শিশু মৃত্যুর হার কমলেও পানিতে ডোবার হার বেড়েছে

মুশফিক হোসাইন

17

জামাল খান সড়কে দাঁড়িগোঁফ নিয়ে এক তরুণকে দেখা যায়। তার কাঁধে ছোট একটা ব্যাগপ্যাক। হাতে কাগজ কলম। শ্যামলা গড়নের ঐ যুবাকে প্রায়শ আমি দেখি। কখনও ডা. খাস্তগীর স্কুলের সামনে কিংবা ল্যাব এক্সপার্টের সামনে। ভাসমান হকারদের এক পাশে বসে আপন মনে কবিতা লিখে যাচ্ছেন। হাতে রক্ষিত নোট খাতায় কবিতা আর কবিতা। তাঁর মুখে অমলিন হাসি লেগেই থাকে। নিজে একজন কবি বলে তাঁর কাজ কারবার আমি বৈকালিক হাঁটার সময় লক্ষ্য করি। মজাও পাই দেখে পুলকিত হইতে তাঁর সাথে পরিচয় সূত্রটা বেশ মজার। একদিন গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। তিনি চিটাগাং সিনিয়ার ক্লাবের সীমানা প্রাচীরের ভেতরের উইপিং দেবদারুর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন, বেদনার্ত দৃষ্টি দিয়ে। তাঁর কাজ কারবার দেখে আশেপাশে কিছু লোকজন জড়ো হয়ে দেবদারুর ডালের দিকে অধীর আগ্রহে উকিঝুঁকি দিচ্ছে। বাঙালিদের কোন বিষয় নিয়ে অহেতুক জটলা করা ঐতিহ্যগত। আমি বিস্ময়ে দাঁড়িয়ে জানতে চাই ব্যাপার কী ? কবি সাহেব হাসতে হাসতে বললেন কিছু না, ঐ পাতার ফাঁকে দেখেন মৌটুসী পাখির বাসা। ওখানে চারটা ছানা আছে। ওদের মা-বাবা ওদের খাওয়ায়। বৃষ্টিতে ওদের অসুবিধা হচ্ছে। আমি তাদের কষ্ট দেখে দুঃখ পাচ্ছি। আর দেখুন লোকজন তাম্সা দেখছে। এই সেদিন তার সাথে আমার প্রথম কথা। সামান্য পাখির ছানার জন্য তাঁর মন কাঁদছে। তাহলে কবিরা কি আবেগপ্রবণ! মানুষ তথা সৃষ্টিজগতের ব্যথা বেদনায় তাদের মন কাঁদে ?
এ প্রসঙ্গে বলা ভালো যে গত ২/৩ বছর ধরে আমার লনে মৌটুসী পাখির দেখা পাচ্ছি। বিশেষ করে সকালে ও দুপুরের দিকে। আমার লনে একটি ম্যাক্সিকান চিংড়ি ফুলের গাছ আছে পাশের ছাদে কামরাঙ্গা ও বেলেম্বুর গাছ। এই গাছ গুলোতে যখন ফুল আসে, তখন তাদের ২/১ জোড়াকে মধু খেতে আসতে দেখি। তারা মধু খাওয়ার সময় শিষ দেওয়ার মতো শব্দ করে। শব্দ শুনতে শুনতে আমি অভ্যস্থ হয়ে পড়ি। শব্দ শুনেই বুঝতে পাড়ি অতিথি এসেছে। পর্দার আড়ালে থেকে তাদের মধু খাওয়ার ভঙ্গিটা দেখি। আর ভাবি কোথায় যেন তারা বাসা বেধেঁছে ? মনে মনে তাদের খুঁজছিলাম। এর আগে এত কাছ থেকে মৌটুসীর মধু খাওয়ার দৃশ্য দেখিনি। এদের অবলোকন করা আমাদের প্রাত্যাহিক কাজের অঙ্গ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রতিদিনের জগিং এর সময় কবি সাহেবকে দেখি। ঐ ঘটনার পর একদিন তিনি হাত নেড়ে সালাম জানালেন এবং জানতে চাইলেন, কেমন আছি ? এভাবে তাঁর সাথে মাঝে মধ্যে ভাব বিনিময় হয়, কথা হয়, তার কবিতা দেখি। তিনি কবিতার বিষয় বস্তু নিয়ে কথা বলেন। তাঁর কথার মাঝে জেনে নেই তিনি অবিবাহিত। যাকে ভালবাসতেন তিনি অন্যের ঘর করছেন। তাই তিনি এখন ঘর ছাড়া হয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়ান। বাড়ি কুষ্টিয়ায়, এখন কবিতা তাঁর প্রেম। পথে প্রান্তরে ঘুরে বেড়ান আর গাদা গাদা কবিতা রচনা করেন। কারো কাছে হাত পাতেন না, কেউ দিলে খায় না হয় উপোষ করেন। ভাসমান ফেরিওয়ালারা তাঁকে এটা সেটা খেতে দেন। তাই তাদের সাথে ভাব। তাদের আশেপাশে বসে কবিতা লেখেন। তাঁরাও তাঁকে শ্রদ্ধা করে বলে মনে হল।
