শুভ হোক হজযাত্রা

16

আর মাত্র একমাস পর ১৪৪০ হিজরি সনের পবিত্র হজ উদ্যাপন হবে। আর্থিকভাবে সামর্থবান মুসলমানদের জন্য অবশ্যই পালনীয় এ হজকে কেন্দ্র করে সারা দুনিয়ার মুসলমান উম্মুখ হয়ে আছেন পবিত্র মক্কা ও মদিনার পানে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশের মুসলমানদের বড় একটি অংশ এবার হজ সম্পাদনের জন্য নিবন্ধন করেছেন। এসব হজযাত্রীদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। শুরু হচ্ছে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে হজ ফ্লাইট। জানা যায়, আজ ৪ জুলাই থেকে বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। এ উপলক্ষে গত মঙ্গলবার থেকে হজযাত্রীরা হাজি ক্যাম্পে অবস্থান নেয়া শুরু করেছেন। আমরা আশা করি, আল্লাহর মেহমান এ হাজিরা নির্বিঘেœ এবং দুঃচিন্তা মুক্ত থেকে মক্কার পবিত্র ভুমিতে পৌঁছবেন।
হজ এজেন্সিগুলোর প্রতারণা, স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম এবং দুর্নীতির কারণে প্রতি বছরই হজযাত্রীদের পড়তে হয় চরম ভোগান্তির মুখে। এবার হাজিদের দুর্ভোগ কমাতে সরকারের পক্ষ থেকে নানারকম উদ্যোগের কথা শোনা যাচ্ছে। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীরা নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছবে এমনটাই প্রত্যাশা করছে সরকার। জানা গেছে, ফ্লাইট নির্বিঘ্ন করতে বিমান এবার নতুন অনেক কর্মসূচি নিয়েছে। হজযাত্রীদের টিকেট বাতিল বা তারিখ পরিবর্তন করলে বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রাখায় হজ এজেন্সিগুলো এবার হজ ফ্লাইট শুরুর আগেই টিকেট চূড়ান্ত করেছে। ফলে বিমান তার পরিকল্পনা অনুযায়ী হজের সব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে। এ বছর ৬৩ হাজার ৫৯৯ জন হজযাত্রী পরিবহন করবে বিমান। ইতোমধ্যে সাড়ে ৬২ হাজার টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে। আগামী দুদিনের মধ্যে পুরো টিকেট বিক্রি শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া কোটা পূরণ ও হজযাত্রী নিয়ে জটিলতা নিরসনে ১০ শতাংশ হজযাত্রী ‘রিপ্লেসমেন্ট’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে রেজিস্ট্রেশন করেও যারা কোনো কারণবশত হজে যেতে পারবেন না, তাদের স্থানে হজে যেতে ইচ্ছুক অন্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে বেসরকারি এজেন্সিগুলো। সরকারের উদ্যোগগুলো কতটুকু বাস্তবায়ন করা যায় সেটা এখন দেখার বিষয়। এবার অবশ্যই হজ এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বেসরকারি হজ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতি করার অভিযোগে ৩৭ হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ২০১৭ সালে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ কার্যক্রম পরিচালনায় বাংলাদেশ ও সৌদি আরবে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত শেষে এই হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশ থেকে এবার হজযাত্রীর কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার কোটা ৭ হাজার ১৯৮ জন এবং বেসরকারি কোটা ১ লাখ ২০ হাজার। প্রতিবারই হজের আগে এজেন্সির অনিয়মসহ নানাবিধ কারণে হজযাত্রায় বিঘœ ঘটে, এতে হাজিরা যেমন ভোগান্তিতে পড়েন তেমনি সরকারও বিভ্রত হয়। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর লক্ষাধিক মুসলমান হজ পালন করতে যান। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এ বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হয়ে আসছে। সাধারণভাবে আমাদের দেশের হজযাত্রীরা বয়স্ক। হজ এজেন্সিগুলোর প্রতারণার শিকার হলে তাদের জন্য বিড়ম্বনা বেশি পোহাতে হয়। হজ-ওমরাহ ব্যবস্থাপনার নীতিমালা নির্ভর থাকার বিষয়টি দুঃখজনক। নীতিমালায় অনিয়ম, প্রতারণা ও মানব পাচারের শাস্তি রয়েছে তিরস্কার থেকে শুরু করে লাইসেন্স বাতিল। দেখা যায়, শাস্তি হিসেবে কোনো এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল বা জরিমানা হলেও তাদের ব্যবসা বন্ধ থাকে না। দুর্নীতি-অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত অধিকাংশেরই রয়েছে একাধিক লাইসেন্স। শাস্তি হিসেবে এক লাইসেন্স বাতিল হলে তারা অন্য লাইসেন্স দিয়ে হজ বাণিজ্য অব্যাহত রাখে। কাজেই শুধু লাইসেন্স বাতিল নয়, বরং এ ক্ষেত্রে দোষী এজেন্সি মালিকদের শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়নও জরুরি। হজযাত্রীদের যে কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনা এড়ানোর জন্য সরকারকে সজাগ থাকতে হবে। আমরা সকল হাজি সুস্থ থেকে হজের যাবতীয় আহকাম শেষ করে আবারও আমাদের মাঝে ফিরে আসক এমনটি কামনা করি। শুভ হোক হজযাত্রা।