শেষ মুহূর্তে জমজমাট বেচাকেনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

25

শেষ মুহূর্তে এসে নগরীর পশুর হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার প্রচন্ড ভিড় দেখা গেছে। পবিত্র ঈদুল আযহার ছুটি শুরুর আগের দিন গতকাল সোমবার সবকটি পশুর হাটের চিত্র ছিল একই। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিক্রির জন্য কোরবানির পশু নিয়ে আসা বেপারী আর ক্রেতাদের দর কষাকষি শেষে বেচাকেনাও হয়েছে জমজমাট। ক্রেতারা কোরবানি দেয়ার পশু কিনেই হাট থেকে বেরিয়েছেন। সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানিয়েছে, এবারের ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নগরীতে মোট আটটি পশুর হাট ইজারা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি স্থায়ী ও ছয়টি অস্থায়ী পশুর হাট। এসব হাটে ঈদুল আজহার দিন সকাল বেলা পর্যন্ত চলবে কোরবানির পশু বেচাকেনা। ইজারা দেয়া বাজারগুলো হল, কর্ণফুলী পশুর হাট, সল্টগোলা রেল ক্রসিং হাট, পতেঙ্গা সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, পোস্তার পাড় উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, স্টিলমিল হাট ও কমল মহাজন হাট। ক্রেতা আকর্ষণ ও কেনাকাটা নির্বিঘœ করতে ইজারাদাররা হাটের মুখে সাজিয়েছেন দৃষ্টিনন্দন তোরণ। আর হাটের ভেতরে পশু বেঁধে রাখার জন্য পোতা হয়েছে বাঁশের খুঁটি। বৃষ্টি-বাদলেও যাতে কোরবানির পশু নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের বিড়ম্বনা বা অসুবিধায় পড়তে না হয় সেজন্য ত্রিপল ও সামিয়ানা টানানো হয়েছে। হাটে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
নগরীর বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে জানা গেছে, এবার কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, ফরিদপুর, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে বেপারীরা ট্রাকবোঝাই করে বিভিন্ন আকারের দেশি গরু হাটগুলোতে বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন। পাশাপাশি তুলনামূলকভাবে কম হলেও ভারত, নেপাল ও মিয়ানমার থেকেও বড় আকারের গরু আনা হয়েছে বাজারে। শুরুতে বেপরীরা দাম একটু বেশি হাঁকাচ্ছেন বলে ক্রেতারা অভিযোগ করলেও শেষদিকে এসে সহনীয় দামেই পশু বেচাকেনার কথা জানিয়েছেন। আর পর্যাপ্ত পশুর সরবরাহ থাকায় কোনও ধরনের গুজব শোনা যায়নি। ইজারাদাররাও তাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
বেপারীরা জানান, হাটে পশু আনার পথে পরিবহন ব্যয়সহ অন্যান্য খরচের সাথে ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি হলে তা পুষিয়ে নিতে পশুর দামও বেড়ে যায়। কিন্তু এবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কঠোর নজরদারি থাকায় সড়কে চাঁদাবাজি আর হয়রানি বিগত সময়ের তুলনায় কম পরিলক্ষিত হয়েছে। যে কারণে পশু বেপরীরা খোশমেজাজে স্বতঃস্ফুর্তভাবে হাটে গরু নিয়ে এসেছেন। বিভিন্ন আকারের দেশি গরুর উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি করা গরুও বাজারে চলে আসায় ক্রেতারা এবার সহনীয় দামেই গরু কিনতে পারছেন বলে তারা দাবি করেন। নগরীর বিভিন্ন পশুর হাট পরিদর্শন করে সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান নিরাপত্তা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পশু বেচাকেনা থেকে শুরু করে কোরবানির ঈদ উদযাপনে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ ফোর্স নিয়োজিত রয়েছে। প্রতারক চক্র যাতে কাউকে ঠকাতে না পারে সেজন্য সকলকে সচেতনতার পাশাপাশি নিরাপত্তাজনিত যে কোনও প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা নেয়ার অনুরোধ করেন তিনি। কোনও ধরনের অপরাধ কিংবা অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতার আলামত দেখলেই নিকটস্থ থানার ওসিকে জানানোর পরামর্শ দেন।