আলীকদমে ভোটের মাঠ উত্তপ্ত

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দুই চেয়ার‌্যান প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

লামা প্রতিনিধি

12

আসন্ন ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় নির্বাচনী পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার প্রেসক্লাব মিলনায়তনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল কালাম ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জামাল উদ্দিন পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে দুই প্রার্থী পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দেন। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম অভিযোগ করে বলেন, আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিক উল্লাহ আলীকদম থানায় যোগদানের পর থেকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জামাল উদ্দীনের পক্ষ নিয়ে সাধারণ ভোটার ও নেতা কর্মিদের বিভিন্ন মামলা-মোকাদ্দমায় জড়ানোর হুমকি প্রদর্শন করে আসছে।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিক উল্লাহ ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জামাল উদ্দিনের ছাত্র জীবনে রাজনীতির একই আদর্শের কথা তুলে ধরে বলেন, তারা দু’জন বাংলাদেশ ছাত্র শিবিরের রাজনীতি করতেন, উভয়ে ঘনিষ্ট বন্ধু। ভোট কারচুপি করে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিক উল্লাহ নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জামাল উদ্দিনকে চেয়ারম্যান বানিয়ে দেয়ার জন্য কাজ করছেন। এক পর্যায়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য প্রকাশ্যে ও গোপনে হুমকি প্রদান করা হয়। প্রার্থী আবুল কালাম আরো বলেন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিক উল্লাহর নেতৃত্বে গভীর রাতে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি, ভোট কারচুপি ও কেন্দ্র দখলের গোপন তথ্য রয়েছে। এ সব ঘটনার সূত্রপাত হলে উপজেলায় অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকা রয়েছে বিধায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিক উল্লাহকে প্রত্যাহারের দাবী জানাই। গভীর রাতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জামাল উদ্দিনের বাড়িতে যাতায়াত,প্রার্থীর সাথে গোপন বৈঠক এবং প্রতিপক্ষ প্রার্থীদেরকে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা প্রদান ও অনৈতিকভাবে হয়রানি করাই তার প্রমাণ বলে উল্লেখ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম। অপরদিকে একই দিন বিকালে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেন, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জামাল উদ্দিন। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, আলীকদম উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবুল কালাম নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকে আচরণ বিধি লঙ্ঘন ও বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করছে। আমার পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ গত ১১ মার্চ প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব ও জেলা রিটার্নিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাছে মেইলে এবং ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম গত নির্বাচনী প্রচারণা শুরু পর থেকে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে জনসভা করে যাচ্ছেন। আচরণ বিধি মেনে চলার জন্য স্থানীয় প্রশাসন থেকে নিষেধের পরও পেশীশক্তি দিয়ে বাধা-নিষেধ তোয়াক্কা করছেন না তিনি।
তিনি নিজের দোষ ঢাকতে স্থানীয় প্রশাসন তথা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিতর্কিত করতে আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিক উল্লাহ্-সহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে তিনি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিগত নির্বাচনগুলোতে স্বতন্ত্র প্রার্থী কালাম চকরিয়া, কক্সবাজার, উখিয়া, টেকনাফ ও মহেশখালী থেকে সন্ত্রাসী ভাড়া করে আনার রেকর্ড রয়েছে।
এছাড়াও পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের সাথে তার গোপন আঁতাত ছাড়াও মাদক ব্যবসায়ী, ইয়াবা চোরাচালানীর সাথে তার সম্পর্ক রয়েছে। সম্মেলনে উভয় প্রার্থীর নেতাকর্মী, সমর্থক, প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।