শতাংশ কিডনি রোগীর মৃত্যু হচ্ছে প্রায় বিনা চিকিৎসায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিডনি আমাদের শরীরকে বিষমুক্ত করে। মানুষের শরীরে দুটো কিডনি থাকে। যা একজন মানুষের শরীরে ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ২০০ লিটার রক্ত পরিশোধিত করে থাকে। তাই কিডনি মানব শরীরের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। চিকিৎসকদের মতো মানুষের দেহের ওজন, ডায়াবেটিক ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে কিডনি রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। আবার অস্বাস্থ্যকর খাবার হঠাৎ করে কিডনির পরিস্থিতি জটিল করে ফেলতে পারে। বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নেফ্রোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আছিয়া খাতুন উক্ত গোল টেবিল বৈঠকে বলেন, ‘কিডনি রোগ প্রতিরোধে শিশুদের শাকসবজি খাওয়া, চার ঘণ্টা পরপর প্রস্রাব করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।’ তিনি আলোচনা প্রসঙ্গে আরও বলেন, আলোচনায় নারী স্বাস্থ্যের বিষয়টি উপেক্ষিত থাকে। কিডনি রোগে থাকা কোন নারী গর্ভধারণ করলে রোগে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যায় এবং গর্ভের সন্তানের ঝুঁকি থাকে।
আমাদের সমাজে একটি ধারণা আছে বেশি পানি খেলে কিডনি ভালো থাকে। এ প্রসঙ্গে আমার একটি ঘটনা মনে পড়ে গেল। আমি চাকুরী উপলক্ষে ২০০০ সালে বগুড়ায় ছিলাম বছর খানেক। একটি বাগানঘেরা বাড়ির দোতালার ফ্ল্যাটে আমরা ৪/৫ জন থাকতাম। আমাদের সাথে থাকতেন শিল্প ব্যাংকের বগুড়ার জিএম রশীদ সাহেব। বেশ আমুদে এবং খাদ্য রসিক ছিলেন তিনি। তাঁর বাড়ি রাজশাহীতে। আমরা দু’জন মিলে বাজারে গিয়ে শীতের লাল গোল আলু, ধান খাওয়া চর্বিতে ভরা হাঁস, বিলের মাছ ইত্যাদি কিনে মনের আনন্দে খেতাম। রশীদ সাহেব ফজরের নামাজ পড়ে হাঁটতে যেতেন। ঘণ্টাখানেক হেঁটে এসে হাত মুখ ধুয়ে ডাইনিং টেবিলে বসতেন। তারপর বুয়া রোকেয়ার মাকে ডেকে কলসী থেকে শীতল পানি আনতেন দুই জগ। জগগুলো তাঁর নিজের কেনা। অতপর ঢক ঢক করে জগভরা পানি পান করে আহ্ করে একটি শব্দ করতেন। মানে পরম শান্তি। রশীদ সাহেব বলতেন খালি পেটে পানি খেলে কিডনি ভালো থাকে। বছর ঘুরতে আমি ঢাকার বাঙলা বাজারে বদলি হয়ে পড়ি। তখন এসআইবিএলের জয়ন্ত বগুড়ায়। বছর তিন পরে জয়ন্তর কাছ থেকে জানতে পারলাম শরীদ সাহেবের দুটো কিডনিই নষ্ট। তিনি চাকুরি ছেড়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন। কিডনি চিকিৎসার জন্য ডায়ালাইসিস করতে হয়। আমার ধারণা তাঁর অতিরিক্ত পানি পান করা উচিত হয়নি। কারণ কিডনির একটি সহনশীল ক্ষমতা আছে। তাই আমাদের উচিত হবে চিকিৎসক অথবা ডাইটেশিয়ানের পরামর্শ মতো পানি পান করা। এ প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো যে, শরীদ সাহেবের সাথে আমার ঘনিষ্ঠতার কারণ হলো তাঁর এক শালীর বিয়েতে গিয়েছিলাম হাটহাজারীতে। তাই সাক্ষাত ও পরিচয়ের প্রথম দিন থেকে তিনি আমাকে বদ্দা বলে সম্বোধন করতেন। অতএব অতিরিক্ত পানি পান থেকে সাবধান। অতএব বেশি পানি পানে কিডনি ভালো থাকে একথা পুরোপুরি সঠিক নয়। পানি বেশি খেলে প্রস্রাব বেশি হয়, কিডনির উপর চার পড়ে। অন্যদিকে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি থাকে। চিকিৎসা এখানো দেশে শিল্প হিসাবে বিকাশ করেনি। উপরোন্ত দেশে চিকিৎসকের যেমন ঘাটতি আছে, তেমনি আছে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের আরো ঘাটতি আছে দক্ষ নার্স, প্যারামেডিক ও টেকনিশয়নের। তাই প্রয়োজন সরকারিভাবে প্রতি জেলায় নেফ্রোলজি বিভাগ চালু করা এবং ডায়ালাইসিস যন্ত্র সরবরাহ করা কিডনি রোগ একটি নীরব ঘাতক। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকলে দেশের মানুষ অনেকাংশে সুস্থ থাকবে।
