মাদকবিরোধী আইনের সংস্কারের উদ্যোগ

সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার বিকল্প নেই

31

মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার একটি জাতীয় সমস্যা। এর অপব্যবহারের শিকার হচ্ছে আমাদের যুব সমাজ। এর ভয়াবহ পরিণতি থেকে রক্ষা পাচ্ছে না এমনকি আমাদের শিশুরাও। মাদকের করাল গ্রাস থেকে নিরাপদ নয় দেশের ছাত্র ও যুব সমাজ। একটি দেশের যুব সমাজ যদি মাদকের কাছে পরাজিত হয় তবে তা দেশের জন্য ডেকে আনে মারাত্মক পরিণতি। মাদক ধীরে ধীরে একটি সমাজকে পঙ্গু করে দেয়। শিক্ষিত-অশিক্ষিত ও বয়স নির্বিশেষে সবাই মাদকের কাছে শিকার হতে পারে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির সম্মুখীন হয় উঠতি বয়সের তরুণরা। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গামী এসব তরুণরা ক্রমেই ঝুঁকে পড়ছে মাদকের দিকে। নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি চিরন্তন আগ্রহ থেকেই অনেকে ঝুঁকে পড়ছে নেশার জগতে। প্রথমে নিছক আগ্রহ থেকেই একটি আধটু নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ, অতঃপর স্থায়ী মাদকসেবী। কারণ, আগ্রহের বশে মাদক গ্রহণ করলেও বেশির ভাগই অন্ধকার জগত থেকে আর ফিরে আসতে পারে না। বর্তমানে যে নেশাজাতীয় দ্রব্যটি সবচেয়ে আলোচিত তা হচ্ছে ইয়াবা। এছাড়া ফেনসিডিল, প্যাথিডিন, হেরোইন, ক্যানাবিস ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। উচ্চমাত্রায় এলকোহোলের জন্য ভায়াগ্রা একটি জনপ্রিয় মাদকদ্রব্য। তরুণ প্রজন্মের কাছে ইয়াবা এখন একটি জনপ্রিয় নাম, প্রতিদিনের সঙ্গী। গণমাধ্যমে নজর রাখলেই দেখা যায় এর ভয়াবহ পরিণতি। প্রতিদিনই থাকছে ইয়াবা উদ্ধার অথবা ইয়াবাসহ যুবক আটক ইত্যাদি সংবাদ। বাংলাদেশে মাদক বিরোধী যে সব আইন আছে তার মধ্যে অন্যতম হলো-১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯৯ সালের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০০১ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ড বিধিমালা, ২০০২ সালের এলকোহোল নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ও ২০০৫ সালের বেসরকারি পর্যায়ে মাদকাসক্তি পরামর্শকেন্দ্র, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ও মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা বিধিমালা ইত্যাদি। এতো আইন থাকার পরও কমছে না মাদকদ্রব্যের ব্যবহার, কমছে না পাচার ও এর সাথে জড়িত অন্যান্য অপরাধ কর্মকাÐ। এ অবস্থায় সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণে বিদ্যামান আইনকে আরো যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেয়। বৃহস্পতিবার দৈনিক পূর্বদেশে এ সংক্রান্ত প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, সরকার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদÐ প্রস্তাব করে বিদ্যমান আইনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ নামে খসড়া এ আইনটি আগামী সংসদ অধিবেশনে উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
সূত্র জানায়, মাদক আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদÐের বিধানসহ কোন মাদকে কি শাস্তি তার বিধানও রাখা হয়েছে। জানা যায় প্রণীত আইনের খসড়া ইতোমধ্যে মতামতের জন্য বিভিন্ন সংস্থায় পাঠানো হয়েছে। আগামী সংসদের আগেই মতামতগুলো যাচাই করে খসড়া প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করা হবে। পূর্বদেশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় প্রধানমন্ত্রীর মাদকবিরোধী জিরো টলারেন্স নীতি এবং মাদক নির্মূলে বাস্তব পদক্ষেপ নেয়া ও মাদকের বিস্তার ঘটতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দেয়ার পর থেকেই মূলত মন্ত্রাণালয় আইনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। সূত্র আরো জানাই, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকাও প্রণয়ন করেছে বলে জানা যায়। এদের বিরুদ্ধে শিগ্গিরই গ্রেপ্তার অভিযান শুরু হবে বলে জানা যায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যামান আইনে ইয়াবার বিরুদ্ধে কোন কঠোর আইনি ব্যবস্থা না থাকায় প্রস্তাবিত আইনে সবোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদÐের বিধান রাখা হচ্ছে। এর সাথে সিসা বার’কেও এ আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
সা¤প্রতিককালে ‘সিসা’ নামে এ মাদকের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। অভিজাত এলাকাগুলোয় যেসব সিসা বার গড়ে উঠেছে সেগুলোয় সন্ধ্যার পরই নেশায় বুঁদ হয়ে যায় অভিজাত পরিবারগুলোর তরুণ-তরুণীরা। যার বেশির ভাগই স্কুল, কলেজ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া। বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসার পর সরকার এ ব্যাপারে নজরদারি বাড়িয়েছে। এমনকি অনেক স্থানে অভিযান চালিয়ে সিসা সেবনের উপকরণও জব্দ করা হয়েছে। এখন এই মাদককে সমূলে উৎপাটনে সরকার সিসাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় এনে কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের খসড়ায় এটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জানা গেছে। আমরা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। আশা করি আগামী সংসদে আইনটি পাশ হলে তা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আন্তরিকতার সাথে কাজ করবেন।