শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বিস্তারে নিবেদিত সৈয়দ মো. নুরুল ইসলাম

ইকবাল হোসেন

22

জন্ম থেকে বেড়ে ওঠে প্রতিষ্ঠিত হয়ে পরিবারের উন্নতি ও আত্মীয় স্বজনের সুখ শান্তি স্থাপন করা যে কোন মানুষের উদ্দেশ্যে। এটা স্বাভাবিক জীবনের লক্ষ্য। অশিক্ষিত সমাজকে এগিয়ে আনতে কাজ করেন কম সংখ্যক লোক। আত্মচিন্তা, আত্মকেন্দ্রিকতা ছেড়ে সমাজতান্ত্রিক সাম্য ব্যবস্থা, আধ্যাত্মিক জগৎ, শিক্ষিত সমাজ গড়ে তোলা সকলের পক্ষে সম্ভব নয়। সততা, শিক্ষা, আধ্যত্মবাদ বিকাশে এগিয়ে এসে নিজেকে আত্মোৎসর্গ করেন কম সংখ্যক সমাজ সেবক।
ব্রিটিশ আমলে অনগ্রসর পশ্চাৎপদ মুসলিম সমাজকে আলোর পথে নিয়ে আসতে কঠোর পরিশ্রম করেন অন্যতম নিবেদিত প্রাণ পুরুষ সৈয়দ মো. নুরুল ইসলাম। এ সমাজসেবক ১৯৩৬ সালের ১ নভেম্বর হাটহাজারি থানার ২নং ধলই ইউনিয়নের পশ্চিম ধলই সফি নগর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম মরহুম আবদুল গণি সরকার। কাটির হাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তৎকালিন ইস্টবেঙ্গল সেকেন্ডারি এডুকেশন বোর্ড-ঢাকা থেকে মেট্রিকুলেশন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। পরে কৃতিত্বের সাথে নাজিরহাট কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে সরকারি চাকুরিতে কর্মজীবন শুরু করেন। পূর্ব পাকিস্তান সরকারের সিলেট জেলার জরিপ বিভাগে চাকরি জীবনের সূত্রপাত। সেখানে সুনামের সাথে চাকুরি জীবন শুরু করেন তিনি। ১৯৫৯ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সৈয়দ নুরুল ইসলাম। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার অফিস, সাতকানিয়া, বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, কক্সবাজার, বাঁশখালী, হাটহাজারি, মীরসরাই, স›দ্বীপসহ বিভিন্ন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দায়িত্ব পালন করেন। চাকরির কারণে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে-ফিরে থাকলেও সৈয়দ মো. নুরুল ইসলামের মন ছুটে আসত নিজ উপজেলার স্বগ্রামের শিক্ষা বিস্তার ও ধর্মীয় আধ্যাত্মিক চেতনায় নিজেকে উৎসর্গ করে সমাজসেবায় জড়িয়ে যান। এছাড়াও শিক্ষা বিস্তারে এলাকায় ভূমিকা রাখেন তিনি। পশ্চিম ধলই উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্যতম উদ্যোক্তা এবং আজীবন সদস্য হিসেবে ১৯৮৬ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত অভিভাবক সদস্য ছিলেন। স্কুলের অভিভাবক সদস্য থাকাকালীন এলাকার অনগ্রসর অশিক্ষিত সমাজকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। বিদ্যালয় ছাড়া সহযোগিতার হাত বাড়ান সফিনগর কাটিরহাটে অবস্থিত তাহেরিয়া সাবেরিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসায়। তিনি আওলাদে রাসুল রাহনুমায়ে শরীয়ত ও তরিকত হযরতুল আল্লামা আলহাজ্ব সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ (মা.জি.আ)র একজন মুরিদ। আধ্যাত্মিক জ্ঞান, ধর্মীয় শিক্ষা অর্জনে তিনি কলকাতা, দিল্লি, আজমির শরীফ মাজারসহ দেশে বিদেশের অনেক ধর্মীয় স্থান জেয়ারত করেন। অন্ধত্ব কুসংষ্কারচ্ছন্ন সমাজকে সত্য ও সুন্দরের পথে এগিয়ে আনার ক্ষেত্রে সমাজসেবক সৈয়দ মো. নুরুল ইসলামের অবদান অনস্বীকার্য। তবে প্রচারবিমূখ আলোর দিশারী এই সমাজসেবক ১৯৯৩ সালে চাকরি থেকে অবসর নেন। চাকরি থেকে অবসর নিলেও সমাজ, শিক্ষা, ধর্মীয় আলোর পথে মানুষকে আহবানের কাজে তার অবসর ছিল না।
দেশের বিভিন্ন উপজেলা জেলা এলাকাভিত্তিক মহৎপ্রাণ সমাজকর্মীদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সমাজসেবায় দেশ হয়ে উঠে উন্নত। তাই প্রয়োজন এলাকাভিত্তিক সমাজসেবক, দেশহিতৈষীর। তাদের আদর্শ, শিক্ষা, পথ দেখে নতুন প্রজন্ম দারুনভাবে উপলব্ধি করে। শিক্ষা, আদর্শ, সুন্দর,সৎ, আধ্যাত্মিক সমাজ বিনির্মাণে সৈয়দ মো. নুরুল ইসলাম সমাজের বাতিঘর। এদের আলোয় নতুনভাবে তরুণ সমাজ যদি এগিয়ে চলে তবেই সার্থক হবে এসব কর্মবীরের অনলস সাধনা। এ সমাজসেবী ২০১০ সালের ২৫ নভেম্বর ইহকালের মায়া ছেড়ে যান।