তাদের বসার টুলটি তাকে ছেড়ে দেয়। আর কবি সাহেব আপন মনে লিখে যান কবিতা। একদিন দুঃখ করে জানালেন তার তিনটি কবিতার পান্ডুলিপি কেউ চুরি করে নিয়ে গেছে। তাই সেদিন তাঁর মনে কষ্ট। আমাকে পেয়ে দীর্ঘক্ষণ বোঝালেন। বললেন যে নিয়ে গেছে ওরা তো মূর্খ কবিতা কি বুঝবে ? এভাবেই তার সাথে ভাব বিনিময় চলে হালকা পাতলা ভাবে। সম্প্রতি জানালেন, ভাই আপনি কি পত্রিকা পড়েছেন ? আমি বললাম কেন ? কবি সাহেব বললেন, বাংলাদেশে এখন পানিতে পড়ে বেশি শিশু মারা যাচ্ছে। আর সব চেয়ে বেশি মারা যায় রাউজান উপজেলায়। গতকাল দেখলাম জানুয়ারি থেকে আগস্ট ২০১৮ পর্যন্ত ৭ মাসে শুধু বাঁশখালীতে মারা গেছে ৩৪টি শিশু। মা-বাবা প্রশাসন যদি উদ্যোগ না নেয় তবে শত শত ছেলে মেয়ে পানিতে পড়ে মারা যাবে ! তিনি এর প্রতিকার চান। তাঁর মনে এ জন্য দারুন কষ্ট। এই পানিতে পড়ে মৃত্যু নিয়ে আজকের কবিতার বিষয় বস্তু। পাল্টা প্রশ্ন করে বসলেন বলেন তো ভাই কেমন হবে। আমার বুঝতে দেরি হলো না স্বভাবে বোহেমিয়া হলেও সমাজ সচেতন এই কবি। নাম তাঁর আজিজ না আজিজুর মনে নেই তিনি সমাজের দুঃখ কষ্টে ব্যথিত হন, কষ্ট পান। তিনি বৃষ্টির ঝাপটায় মৌটুসী পাখির ছানা খেতে পাচ্ছে না, পুকুরে তথা পানিতে পড়ে মানব শিশু মারা যাচ্ছে, জিনিষপত্রের দাম বাড়ছে, ভাসমান মানুষ মাথা গোজার স্থান পাচ্ছেন না এ বিষয়গুলো তাকে ভীষণ ভীষণ কষ্ট দেয়। অথচ প্রেমে ব্যর্থ হয়ে তিনি ঘর বাড়ি ছাড়া হয়ে পথে পথে ঘুরে ঘুরে কবিতা লিখে যাচ্ছেন। তাঁর কবিতা পুস্তকাকারে ছাপা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এমন কি কোন সাময়িকীতে ছাপা হবে কিনা সন্দেহ। তিনি জাত কবি সমাজের দুঃখ কষ্টে তাঁর আত্মা নাড়া দেয়।
কবি সাহেবের কথা মত আমি দৈনন্দিন পত্রিকা গভীর ভাবে পর্যাবেক্ষণ করতে শুরু করলাম। হা তাঁর কথার সত্যতা পাওয়া গেল। বাড়ির পাশের পুকুরে দুপুর বেলায় গোসল করতে গিয়ে প্রতিনিয়তই শিশুরা পানিতে পড়ে মৃত্যুবরণ করে। বিশেষ করে বর্ষায়, কিংবা ঈদে পার্বনে শহরে মানুষেরা যখন নাড়ীরটানে গ্রামের বাড়িতে যায়। তখন বাবা-মার অসাবধানতার কারণে প্রায়শ ছেলে মেয়েরা পানিতে ডুবে মারা যায়। যদিও বাংলাদেশে বিভিন্ন রোগে শিশুমৃত্যুর হার কমেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর হার দিন দিন বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশে দীঘি পুকুর জলাশয় এখন জবর দখলের আওতায়। গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের ৬০ শতাংশ দীঘি পুকুর জলাশয় ভরাট হয়ে গেছে। গত শতকে শুধু চট্টগ্রামেই ছিল লক্ষাধিক পুকুর দীঘি ও জলাশয়। তার সংখ্যা এখন মাত্র হাজারের ঘরে এসে পৌঁছেছে। তার পরও পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর হার বেড়েই চলেছে।
এ প্রসঙ্গে আমার কৈশরের কথা মনে পড়ে গেল। আমরা তখন চট্টগ্রাম বন্দরের টার্না মার্চেন্ট কম্পাউন্ড এলাকার বন্দর আবাসিকে থাকতাম। সেখানে টার্না মার্চেন্ট কোম্পানীর বাগান বাড়ি ছিল। পাকিস্তান (১৯৪৭ সালে) হওয়ার পর বন্দর কর্তৃপক্ষ বাগান বাড়ি এলাকা অধিগ্রহণ করে আবাসিক এলাকা গড়ে তোলে। আবাসিক এলাকার আশেপাশে ছিল ৪টি পুকুর। গোসল, অজু, কাপড় ধোঁয়াসহ প্রায় সকল প্রয়োজনে সামনের ঘাট বাধানো পুকুরটি ব্যবহার করতাম। ঘাটের পাশে ছিল বিশাল ও প্রাচীন এক সেজনা গাছ। বর্ষায় মানকচুর পাতা মাথায় দিয়ে আমরা পুঁটি মাছ ধরতাম বড়শি দিয়ে। বর্ষায় পুঁটির মাছের গায়ে রংধনুর মতো রেখা দেখা যেত। দেখতে ভারী সুন্দর। আমার বন্ধু মাহমুদ, তার দু’বোন, সুফিয়া আর লুৎফা। বয়সে আমাদের ২/৩ বছরের ছোট। কোন এক বর্ষায় প্রথম সুফিয়া পানিতে পড়ে মারা গেল। ঠিক পরের বছর লুৎফাও পানিতে পড়ে মারা গেল। মৃত্যু কি তখনও বোঝার বয়স হয় নি। মাহমুদের মায়ের গগন বিদারী কান্না দেখে বুঝতে পারলাম মৃত্যু মানে মা-বাবাদের কান্না, আহজারী। আমাদের বলা হল, সন্ধ্যায় যেন আর পুকুর পাড়ে না যাই। জিন-ভুতে পানিতে ডুবিয়ে মেরে ফেলবে। আমার আজও মনে আছে, তখন আমাদের পাঠ্য ছিল কবি যতীন্দ্র মোহন বাগচীর ‘কাজলা দিদি’ কবিতাটি। বাবা আমাকে কাজলা দিদি কবিতাটি আবৃত্তি করে শোনাতেন, আর বলতেন মুখষ্ত কর- পরীক্ষায় আসবে। ‘কাজলা দিদি’ আমি আজ অবধি মুখস্ত করতে পারি নি। বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ঐ, মাগো আমার শোলক বলা কাজলা দিদি কৈ/পুকুর ধারে লেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে’ / ‘ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না একলা জেগে রই ’। এই পুকুর পাড়ে খেলতে গিয়ে হাজার হাজার শিশু কিশোর পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে ? সে জন্য ব্যথায় কাতর সেই কবি ? আমাদের মানবতা কি সাড়া দেয় না। কেন আমরা সোচ্ছার হচ্ছি না পানিতে ডুবে মরার বিরুদ্ধে। কেন জন সচেতনতা গড়ে তুলছি না ?
বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিচার্স, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) ২০১৬ সালে পানিতে ডোবাসহ বিভিন্ন ধরনের জখমে মৃত্যু ও আহতদের নিয়ে একটি জরিপ করে। সেই জরিপে দেখা যায় প্রতিদিন বাংলাদেশে ৫৩ জনের মৃত্যু হচ্ছে পানিতে ডুবে। এর মধ্যে ১ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোর হচ্ছে ৪৯ জন এবং বয়স্ক ১৩ জন। উক্ত জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৬ সালের সারাদেশে পানিতে ডুবে মারা যায় ১৯ হাজার ২৪৭ জন। বয়স্ক মানুষ মারা গেছে ৪ হাজার ৮০৯ জন। সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসা খাতের বিভিন্ন তথ্যে জানা যায় বাংলাদেশে সংক্রামক সহ বিভিন্ন রোগে শিশুমৃত্যুর হার কমে আসছে। যা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর হার দিন দিন বেড়েই চলেছে। ৯০ এর দশকে ১২ শতাংশ ৬০ মাস বয়সী শিশুমৃত্যুর কারণ ছিল পানিতে ডুবে। ২০১১ সালে এ হার বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। মুশকিল হচ্ছে, আমাদের দেশে কোন জরিপ চলমান থাকে না। যদি প্রতি বৎসর জরিপ চলমান থাকত তবে আপ টু ডেট ডাটা বা তথ্য আমাদের হাতে থাকত।
গবেষকদের মতামত হলো যে, পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর খবর সব সময় গণমাধ্যমে আসে না। আবার পানিতে ডুবে আহত হওয়া মানুষদের খবর অনেকেই রাখেন না। ফলে একটি তথ্য শূন্যতা বিরাজ করে সব সময়। জাতীয় জরিপ অনুযায়ী ২০১৬ সালে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৭৬ জন মানুষ পানিতে ডুবে আহত হন। বলা যায় প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে ৩৯৬ জন মানুষ পানিতে ডুবে আহত হন।
দেশে শিশুমৃত্যুর কারণ নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করছেন আন্তর্জাতিক উদারাময় গবেষণা কেন্দ্রের (আইসিডিডিআরবি)। শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান শামস-এল-আরেফিন এ গবেষণার মধ্যমনি। ২০১৬ সালে শিশুমৃত্যু নিয়ে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে একটি প্রবন্ধ ছাপা হয়েছে তার অন্যতম লেখকও তিনি। তিনি জানান শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি পানিতে