শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত শিক্ষার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে

10

সকল জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ২৭৩০টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি করা হল। এরমধ্যে বৃহত্তর চট্টগ্রামের ১৪৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ সুযোগ লাভ করল। গত বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। আমরা জাতির বিবেক শিক্ষকদের রুজি-রোজগার নিশ্চিত করতে সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। আমরা সরকার প্রধানের এ ঘোষণাকে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বলে মনে করি। এরফলে দীর্ঘদিন ধরে এমপিও থেকে বঞ্চিত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকরা বেতন-ভাতার একটি নিশ্চয়তা পেল। তাদের মানবেতর দিনগুলোর অবসান হবে। একইসাথে আশা করা যায়, শিক্ষার গুণগত মানও বৃদ্ধি পাবে।
আমরা জানি, সদ্য এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের এমপিওভুক্ত করার জন্য আন্দোলন করে আসছিল। রোদ, বৃষ্টি, পুলিশের জোর জবরদস্তি, জলকামান, টিয়ারগ্যাস সব সহ্য করে আন্দোলন করতে হয়েছিল শিক্ষকদের। এমপিওভুক্তির মাধ্যমে তাদের যে আন্দোলন তা সফল হল। বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তাঁর দেয়া প্রতিশ্রæতি তিনি রক্ষা করেছেন। সরকার এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রায় দুই বছর আগে। প্রস্তুতি হিসাবে গত বছর একটি এমপিও নীতিমালাও ঘোষণা করেছিল। কিন্তু নীতিমালার কঠোরতার বেড়াজালে আটকে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যোগ্যতা থাকা সত্তে¡ও এমপিও থেকে বাদ যাবে-এমন শঙ্কায় সরকারের কাছে শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নীতিমালা শিথিল করার আহবান জানালে সরকার তা বিবেচনা করার আশ্বাস দেয়। অবশেষে সরকার এমপিওভুক্তির শর্ত কিছুটা শিথিল করে প্রায় তিন হাজারের কাছাকাছি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি করে । পরিবর্তিত নীতিমালা অনুযায়ী সকল উপজেলায় এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান রাখার পাশাপাশি হাওর, চরাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা, নারী এবং প্রতিবন্ধীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অনগ্রসর এলাকার কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়। আমরা লক্ষ করেছি, নীতিমালা অনুযায়ী সকল যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির আওতায় আনা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সরকারের গবীর মনোযোগ ও তদারকির মাধ্যমে এবার এমপিওভুক্তির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়। ২০১০ সালে ১ হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর এবারই ব্যাপক সংখ্যক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষক-কর্মচারিগণ আত্মতৃপ্তির ডেকুর গিলছেন। তবে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবাণী মনে রাখা বাঞ্চনীয় বলে মনে করি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় যে শর্ত দিয়েছে তা যথাসময়ে পূরণ করতে না পারলে এমপিও প্রত্যাহার করা হবে। একইসাথে শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকদের আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা আহবান জানান। আমরা আশা করি, এমপিও পাওয়া বড় কথা নয়, এমপিও ধরে রাখতে পারাটা বড় কথা । এমপিওভুক্তির মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকার হতে মাসে মূল বেতন ও কিছু ভাতা পাবেন। ফলে তাদের এখন আতিক দুশ্চিন্তার অবসান ঘটবে। শ্রেণিপাঠের প্রতি একাগ্রতা ও শিক্ষার মান উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ পাবেন। আশা করি, এ বিষয়টির প্রতি শিক্ষকসমাজ মনোযোগী হবেন।
উল্লেখ্য যে, এমপিওভুক্তির পর সমগ্র দেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়াল ৩০ হাজারের বেশি। এইগুলিতে শিক্ষক-কর্মচারী আছেন প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষাধিক। এর বাইরে স্বীকৃতি পাওয়া নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে আরো দেড় হাজারের মত। এইগুলিতে শিক্ষক-কর্মচারী ২৫ হতে ৩০ হাজার। স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এইসকল নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘ ১৫-২০ বছর ধরে সরকারি প্রণোদনা ব্যতিরেকেই চাকরি করে আসছেন। আমরা আশা করি, সরকার বাকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও এমপিওর আওতায় নিয়ে আসবে।