শুরু হল প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ২০১৯

লিটন দাশ গুপ্ত

10

গত ১৭ নভেম্বর রবিবার থেকে তারিখ শুরু হল প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা। সেই হিসাবে ইতোমধ্যে দুইটি বিষয়ের (ইংরেজী ও বাংলা) পরীক্ষা শেষ হয়েছে। আজ বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় পরীক্ষা, যা আগে পরিবেশ পরিচিতি সমাজ নামে অন্তর্ভুক্ত ছিল। কচিকাচা শিশু শিক্ষার্থীরা এরই মধ্যে দুটি পরীক্ষা দিয়ে, পরীক্ষার হলের পরিবেশ, পরীক্ষার্থী হিসাবে হলে নিজেদের করণীয় ইত্যাদি সম্পর্কে যেমনই অবগত হয়েছে, তেমনই পরীক্ষার ভয় ভীতি, দুর হয়ে একটি সামগ্রিক পরিবেশের সাথে যে অভিযোজিত হতে পেরেছে, এতে কোন সন্দেহ নেই।
তারপরেও, অবশিষ্ট পরীক্ষাগুলোতে শিক্ষার্থী তথা পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকগণ কিছু পরামর্শ গ্রহণ করলে, শিক্ষার্থী নিজেরা ও পিতা-মাতা তাঁদের প্রিয় সন্তান আরো সক্রিয় হয়ে সফলভাবে যেমন পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারবে, তেমনই পরীক্ষায় নম্বরও বৃদ্ধি পেয়ে প্রত্যাশা পূরনে সহায়ক হবে।
আর পরীক্ষা চলাকালীন আমার সংক্ষিপ্ত পরামর্শ গুলো হলো :
* প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী চলমান পরীক্ষায় নতুন ভাবে কোন প্রশ্নের উত্তর শিক্ষার্থীরা নিজে শিখন কিংবা অভিভাবক বা শিক্ষক কর্তৃক শেখানো বিশেষ কোন প্রয়োজন নেই। তবে পূর্বে শেখা প্রশ্নের উত্তর গুরুত্ব অনুযায়ী বার বার পুনরাবৃত্তি খুবই জরুরী।
* শেষ হয়ে যাওয়া পরীক্ষায়, ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের যদি, কোন ছোটখাটো ভুলত্রæটি হয়ে থাকে, সে জন্যে কোন পরীক্ষার্থী নিজে বা কোন অভিভাবক চিন্তা বা টেনশন না করার জন্যে পরামর্শ প্রদান করা হল।
* শেষ হয়ে যাওয়া পরীক্ষায়, শতভাগ উত্তর দিতে না পারলেও ক্ষতি নেই। শতভাগ পরীক্ষার্থী যে, প্রশ্নের শতভাগ উত্তর দিতে পারবে এই রকম কোন কথাও নেই। শিক্ষার্থীদের এই বিষয়ে বুঝাতে হবে।
* শিক্ষার্থীদের বুঝাতে হবে, ছোটখাটো ভুলত্রæটি হওয়া বা সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারা স্বাভাবিক। যা সাধারনত অধিকাংশ শিক্ষার্থীর হয়ে থাকে। তবে তা সীমিত পর্যায়ে থাকতে হবে। অর্থাৎ ৫/৬ নম্বরের বেশী নয়।
* ক্ষুদে পরীক্ষার্থীদের মানসিক ভাবে দৃঢ় ও আতœপ্রত্যয়ী করে তুলতে হবে। যাতে পরবর্তী পরীক্ষা গুলোতে, পূর্ববর্তী পরীক্ষার ছোটখাটো ভুল ত্রæটির কোন প্রভাব না পড়ে। পরীক্ষা নিয়ে তাদের সাহসী করে তুলতে হবে।
* এখানে প্রতি বিষয়ে ৮০ থেকে ১০০ নম্বর পযর্ন্ত এ+ নির্ধারিত। যে ছাত্র বা ছাত্রী ৮০ নম্বর পায়, এবং অপর জন যদি ১০০ নম্বর পায়, তবে দুজনের মধ্যে ২০ নম্বর পার্থক্য থাকলেও দুজনের গ্রেড এ+ হবে। তাই পূর্ববর্তী পরীক্ষার কথা চিন্তা না করে, অভিভাবক নিজে ও তাঁর সন্তানকে সান্ত¦না দেয়া উচিত।
* একই ভাবে বৃত্তি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে উপজেলা বা থানা পর্যায়ে নির্ধারিত ও নির্দ্দিষ্ট সংখ্যক বৃত্তি পেয়ে থাকে। এবং বর্তমানে প্রতি ইউনিয়ন থেকে দুজন ছাত্র ও দুজন ছাত্রী সর্বোচ্চ নম্বরের ভিত্তিতে সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি প্রদান করা হয়। তাই চলমান পরীক্ষার গুলোর গুরুত্ব কম নয়।
*) পরীক্ষা সব বিষয় শেষ না হওয়া পর্যন্ত, প্রত্যেক ছাত্রছাত্রী তাদের নিজেদের খাওয়া-দাওয়া চলাফেরা প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিশেষ সর্তক নেয়া প্রয়োজন। একই সাথে সময়মত ঘুম ও বিশ্রাম সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে।
* সবশেষে আগামী ২৪ নভেম্বর গণিত পরীক্ষা। গণিত পরীক্ষার আগে দুই দিন বন্ধ আছে। সেই হিসাবে এই দুই দিন ভালো ভাবে গণিতের প্রস্তুতি নিয়ে ভালো নম্বর পাবার প্রত্যাশা রাখতে হবে।
* প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা অপেক্ষাকৃত কম বয়সী শিক্ষার্থীর জন্যে হওয়ায়, সকলক্ষেত্রে শিক্ষার্থী অর্থাৎ পরীক্ষার্থীদের প্রাধান্য প্রদান করা হয়ে থাকে। তাই অভিভাবকদের চিন্তার কোন প্রয়োজন নাই।
ইতোপূর্বের বেশ কয়েকটি লেখায় আমি লিখেছিলাম, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনে প্রথম পাবলিক পরীক্ষা হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তাই প্রথম পাবলিক পরীক্ষা হিসাবে এবং অপেক্ষাকৃত কচিকাচা শিক্ষার্থী হওয়ায়, স্বাভাবিক ভাবে এই পরীক্ষার বেশী গুরুত্ব যেমন বহন করে, একই সাথে মানসিক চাপও অনুভব হয়।
এখানে অন্যান্য পরীক্ষার পরীক্ষার্থীর মত সমাপনী পরীক্ষার্থীদের তিন ধরনের ছাত্র ছাত্রী, যেমন – উত্তম, মধ্যম ও দুর্বল শিক্ষার্থী। যাদের দেখা যায়, যার যার অবস্থানে তাদের নিজেদের চাপ থাকে। কেউ বৃত্তি পাবার জন্যে চাপ, কেউ এ+ পাবার জন্যে চাপ, আবার কেউ অকৃতকার্য হয়ে একই ক্লাসে পুনরাবৃত্তি না হবার জন্যে মানসিক চাপ পরিলক্ষিত হয়। তাই তাদের মানসিক ভাবে দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তোলার দায়দায়িত্ব শিক্ষক, মাতা-পিতা ও অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের।
লেখক : প্রধান শিক্ষক, পশ্চিম গোমদÐী বশরত নগর স.প্রা.বি. (৮ম শ্রেণি পর্যন্ত), বোয়ালখালী, চট্টগ্রাম।