ডুবে মারা যায়। যা াবছরে প্রায় ৮ হাজারেরও বেশি। বাংলাদেশে দিঘি পুকুর জলাশয়ের আধিক্য বেশি তার ভৌগলিক ও সামাজিক কারণে। আবার সাম্প্রতিক সময়ে মৎস্য চাষের জন্য দেশের আনাচে কানাছে গড়ে উঠছে কৃত্রিম জলাশয়। উন্নত দেশগুলির চিত্র ভিন্ন। সেখানে পানিতে ডোবার ঘটনা ঘটে বিনোদনের জন্য ব্যবহৃত সুইমিং পুলে। বাংলাদেশে চিত্র ভিন্নতর এখানে বেশি মৃত্যু ঘটে গ্রামাঞ্চলের পুকুর, ডোবা, নালা, লেক, নদী ও জলাশয়ে। এ ছাড়া নৌযান দুর্ঘটনায় বাংলাদেশে অনেক মৃত্যু ঘটে থাকে। ফিটনেস বিহীন নৌযান ব্যবহার, অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে পারাপার ও খারাপ আবহাওয়া অন্যতম কারণ। শিশুদের উপর নজর না রাখা, সাঁতার না জানা, পুকুর ও জলাশয় সুরক্ষা না করার কারণে পানিতে ডোবার ঝুঁকি বাড়ায়।
গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে সাধারণত এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর এই সময়ে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা বেশি হয়। আবার দুপুরের কাছাকাছি সময়ে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা বেশি। সাধারণত এ সময় মায়েরা সাংসারিক কাজে ব্যস্ত বেশি থাকেন। ফলে এ সময় শিশুরা মায়ের চোখ এড়িয়ে কিছুটা দূরে থাকে। এমন কি গবাদিপশুর খাবার দেওয়ার পাত্রে পড়ে প্রায় সময় শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটে। জরিপে দেখা যায় যে, গ্রামাঞ্চলের এক থেকে চার বছর বয়সী শিশুমৃত্যুর হার কম।
বাংলাদেশে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ মা-বাবাদের অসচেতনতা এবং তা প্রতিরোধে দেশব্যাপী কোন কর্মসূচি নেই। দু-একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পানিতে ডোবা প্রতিরোধ ও সচেতনতামূলক কাজ করলেও তা যথেষ্ট নয়। পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুরোধ করার জন্য দেশব্যাপী যে-কেয়ার সেন্টার বা দিবাযতœ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার আবশ্যকতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ মানুষের জীবন-যাত্রার যতই উন্নত হচ্ছে ততই পরিবারের স্বামী ও স্ত্রী তথা মা-বাবার উভয় এর চাকরি বা পেশা নিয়ে ব্যস্ত হতে হচ্ছে। সামাজিক পরিবর্তন, নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দের জন্য আগামীতে মা-বাবাদের উভয়কে কাজ করতে হবে। তাঁর পাশাপাশি গ্রামে এবং শহরাঞ্চলের বিদ্যালয় ও সামাজিক সংগঠনে সাঁতার শেখা বাধ্যতামূলক করা এখন সময়ের দাবী। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন সর্বোপরী সমাজের সর্বস্তরে জন-সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে বাঁচিয়ে রাখার প্রচেষ্টা মা-বাবাদের করতে হবে। আর তা না হলে জানি অপূরনীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। সাঁতার স্বাস্থ্যরক্ষা ও শারিরীক ব্যায়াম হিসাবে সর্বজন স্বীকৃত। অতএব আসুন আমরা বিনোদন হিসাবে সাঁতার শিখি। সাঁতার শেখার জন্য পাড়ায় পাড়ায় কেন্দ্র ও সুইমিংপুল গড়ে তুলে জাতিকে স্বাস্থ্যবান নাগরিক উপহার দেওয়ার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করি। আমরা কী ভুলে গেছি ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া বাঙালি ব্রজেন দাশের কথা। যিনি দক্ষ সাঁতারু হিসাবে বিশ্বে বাঙালিদের সম্মানিত করেছিলেন।

লেখক : কবি, নিসর্গী ও ব্যাংক নির্বাহী (অব.)