সংবাদ সম্মেলনে কাদের নির্বাচন বিএনপির অধিকার বসাবসির কী প্রয়োজন?

41

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘নির্বাচন বিএনপির অধিকার, এটা সুযোগ নয়। বসাবসির কী প্রয়োজন এখানে? সরকারের দয়াদাক্ষিণ্যের ওপর নির্বাচন করবে তারা? তাহলে সংলাপে বসবে কেন? নির্বাচন নিয়ে কোনও জটিলতা আছে বলে জনগণ মনে করে না।’গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদেরের ভাষ্য, ‘সংলাপ কেন হবে না, প্রয়োজন হলে হবে। কিন্তু এখন নির্বাচনের ব্যাপারে সংলাপের প্রয়োজনীয়তা দেখছি না। নির্বাচনের জন্য সংবিধানে যে পথ রয়েছে, সেই অনুযায়ী নির্বাচন হবে। সেই পথ নিয়ে সংলাপ করতে হবে কেন?’২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপের জন্য খালেদা জিয়াকে গণভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি যাননি। এছাড়া খালেদা জিয়ার ছেলে কোকো মারা যাওয়ার তাদের বাড়ির সামনে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু দরজা বন্ধ রেখে তাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। খবর বাংলা ট্রিবিউন এর।এসব প্রসঙ্গ টেনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সংলাপের পরিবেশ বিএনপিই রাখেনি। সেদিন প্রধানমন্ত্রীকে নোংরা ভাষায় অসৌজন্যমূলক কথা বলেছেন খালেদা জিয়া, মনে আছে? সেদিন প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে খালেদা জিয়া গণভবনে এলে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চেহারাটা অন্যরকম হতো। সংলাপের পরিবেশ তারাই নষ্ট করলেন। পুত্রহারা মাকে দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রী যাওয়ার পর ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে সংলাপের দরজা বন্ধ করে দিলেন তিনি। বিএনপি সংলাপের কথা যতই বলে, এটা তাদের রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি। সংলাপের মানসিকতা তাদের মধ্যে নেই। তারা সংলাপ চায় না। সংলাপের ইচ্ছা থাকলে নোংরা ভাষায় সংলাপের আহŸান প্রত্যাখান করতো না তারা।’ওবায়দুল কাদেরের ভাষ্য, ‘আন্দোলনের নামে এবার কোনও আগুন-সন্ত্রাস হলে বাংলাদেশের জনগণ বিএনপিকে মাঠেই প্রতিরোধ করবে। এজন্য কোনও সংলাপের প্রয়োজন হবে না। এবার আর কোনও অচলাবস্থা জনগণকে দিয়ে তৈরি করতে পারবে না তারা। আগুন-সন্ত্রাস করে তারা যে ভুল করেছে, সেই ভুলের মাশুল তাদের আরও অনেকদিন দিতে হবে।’সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ১২ জানুয়ারি বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। নির্বাচনের সময় নির্বাচনকালীন সরকার থাকবে, এটা সংবিধানেই আছে। ওই ক্যাবিনেটের কাজ ও আকার কমে আসে। তারা সরকারের রুটিন কাজ পালন করবে। নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো ইসির অধীনে চলে যায়। নির্বাচন কমিশনের যে যে সহযোগিতা দরকার, নির্বাচনকালীন সরকার তাই করবে।’জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাষণ যারা শুনেছেন তারা একবাক্যে প্রশংসা করেছেন ও সমর্থন দিয়েছেন বলে দাবি ওবায়দুল কাদেরের। তার বক্তব্য ‘প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশে এই ভাষণ পরবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নয়। পরবর্তী প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে জাতির উদ্দেশে এই ভাষণ দিয়েছেন তিনি। তার এই ভাষণ ইতিবাচক, গঠনমূলক ও রাষ্ট্রনায়কসুলভ ভাষণ। দলমত নির্বিশেষে এমনকি বিএনপির সমর্থকরাও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে ইতিবাচক রাষ্ট্রনায়কসুলভ আখ্যা দিয়েছেন। এই ভাষণে জনগণ খুশি হয়েছেন, গ্রহণ করেছেন। বিএনপি চরমভাবে হতাশ হয়েছে। হতাশাগ্রস্ত বিএনপি মিথ্যাচারের ভাঙা রেকর্ড আবারও বাজিয়েছে।’বিএনপিকে ইঙ্গিত করে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘মানুষের চোখের ভাষা যারা বোঝেন না, তারাই রাজনীতিতে ভুল করতে করতে ভুলের বালুচরে আটকায়। বিএনপি মানুষের চোখের ভাষা বোঝে না বলেই ৫ জানুয়ারির (২০১৪) নির্বাচন বয়কট করে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।’প্ররধানমন্ত্রীর ভাষণের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শনিবার গুলশান-২ নম্বরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তার দল। এখানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যদি নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে নতুন কিছু ভেবে থাকেন, তাহলে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বিএনপি মনে করে, সংলাপের মাধ্যমেই ২০১৮ সালের নির্বাচন সম্পর্কে অর্থবহ সমাধানে আসা সম্ভব।’