চিকিৎসকরা রোগে তীব্রতা অনুযায়ী কিডনি রোগকে পাঁচ স্তরে ভাগ করেন। দেশে ২ কোটি কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীর মধ্যে মাত্র শূন্য দশমিক দুই শতাংশ তীব্র কিডনি রোগে আক্রান্ত। অথচ পঞ্চম স্তরে থাকা কিডনি রোগীদের নিয়েই হইচই বেশি। চিকিৎসকরা বলছেন, প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরে থাকা ৫০ শতাংশ মানুষকে সচেতনতা বাড়িয়ে এই রোগ থেকে দূরে রাখা সম্ভব। আর তৃতীয় ও চতুর্থ স্তরে থাকা রোগীদের ঠিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে জীবন দীর্ঘায়িত করা সম্ভব। অতএব, কিডনি রোগে আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। যথাযথ চিকিৎসা নিয়ে নিজে সচেতন হলে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর। বিশেষজ্ঞরা কিডনি রোগ চিকিৎসার যে নির্দেশিকা তৈরি করেছেন তা সকল স্তরে অনুসরণ করা গেলে অনেকেই সুস্থতা ফিরে পাবেন। এছাড়াও কিডনি রোগী সনাক্ত করার জন্য সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহকে দেশের অভ্যন্তরে ক্যাপ পরিচালনা করার আবশ্যকতা আছে। বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের একটি খারাপ প্রবণতা আছে। নিজের চিকিৎসা নিজে করেন কিংবা ফার্মেসী থেকে জেনে নিয়ে ঔষধ সেবন করেন। আবার এমন প্রবণতাও লক্ষ্য করা যায় যে, অনেকেই বিশেষজ্ঞ না হয়েও অন্যজনকে অবাধে এটা খান ওটা খান ইত্যাদি পরামর্শ বিতরণ করে থাকেন। যার ফলে হিতের চেয়ে অমঙ্গল বেশি হয়ে থাকে। উন্নত দেশসহ আমাদের পাশের দেশ ভারতেও যততত্র ফার্মেসী গড়ে উটে না এবং তারা বিনা প্রেসক্রিপশনে ঔষধ বিক্রি করে না। বাংলাদেশে আইন থাকলেও প্রয়োগ নেই। ফার্মেসি ছাড়া পাড়া মহল্লার পানবিড়ি বিক্রেতা ও গ্রোসারীর দোকানে পাওয়া যায় কিছু ঔষধ। সাধারণ জ্বর, সর্দি কাশি, মাথা ব্যথার জন্য আপনি অনায়াশে ওষুধ কিনে গিলে ফেলতে পারেন। কিন্তু এক এক ওষেধের এক এক কার্যকারিতা তা সাধারণ মানুষের জানার কথা নয়। শুধুমাত্র চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞরা তা জানেন। এ প্রসঙ্গে আমার একটি অভিজ্ঞতার কথা পাঠকের সাথে শেয়ার করতে চাই। গ্যাসের সমস্যার জন্য আমাকে চিকিৎসক ‘নিউকেট’ খেতে দেন। বিভিন্ন সময়ে অন্যদেরও এটা খেতে দেখেছি। কয়েক বছর পর আমি একজন রোগীকে নিয়ে এক চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হই। তিনি রোগীর বিস্তারিত তথ্য গ্রহণ করার পর তাকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিউটেক খেতে পরামর্শ দেন। আমি বিস্ময়ে তাঁকে জানালাম, বলছেন, রোগীর এলার্জির সমস্যা, আর পথ্য দিচ্ছেন গ্যাসট্রিকের? চিকিৎসক জানালেন, একটি ঔষধে অনেক গুলি উপাদান থাকে। আপনার গ্যাসের সমস্যার জন্য যেটা খাচ্ছেন অন্যের অন্য উপসর্গে সেই ঔষধ প্রয়োগ হয়ে থাকে। এটা শুধু মাত্র চিকিৎসকেরাই জানেন। সাধারণ বিবেচনায় এটা সম্ভব নয়। তাই বলছিলাম ঔষধ সেবন করার সময় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিজের কিংবা ফার্মেসির হাতুড়েদের পরামর্শে ঔষধ সেবন থেকে বিরত থাকা মঙ্গল। অন্যথায় হিতে বিপরীত হতে কতক্ষণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগকে অসংক্রামক ব্যাধির আওতায় এনেছে। যদিও বাংলাদেশে তা আজো হয়নি। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, বাংলাদেশে ৬৭ শতাংশ মৃত্যু অসংক্রামক কারণে হয়ে থাকে। অসংক্রামক রোগের মধ্যে হৃদরোগ, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও শ্বাসতন্ত্রের রোগ উল্লেখযোগ্য হলেও কিডনি রোগীর কথা বাদ গেছে। অসংক্রামক রোগের কারণে মৃত্যুর অর্ধেকই হচ্ছে হৃদরোগ। