শীতের আগেই চট্টগ্রামে চোখ রাঙাচ্ছে করোনা

আসহাব আরমান

58

শীত মৌসুমে দেশে করোনা প্রকোপ বাড়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। শীতে সাধারণত মানুষ সর্দি-কাশি জাতীয় রোগেই বেশি আক্রান্ত হয়। পাশাপাশি শীতল আবহাওয়ায় করোনা সংক্রমণ বেশি হয়ে থাকে। তাই শীতকালে করোনা সংক্রমণ বাড়বে বলে ধারণা করা হয়েছিলো। কিন্ত চট্টগ্রামে শীতের আগেই বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। গত কয়েকদিন যাবৎ লক্ষণীয় হারে বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। বেশ কিছুদিন ধরে চট্টগ্রামে আক্রান্তের পরিমাণ ৫-৬ শতাংশের মধ্যে নেমে এসেছিলো। তবে হঠাৎ করেই চট্টগ্রামে আক্রান্তের হার ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। সতর্কতা অবলম্বন না করলে অচিরেই ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত গত এক সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ১০ অক্টোবর (শুক্রবার) ৮৪৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৮৭ জনের শরীরে শনাক্ত হয়। নমুনা অনুপাতে শনাক্তের এই হার ১০ দশমিক ২৫ শতাংশ। ১১ অক্টোবর ৪৪০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। নমুনা অনুপাতে শনাক্তের এই হার ১০ শতাংশ। ১২ অক্টোবর ৯৭২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৯০ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। নমুনা অনুপাতে শনাক্তের এই হার ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। ১৩ অক্টোবর ৮৮৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৬০ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। নমুনা অনুপাতে শনাক্তের এই হার ৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ১৪ অক্টোবর ৯৮০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১০১ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। নমুনা অনুপাতে শনাক্তের এই হার ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ। ১৫ অক্টোবর ৮৭৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৭৪ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। নমুনা অনুপাতে শনাক্তের এই হার ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। ১৬ অক্টোবর ১ হাজার ১১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৯০ শরীরে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। এই দিন নমুনা অনুপাতে শনাক্তের এই হার দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রামে মোট ৬ হাজার ১৮ জনের নমুনা নমুনা পরীক্ষায় ৫৪৬ দেহে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মাহফুজুর রহমান পূর্বদেশকে বলেন, মানুষের জীবন ও জীবিকার কথা বিবেচনা করে সবকিছু স্বাভাবিক করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মানুষকে নিজ থেকে সচেতন হতে হবে। স্বাস্থবিধি মেনে চলাচল করতে হবে। পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করতে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।
চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি পূর্বদেশকে বলেন, শীতল আবহাওয়ার কারণে সংক্রমণের হার কিছুটা বাড়ছে। শীত মৌসুমে হয়তো আরও বাড়তে পারে। তাই নাগরিকদের চলাফেরায় আরও সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। আমরা নাগরিকদের সচেতন করতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি।
উল্লেখ্য, আসন্ন শীত মৌসুমে করোনা মহামারি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করলে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসহ ২২টি মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভাগকে আগাম প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি নির্দেশনা জারি করেছে।
শীতকালীন করোনা মোকাবেলার প্রস্তুতি সম্পর্কে সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, শীতকালের জন্য আমরা সার্বিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। রোগী বাড়লে অক্সিজেনের যাতে কোনো রকম ঘাটতি না হয় সেজন্য চট্টগ্রামের অন্যতম দু’টি হাসপাতালে স্থাপন করা হয়েছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট। পাশাপাশি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা ও পর্যাপ্ত আইসিউ সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১ লক্ষ ১৭ হাজার ৮৮০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৯ হাজার ৯৭৩ জন কোভিট রোগী শনাক্ত হয়েছে। কোভিট আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৩০১ জন এবং সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছে ১৫ হাজার ৬৯৫ জন কোভিট রোগী।