শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে ধোপাছড়ি শীলঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়

চন্দনাইশ প্রতিনিধি

13

যেসব জীবন অন্ধকারে মিলিয়ে যেতে পারত, সেসব জীবন এখন সূর্যের আলোর মতো ঝলমল করছে।
এক সময় যারা অনিশ্চিত এক জীবনের সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল আজ তারাই একেকটি সফল জীবনের উদাহরণ। চন্দনাইশ উপজেলার পাহাড়ী এলাকা ধোপাছড়িতে একমাত্র মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শীলঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ে আসা প্রতিটি শিক্ষার্থীরা জীবনই যেন অন্ধকার থেকে আলোর মুখে যাত্রার কাহিনী।
পাহাড়ের দুর্গম অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে শীলঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের একঝাঁক তরুণ শিক্ষক। ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ে ৩ একর জমির উপর ১তলা বিশিষ্ট ২টি ভবনে পাঠদান করে যাচ্ছেন শিক্ষকেরা। এ এলাকার সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের ২টি টিউবওয়েল, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ৩টি টয়লেট।
বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ নজরুল ইসলাম চৌধুরী এ বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষে চলতি বছর ৩ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৪তলা বিশিষ্ট ১টি ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
বর্তমানে এ ভবনের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। প্রধান শিক্ষক মো. ইসহাক বলেছেন, এ বিদ্যালয়টি দূর্গম পাহাড়ী এলাকা ধোপাছড়ির একমাত্র উচ্চ বিদ্যালয়। ধোপাছড়ির সুবিধা বঞ্চিত গরিব পরিবারের ছেলে মেয়েরা এ বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে।
বর্তমানে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারি বেসরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। তাছাড়া অনেকেই ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছে। দুর্গম পাহাড়ের সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার এক আলোকবর্তিকা হয়ে দেখা দিয়েছে শীলঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের কারণে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুরা উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে চায় না। প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়াও একটা বড়ো বাধা।
বিশেষ করে ত্রিপুরাপাড়া থেকে যে সকল শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসে প্রায় ৮ মাইল পথ হেঁটে। আসা যাওয়া ১৬ মাইল পথ পাড়িদিয়ে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করে পরদিন বিদ্যালয়ে আসা সম্ভব হয়না অনেকের।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে বিদ্যালয়ে শিক্ষাথীরা আর আসতে পারেনা, পাহাড়ী পথ পাড়ি দিয়ে। এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত ৯৬০ শিক্ষার্থীর জন্য ১০জন শিক্ষক পাঠদান করে যাচ্ছেন।
বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে শিক্ষকের ৫টি পদ খালি রয়েছে।
বর্ষা মৌসুমে বা বৃষ্টি হলে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার ১০শতাংশে নেমে আসে। কারণ নদী পারাপার ও কদমাক্ত সড়ক অতিক্রম করে বিদ্যালয়ে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। বিগত ৪৫ বছর ধরে এ বিদ্যালয়টি দূর্গম পাহাড়ী এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে।