শীতের পথে উত্তরে ও পূবালী হাওয়ার সংঘাত

তুষার দেব

14

মধ্য হেমন্তেই হিমেল হাওয়ার হালকা দুলুনির সাথে কুয়াশার চাদরে মুড়িয়ে শীত উঁকি দিলেও সাগর-মহাসাগর হয়ে বায়ুমন্ডলে সঞ্চারিত অস্থিরতায় তা প্রথম দফায় হোঁচট খেয়েছে। অগ্রহায়ণের শুরুতে সুদূর আরব সাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ থেকে একখন্ড মেঘমালা ভারত মহাসাগর হয়ে বঙ্গোপসাগর দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে। আর উল্টো দিক থেকে নেপাল ও হিমালয় হয়ে শীতল উত্তুরে হাওয়া পঞ্চগড় দিয়ে দেশে ঢুকেছে তারও আগে থেকে। জলীয় বাষ্পে পূর্ণ পূবালী আর ও শুষ্ক উত্তুরে হাওয়ার সংঘাতে বায়ুমন্ডলে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। তবে, আজ রবিবার মেঘ সরে দিয়ে দিনের বেলায় তাপমাত্রার পারদ চড়ে গিয়ে রাতের দিকে নামতে থাকবে। এতে রাতের বেলা শীত পড়তে পারে।
অপরদিকে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় এই শুষ্ক ও শীতল আবহাওয়া খুব বেশি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সুযোগ দেখছেন না আবহাওয়াবিদরা। লঘুচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে আগামীকাল সোমবার নাগাদ নিম্নচাপ এবং তার পরেরদিন গভীর নিম্নচাপ হয়ে ঘূর্ণিঝড়েও পরিণত হতে পারে। লঘুচাপটি শেষ পর্যন্ত সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলেও তা গতিপথ মেনে প্রতিবেশি দেশ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়– উপকূলের দিকেই আঘাত হানার আলামত বিদ্যমান রয়েছে। ফলে, তার প্রভাবে দেশের বিভিন্নস্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হলেও কোনও ধরনের দুর্যোগের শঙ্কা নেই বলেই আবহাওয়াবিদদের কাছ থেকে আভাস মিলেছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, গত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন এলাকার আকাশে উড়ে আসা মেঘমালার উৎসস্থল হলো সুদূর আরব সাগর। সেখানে একটি গভীর নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। যা ক্রমশ ইয়েমেন উপকূলের দিকেই এগোচ্ছে। মূলত ওই নিম্নচাপ থেকেই একখন্ড মেঘমালা ভারত মহাসাগর হয়ে বঙ্গোপসাগর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ওই মেঘমালার সাথে রয়েছে আরব সাগরের শুষ্ক পূবালী হাওয়া। আর বিপরীত দিক থেকে নেপাল ও হিমালয় হয়ে শীতল উত্তুরে হাওয়ার পঞ্চগড় দিয়ে তারও আগে দেশে ঢুকেছে। জলীয় বাষ্পে পূর্ণ পূবালী ও উত্তুরে হিমেল হাওয়ার সংঘাতে দেশের বায়ুমন্ডলে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান বলেন, শীত ঋতুর আগমনের সময় পূবালী ও উত্তরের শীতল হাওয়ার মিলন মোটেও অস্বাভাবিক কিছু নয়। এ কারণে আকাশে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছড়িয়ে পড়া মেঘমালা থেকে কোনও কোনও এলাকায় বষ্টি ঝরেছে। আমরা এই শীতে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি হতে পারে বলে মাসের শুরুতে দেয়া দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসেই জানিয়েছিলাম। পূর্বাভাস অনুযায়ী এই হালকা বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বয়ে গেছে। তবে রবিবার থেকে দিনের বেলায় রোদের পাশাপাশি রাতের বেলা তাপমাত্রা কমে শীত পড়বে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পরবর্তী চব্বিশ ঘন্টার জন্য প্রচারিত আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা বা দৃশ্যপটে বলা হয়েছে, মৌসমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে এবং এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। আর পূর্বাভাসে বলা হয়, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় হালকা বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পার। এছাড়া, দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের উত্তরাঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং অন্যত্র প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। পরবর্তী আটচল্লিশ আবহাওয়ার অবস্থায় তাপমাত্রা আরও হ্রাস পেতে পারে এবং বর্ধিত পাঁচদিনে আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার চট্টগ্রামে দেশের সর্বোচ্চ ৩১ দশমিক নয় এবং তেঁতুলিয়ায় সর্বনি¤œ ১৫ দশমিক ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।