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ুষ্কাল বেড়ে ৭২ বছর হয়েছে। এটি একটি শুভ সংবাদ। কিন্তু পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, বাংলাদেশে ২১ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন। উচ্চ রক্তচাপ কিডনি রোগের একটি প্রধান কারণ। অথচ অবাক করা বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ জীবনে কখনো রক্তচাপ মাপেনি। উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে আনতে সক্ষম হলে হার্টঅ্যাটাক, কিডনি রোগ, স্ট্রোকসহ নানা রোগ ব্যাধি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে চিকিৎসা প্রদ্ধতির অনেক উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কিডনি রোগ চিকিৎসার উন্নত ব্যবস্থা থাকলেও তা পর্যাপ্ত ও সুলভ নয়। এখন ও কিডনি রোগের চিকিৎসার জন্য বিদেশে রোগী গমনের সংখ্যা প্রচুর। আগেই বলেছি চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি ব্যাপক। আবার কিডনি রোগ চিকিৎসার ৯৮ শতাংশই শহর কেন্দ্রিক। বলা যায়, দেশের বিরাট সংখ্য রোগী বিশেষ করে গ্রামের রোগীরা চিকিৎসা সুবিধা থেকে দূরে আছেন। প্রতিবেশি ভারতে স্বাস্থ্য বীমার সুযোগ আছে। ফলে সেখানে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। বাংলাদেশে সে সুযোগ নাই। কিডনি রোগ একটি ব্যয়বহুল চিকিৎসা পদ্ধতি। কিডনি রোগ হলে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কিডনি রোগে মৃত্যুর কারণে একটি পরিবার অর্থনৈতিকভাবে কঠিন অবস্থার সম্মুখীন হয়। পরিবারের আয় উপার্জনকারীর মৃত্যু হলে পরিবারের আয় কমে যায়। ফলে তার উপর নির্ভরশীলদের লেখাপড়া চিকিৎসা এমন কি জীবন নির্বাহে বাধার সম্মুখীন হয়। আবার কিডনি রোগের সুচিকিৎসা না হলে রোগী দীর্ঘদিন ধরে রোগে ভোগে। এতে ব্যক্তি ও পরিবারের উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পায়। ফলে আর্থিক অস্বচ্ছলতা দেখা দেয়। সর্বশেষে বলা যায়, কিডনি রোগের চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল বলে দারিদ্র্যসীমা থেকে আসা ব্যক্তি বা পরিবার আবার অতি দারিদ্র্যের মধ্যে চলে যেতে পারে।
এ সকল কারণ বিবেচনায় এনে সরকার ও জনগণকে আরো সচেতন হতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিডনি রোগ সম্পর্কে গণসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে এই রোগ ৫০ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। অতএব, সরকারকে বেসরকারি সংস্থাসমূহ এবং বিদ্যমান চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক পদক্ষেপ ও কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিটি জেলা শহরে কিডনি চিকিৎসার জন্য ডায়ালাইসিস সুবিধা সম্পন্ন হাসপাতালে বেড সংস্থান করা বাঞ্চনীয়। এছাড়া স্বাস্থ্যবিমা চালু করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ যথাসম্ভব দ্রæত নিতে হবে।
বাংলাদেশে বর্তমান কিডনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে প্রজন্ম ভালো ভাবে গড়ে উঠবে না। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য জনসচেতনতার কোন বিকল্প নাই। নিয়মিত চেকআপ ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে। খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এবং খাদ্য নিয়ে সচেতন হতে হবে। মনে রাখতে হবে চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধে চাই সচেতনতা। সচেতনতা কিডনি রোগ কমাতে পারে।
লেখক : কবি নিসর্গী ও ব্যাংক নির্বাহী (অব.)